বিশ্ব মিডিয়ায় ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় রায়

স্টাফ রিপোর্টার
টাইম নিউজ বিডি,
১০ অক্টোবর, ২০১৮ ২৩:১৩:৪৫
#

২০০৪ সালে ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলা মামলার রায় বিশ্ব গণমাধ্যমে ফলাও করে প্রচার করা হয়েছে। আল জাজিরা, রয়টার্স, ওয়াশিংটন পোস্টের  মতো আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মিডিয়া এই ঘটনা নিয়ে রিপোর্টে তুলে ধরেছে। বুধবার বেলা ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করা হয়।


মতিঝিল থানায় করা এই হত্যা মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। এ ছাড়া বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ ১৯ জনের যাবজ্জীবনের আদেশ দেয়া হয়েছে।


আল জাজিরা তাদের অনলাইন সংস্করণে এই সংবাদের শিরোনাম করেছে, ‘২০০৪ সালের হামলার ঘটনায় ১৯ জনকে মৃতুদণ্ড দিল বাংলাদেশর আদালতে’।


আল জাজিরা লিখেছে, ‘কারাবন্দী সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক রহমনাকে এই মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। তারেক বর্তমানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এবং আগে মায়ের সাথে একই দুর্নীতি মামলায় তার ১০ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। ২০০৮ সাল থেকে তারেক লন্ডনে নির্বাসিত জীবন যাপন করছেন।’


আল জাজিরা আরো লিখেছে, ‘বাংলাদেশর আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, তারেকের মৃতুদণ্ড পাওয়ার আশায় সরকার উচ্চ আদালতে আপিল করবে। তিনি বলেন, তারেককে লন্ডন থেকে দেশে ফেরাতেও আমরা কূটননৈতিক পদক্ষেপ নেব।’


আল জাজিরা লিখেছে, ‘এই রায়কে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদীত হিসেবে আখ্যায়িত করেছে বিএনপি’।


যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সংবাদ মাধ্যম এবিসি নিউজ লিখেছে, ১৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড ও বিরোধী দলীয় নেতার উত্তরাধীকারীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে বাংলাদেশের একটি ট্রাইবুনাল। ২০০৪ সালে তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমাবেশে গ্রেনেড হামলার ঘটনায় এই রায় দেয়া হয়েছে।


ডেইলি মেইলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০৪ সালের হামলার ঘটনায় ১৯ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে বাংলাদেশ। একই ধরনের শিরোনাম করেছে ফ্রান্স২৪।


ভারতের এনডিটিভি অনলাইন এ সংক্রান্ত খবরের শিরোনাম করেছে, ‘২০০৪ সালের গ্রেনেড হামলায় সাবেক বাংলাদেশী প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পুত্রের যাবজ্জীবন’।


খবরের শুরুতেই লেখা হয়েছে, ২০০৪ সালের গ্রেনেড হামলার ঘটনায় বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পলাতক পুত্র তারেক রহমানের যাবজ্জীবন ও অন্য ১৯ আসামীর মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে বুধবার একটি আদালত। ওই হামলা ২৪জন নিহত ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আরো ৫০০ জন আহত হয়েছিলেন’।


ওয়াশিংটন পোস্ট শিরোনাম করেছে, ২০০৪ সালে ক্ষমতাসীন নেত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক সমাবেশে হামলার ঘটনায় ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে বাংলাদেশ ট্রাইব্যুনাল। একই ধরনের শিরোনাম করেছে এপি।


রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০৪ সালের বিস্ফোরণ মামলায় বিরোধী দলের প্রধানকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে বাংলাদেশের আদালত।


কলকাতার বাংলা দৈনিক আনন্দবাজার শিরোনাম করেছে, ‘হাসিনার উপর হামলা: মৃত্যুদণ্ড ১৯, খালেদা-পুত্রসহ যাবজ্জীবন ১৭ জনের’।


আনন্দবাজার লিখেছে, ‘২০০৪ সালের ২১ অগস্ট বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের জনসভায় শেখ হাসিনাকে খুনের চেষ্টায় গ্রেনেড হামলা হয়। ওই ঘটনায় প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী, মহিলা আওয়ামী লীগের তদানীন্তন সভানেত্রী আইভি রহমান-সহ ২২ জন মারা যান। গুরুতর জখম হন কয়েকশো। তবে ওই সময় বাংলাদেশের বিরোধী নেত্রী শেখ হাসিনা জখম হলেও, ভাগ্যক্রমে প্রাণে বেঁচে যান।’


সাবেক কেন্দ্রীয় কারাগারের পাশে অবস্থিত ঢাকার ১নং অস্থায়ী দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শাহেদ নুর উদ্দিন বহুল আলোচিত মামলার রায় ঘোষণা করেন।


বুধবার সকালে কারাগার থেকে ৩১ আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। আলোচিত এ মামলায় ৫১১ সাক্ষীর মধ্যে ২২৫ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। এ ছাড়া আরও ২০ জনের সাফাই সাক্ষ্য নেয়া হয়েছে।


এমআর


 


 

Print