ইন্টারপোল প্রধানকে আটকের কথা স্বীকার করেছে চীন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
টাইম নিউজ বিডি,
০৮ অক্টোবর, ২০১৮ ১৪:৪৪:২২
#

সপ্তাহখানেক আগে নিখোঁজ হওয়ার পর আবশেষে আন্তর্জাতকি পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলে'র প্রধান মেং হংউইয়কে আটকের কথা স্বীকার করেছে চীন।


পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি বিরোধী সংস্থা তদন্ত করছে বলে জানায় বেইজিং কর্তৃপক্ষ। এর আগে সংবাদ মাধ্যমগুলো আটকের বিষয় উল্লেখ করলেও এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।


গত ২৫ সেপ্টেম্বর চীনে যাওয়ার পর থেকে নিখোঁজ থাকা এই ইন্টারপোল কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোন আইন ভঙ্গের অভিযোগ আনা হয়েছে তা জানানো হয়নি। ইন্টারপোল জানিয়েছে, রবিবার তাৎক্ষনিকভাবে প্রেসিডেন্টের পদত্যাগপত্র পেয়েছে তারা। চীনা কর্তৃপক্ষের স্বীকারোক্তির কিছুক্ষণের মধ্যেই তার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মেংয়ের স্ত্রী।


ইন্টারপোল এর সদর দফতর ফ্রান্সের লিয়ন শহর থেকে চীনে যাওয়ার পর থেকেই নিখোঁজ ছিলেন মেং। তার স্ত্রী জানান, চীনে যাওয়ার পর থেকে স্বামীর সঙ্গে আর যোগাযোগ করতে পারেননি তিনি। ২০২০ সাল পর্যন্ত মেয়াদে ইন্টারপোলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়া ৬৪ বছরের মেং হংউই চীনের পাবলিক সিকিউরিটি বিষয়ক ভাইস মিনিস্টারও ছিলেন। তার আগে তিনি সেখানে ‘ন্যাশনাল নারকোটিক্স কন্ট্রোল কমিশনের’ ভাইস চেয়ারম্যান ও ‘ন্যাশনাল কাউন্টার টেরোরিজমের’ পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।


চীনে সরকারি কর্মচারীদের দুর্নীতির মামলা পরিচালনা করে দেশটির জাতীয় রক্ষণাবেক্ষণ কমিশন। সংস্থাটি তাদের ওয়েবসাইটে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মেং হংউই তাদের তদন্তের আওতায় রয়েছেন।


গত কয়েক মাসে চীনে বেশ কয়েকজন শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তা, ধনকুবের ব্যবসায়ী এবং সেলিব্রেটি নিখোঁজ হয়েছিলেন। গত জুলাই মাসে নিখোঁজ হওয়া অভিনেতা ফ্যান বিংবিং এই সপ্তাহে প্রকাশ্য বিবৃতি দিয়ে ক্ষমা চেয়ে কর ফাঁকিসহ কয়েকটি অভিযোগে প্রায় ১২ কোটি ৯০ লাখ মার্কিন ডলার জরিমানা দিয়েছেন। এর ধারাবাহিকতায় সর্বশেষ নিখোঁজ হয়েছিলেন ইন্টারপোল প্রধান মেং।


ইন্টারপোলের টুইটারে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তারা তাৎক্ষনিকভাবে মেং হংউইয়ের পদত্যাগপত্র পেয়েছেন। সংস্থার নিজস্ব আইন অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন দক্ষিণ কোরিয়ার নাগরিক ও সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট কিম জং ইয়োং। আগামী মাসে দুবাইতে সংস্থাটির বার্ষিক অধিবেশনে মেং উইয়ের পরবর্তী দুই বছর মেয়াদে দায়িত্ব পালনের জন্য নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করা হবে। ২০১৬ সালের নভেম্বরে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছিলেন মেং।


এর আগে শনিবার এক বিবৃতিতে তাদের প্রেসিডেন্টের বিষয়ে উদ্বেগের কথা জানিয়ে মেং হংউই কোথায় আছে চীনের কর্তৃপক্ষকে তা জানানোর আহ্বান জানায় ইন্টারপোল। তার নিখোঁজের বিষয়ে তদন্ত শুরু করে ফ্রান্স। তবে রবিবার তারাও আর কোনও তথ্য জানায়নি।


চীনের কর্তৃপক্ষ মেং উইয়ের আটকের কথা স্বীকারের কিছুক্ষণের মধ্যেই তার স্ত্রী সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, তিনি বিপদে আছেন বলে আশঙ্কা তার। নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কারণে নিজের পরিচয় প্রকাশ না করে গ্রেস মেং ছদ্মনামে তিনি স্বামীর সন্ধানে সহায়তার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান। মেং হংউই নিখোঁজ হওয়ার দিনের বিষয়ে তিনি বলেন, সেদিন তিনি তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি মেসেজ পাঠিয়ে ‘ফোন কলের জন্য অপেক্ষা’ করতে বলেছিলেন। এরপরই তিনি ছুরির একটি ইমোটিকন পাঠান, যার মাধ্যমে তিনি ধারণা করছেন মেং বিপদে পড়ার বার্তা দিয়েছেন। গ্রেস মেং বলেন, ‘তার সঙ্গে কি ঘটেছে সে বিষয়ে আমি নিশ্চিত নই’। সাংবাদিকদের ক্যামেরার দিকে পেছন ফিরে ইংরেজি ও চীনা ভাষায় লেখা এক বিবৃতি পড়ে শোনান গ্রেস মেং। তাতে তিনি বলেন, ‘সবসময়ই আমাদের হৃদয়ের যোগাযোগ রয়েছে। তিনিই আমাকে এটা করতে সাহায্য করেছেন। এটা ন্যায়বিচার ও স্বচ্ছতার বিষয়। এটার সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় জড়িত। এর সঙ্গে আমার মাতৃভূমির মানুষেরাও জড়িত’।


বিশ্লেষকরা বলছেন, অনেকেই আশঙ্কা করেছিলেন মেংকে বহনকারী বিমান চীনে পৌঁছানোর পরই তাকে আটক করা হয়েছে। চীনের কর্তৃপক্ষের স্বীকারোক্তিতে তা নিশ্চিত করা হলো। বেইজিংয়ের দুর্নীতি বিরোধী সংস্থা মেংকে আটকের স্বীকারোক্তি দেওয়ার অর্থ প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ঘোষিত দুর্নীতি বিরোধী বিস্তৃত এক অভিযানের অংশ হিসেবে তাকে আটক করা হয়েছে। এই অভিযানের কারণে অনেকেই নিখোঁজ রয়েছে বলে ধারণা করা হয়ে থাকে।


প্রথম চীনা নাগরিক হিসেবে ইন্টারপোলের নির্বাহী কমিটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছিলেন মেং হংউই। অপরাধ বিচার ও পুলিশি কার্যক্রমে ৪০ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। মাদক, জঙ্গি বিরোধীতা ও সীমান্ত নিয়ন্ত্রণে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছেন তিনি। তিনি নির্বাচিত হওয়ার পর মানবাধিকার গ্রুপগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছিল এর ফলে দেশ যাওয়া রাজনৈতিক বিরোধীদের হয়রানি করতে পারে চীন।


জেড

Print