রায়ের পর নারায়ণগঞ্জে ককটেল বিস্ফোরণ, আটক ১৩

টাইম ডেস্ক
টাইম নিউজ বিডি,
১১ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:১৪:৪২
#

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায় ঘোষণার পর নারায়ণগঞ্জে কয়েকটি স্থানে অন্তত বিশটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটেছে। বুধবার (১০ অক্টোবর) শহরের গলাচিপা, ফতুল্লার ভুইগড় ও সোনারগাঁয়ের বেশ কয়েকটি স্থানে এই বিস্ফোরণের ঘটানোগুলো ঘটে বলে নিশ্চিত করেছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম।


এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে বিএনপির ও অঙ্গ-সংগঠনের তিন নেতাসহ ১৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ।


বিস্ফোরণের ঘটনাগুলোতে হতাহতের কোন ঘটনা না ঘটলেও সাধারণ মানুষের মধ্যে আতংক ছড়িয়ে পড়েছে।


মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম জানান, নারায়ণগঞ্জ শহরসহ জেলার বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানগুলোতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া নগরীতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়াসহ পুলিশের টহল চলছে।


সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোরশেদ আলম জানান, সোনারগাঁ উপজেলার কাঁচপুর, মোগড়াপাড়া চৌরাস্তাসহ চারটি পয়েন্টে ৮ থেকে ১০ টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় দুর্বৃত্তরা। কাঁচপুর বাস স্ট্যান্ডের সামনে তিনটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায়। এ সময় কাঁচপুর বাসস্ট্যান্ডের সামনে থেকে উপজেলা তাতীদলের সভাপতি ইসমাইল শিকদারকে ককটেলসহ গ্রেফতার করা হয়। মোগড়াপাড়া চৌরাস্তা আইয়ুব প্লাজা মার্কেটের সামনে তিনটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটে। এসময় মার্কেটে আগত ক্রেতা ও রাস্তায় চলাচলকারী পথচারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আইয়ুব প্লাজা মার্কেটের তৃতীয় তলায় বর্তমান জাপা সংসদ সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকার রাজনৈতিক কার্যালয় রয়েছে। তবে ওই সময় সাংসদ তার কার্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন না।


ওসি আরো জানান, ককটেল বিস্ফোরণের পর পুলিশ সাতটি তাজা ককটেলসহ উপজেলা যুবদলের যুগ্মসম্পাদক এনামুল হক রবিন, পিরোজপুর ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্মসম্পাদক নুর নবী মাষ্টার, ও উপজেলা তাতিদলের সভাপতি ইসমাইল শিকদারকে আটক করেছে। তাদের বিরুদ্ধে নাশকতার চেষ্টা ও বিস্ফোরক আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।


এদিকে নগরীরর গলচিপা এলাকার তিন থেকে চারটি স্পটে পাঁচটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটে। গলাচিপা ডিএইচএল শাখা অফিসের পাশের গলির ভেতরে একটি এবং আশেপাশের এলাকায় এই ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।


নারায়ণগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ইসলাম জানান, বেস্ফোরনের খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে কয়েকটি বিস্ফোরিত ককটেলের আলামত জব্দ করেছে।


একই সময়ে ফতুল্লার ভুইগড় এলাকায় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা একটি ঝটিকা মিছিল বের করে কয়েকটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায়। এসময় পুলিশ খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে ধাওয়া দিলে মিছিলকারী ছত্রভঙ্গ হয়ে পালিয়ে যায়।


ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মঞ্জুর কাদের জানান, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে ভুইগড় এলাকায় একটি মিছিল থেকে কয়েকট বিস্ফোরণের ঘটানো হয়েছে। পুলিশ যাওয়ার আগেই মিছিলকারীরা পালিয়ে যায়। এসময় তিন চারটি গাড়ি ভাংচুর করা হয়। এ ঘটনায় চারজনকে আটক করা হয়েছে বলে জানান তিনি।


এসএম

Print