রায়কে ঘিরে কোনো নিরাপত্তা হুমকি নেই: ডিএমপি কমিশনার

স্টাফ রিপোর্টার
টাইম নিউজ বিডি,
১০ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০৩:০৬
#

বহুল আলোচিত একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলার মামলায় রায়কে ঘিরে কোনো নিরাপত্তা হুমকি নেই বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া।


রায় ঘিরে কোনো নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার সুযোগ নেই জানিয়ে কমিশনার বলেন, আমাদের নজরদারি অব্যাহত রয়েছে, আমরা সতর্ক রয়েছি যাতে করে কোনো স্বার্থান্বেষী মহল জনগণের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার কোনো অপচেষ্টা করতে না পারে। রায়কে ঘিরে কোনো ধরনের নৈরাজ্য বরদাস্ত করা হবে না বলে জানান তিনি।


মঙ্গলবার বেলা ১১টায় রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ অডিটোরিয়ামে মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষাবৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পুলিশ কমিশনার এসব কথা বলেন।


গ্রেনেড হামলা মামলার রায়কে কেন্দ্র করে শঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই উল্লেখ করে নগরবাসীর উদ্দেশে কমিশনার বলেন, এ রায়কে কেন্দ্র করে নিরাপত্তাজনিত কোনো হুমকি নেই। নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কারণ এটা আদালতের একটা স্বাভাবিক কার্যক্রমের অংশ।


ডিএমপি কমিশনার বলেন, আমরা কোনো রাজনীতি করি না, তবে জনগণের জান-মাল রক্ষা করা আমাদের সাংবিধানিক দায়িত্ব। যদি কেউ দেশের স্বাভাবিক নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার চেষ্টা করে তা হলে তাকে কঠোরভাবে দমন করে আইনের কাঠগড়ায় সোপর্দ করা হবে।


বক্তব্যকালে কমিশনার ২০১৩ ও ১৪ সালের জ্বালাও-পোড়াও, নৈরাজ্যের কথা উল্লেখ করেন। বলেন, ওই সময়ে যে ধরনের সহিংসতা চালানো হয়েছিল সেই দিন শেষ হয়ে গেছে। আবারও একই ধরনের পুনরাবৃত্তির চেষ্টা করলে সেই স্বার্থান্বেষী মহলকে কঠোর হস্তে দমন করা হবে।


কমিশনার রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিষয়ে বলেন, বর্তমানে রাজধানীতে চুরি-ডাকাতি, ছিনতাইসহ সংঘবদ্ধ অপরাধ নেই বললেই চলে। তার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, রাতদিন পুলিশ, ডিবি, কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের সদস্যরা সতর্ক থেকে পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্বপালন করে যাচ্ছেন।


কমিশনার বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন কোনো অপরাধীকে ছাড় দেয়া হবে না। তার নির্দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাচ্ছে পুলিশ।


ঢাকা মহানগর পুলিশ পরিবারের সন্তানদের উচ্চশিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যে মঙ্গলবার ৮৫০ জন মেধাবী শিক্ষার্থীকে ডিএমপির শিক্ষা বৃত্তি দেয়া হয়। গত বছর থেকে এই শিক্ষাবৃত্তি চালু করে ডিএমপি। প্রথম বছরে ছর ৬৫৯ জন মেধাবী শিক্ষার্থীর মাঝে ৩৪ লাখ ৮৯ হাজার টাকা প্রদান করা হয়।


২০১৭ সালের পিইসি, জেএসসি, এসএসসি, এইচএসসি পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করায় ও উচ্চশিক্ষা সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে তিন ক্যাটাগরিতে ৮৫০ জন্য শিক্ষার্থীর মাঝে ৫২ লাখ ৬১ হাজার টাকা শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হয়েছে।


অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিতি ছিলেন পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতির সহসভানেত্রী মিসেস আফরোজা জামান, ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন) মো. শাহাব উদ্দীন কোরেশী, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (সিটিটিসি) মো. মনিরুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মীর রেজাউল আলমসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।


প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডিএমপি কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, সবার প্রচেষ্ঠায় আমরা শিক্ষাবৃত্তি চালু করেছি। এ কৃতিত্ব আমার একার নয়, এ কৃতিত্বের দাবিদার টিম ডিএমপির সবার।


তিনি বলেন, ডিএমপির অধিকাংশ সদস্য নিম্নপদস্থ। তাদের বেতন অনেক কম। এই বেতনে নিজের পরিবারের খরচ মিটিয়ে সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ জোগাতে হিমশিম খেতে হয় তাদের। আমরা জানি তাদের সন্তানেরা অত্যন্ত মেধাবী কিন্তু তাদের আর্থিক সমস্যার কারণে ভালো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে পারে না। তাই তাদের সহায়তা করার জন্য এ শিক্ষাবৃত্তি চালু করা হয়েছে।


কমিশনার বলেন, টাকার অভাবে ডিএমপির কোনো সদস্যের সন্তানের খেলাপড়া বন্ধ হয়ে যাবে এটা আমরা হতে দেব না। শুধুমাত্র শিক্ষাবৃত্তি নয়, যে কোনো বিপদে আমরা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেব।


শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তোমরা মানুষের মতো মানুষ হও। পুলিশ পরিবারের জন্য সম্মান বয়ে আনো। আমাদের মুখ উজ্জ্বল কর। তোমরা বন্ধু নির্বাচনে সতর্ক হও। একটা খারাপ বন্ধু শত শিক্ষার্থীকে নষ্ট করতে পারে। এ প্লাস পাওয়ার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে ভালো মানুষ হওয়া।


এমআর

Print