বিক্রি হচ্ছে রোহিঙ্গা মেয়েরা: জাতিসংঘ

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক
টাইম নিউজ বিডি,
১৭ অক্টোবর, ২০১৮ ২৩:৩৭:২০
#

বাংলাদেশের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে শরণার্থী মেয়েদের বিক্রি করে দেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)। 


মঙ্গলবার (১৬ অক্টোবর) জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থা বলছে, বাংলাদেশের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে শরণার্থী মেয়েদের বিক্রি করে দেয়া হচ্ছে। পরিবারের জন্য অর্থ যোগাড় করতে ক্যাম্পের বাইরে বিভিন্ন গোষ্ঠির হাতে এইসব মেয়েদের তুলে দেয়া হয়। পরে বাধ্যতামূলক কাজে নিয়োজিত করা হয় তাদের। খবর রয়টার্স।  


আইওএম জানিয়েছে, ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর পরবর্তী এক বছরে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে ৯৯টি মানব পাচারের ঘটনা চিহ্নিত করতে পেরেছে  তারা। কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, বাস্তবে এর সংখ্যা কয়েকগুণ বেশি হবে।  


পাচার হওয়াদের মধ্যে ৩৫ জন মেয়ে আর ৩১ জন নারী। মেয়েদের ৩১ জন এবং নারীদের ২৬ জনকে বাধ্যতামূলক শ্রমে নিয়োজিত করা হয়। এদের মধ্যে ৪ মেয়ে ও ৫ নারী যৌন নির্যাতনের শিকার হন।  


আইওমের মুখপাত্র দিনা পারমার বলেন, “অনেকের ক্ষেত্রে দেখা যায়, গরীব পরিবারগুলোকে ভাল কাজ দেয়ার লোভ দেখানো হয়। অনেকেই এই ফাঁদ সম্পর্কে কিছু না জেনে রাজি হয়ে যান।”  তিনি আরও জানান, অনেক পরিবার ঝুঁকি বুঝেও রাজি হন। একজনের বিনিময়ে যদি পুরো পরিবারকে ভাল রাখতে চান তারা। 


মানবপাচার বিষয়ে রোহিঙ্গাদের সচেতন করছে বাংলাদেশি দাতব্য সংগঠন ইয়ং পাওয়ার ইন সোশ্যাল অ্যাকশন। সংস্থাটির সদস্য জিশু বড়ুয়া বলেন, “পাচারের শিকার হয়েছেন এমন এক হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গাকে চিহ্নিত করেছি আমরা।”  


আইওমের বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশ সরকার রোহিঙ্গাদের ক্যাম্পের বাইরে যাওয়া বা কাজ করার অনুমতি দেয় না। কিন্তু অভাবের তাড়নায় ক্যাম্পের বাইরে গিয়ে আয় করতে চায় অনেক রোহিঙ্গা। আর এই অবস্থারই সুযোগ নেয় পাচারকারীরা।  


উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও উগ্র-বৌদ্ধরা রোহিঙ্গা মুসলমানদের উপর গণহত্যা-ধর্ষণ ও অগ্নিসংযোগের মত ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হয়ে ৭ লাখের বেশি রোহিঙ্গা ঘরবাড়ি ফেলে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়েছে। নতুন এবং পুরাতন মিলিয়ে ক্যাম্পে বসবাসকারী রোহিঙ্গাদের সংখ্যা এখন প্রায় ১০ লাখের বেশি।


জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী- গত বছরের ২৫ আগস্টের পর থেকে গণহত্যা-ধর্ষণ ও অগ্নিসংযোগের মুখে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয় রোহিঙ্গার সংখ্যা ৬ লাখ ৮০ হাজার।  তাদের মধ্যে ৩০ হাজার অন্তঃসত্ত্বা নারী, ৩৬ হাজার অনাথ এবং ৭ হাজার ৮০০ শিশু, যাদের বাবা ও মা উভয়েই নিখোঁজ।  


এর আগে বিভিন্ন সময় সেনাবাহিনী ও উগ্র-বৌদ্ধদের নির্যাতনে পালিয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়ে আছে ৪ লাখের বেশি রোহিঙ্গা।


আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স এর অনুসন্ধানে গণহত্যারপ্রমানও মিলেছে। তাঁরাবলছে, বর্মী সৈন্যরা গ্রামবাসীদের সাথে নিয়ে রাখাইনের উত্তরাঞ্চলীয় ইন দিন গ্রামে গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর গণহত্যার ঘটনা ঘটেছিলো। এই গ্রামে ১০ জন রোহিঙ্গাকে হত্যার বিষয়ে তাদের দুই সাংবাদিক ওয়া লো এবং চ সো উ-কে সেখানে তথ্য প্রমাণ সংগ্রহ করে।


রয়টার্সের অনুসন্ধানে বলা হয়, ওই গ্রামে অভিযানের সময় রোহিঙ্গা পুরুষদের একটি দল নিজেদের জীবন বাঁচাতে একটি জায়গায় গিয়ে জড়ো হয়। তখন ওই গ্রামের কয়েকজন বৌদ্ধ পুরুষ একটি কবর খনন করার নির্দেশ দেন। তারপর ওই ১০ জন রোহিঙ্গা পুরুষকে হত্যা করা হয়। বৌদ্ধ গ্রামবাসীরা অন্তত দু’জনকে কুপিয়ে এবং বাকিদেরকে সেনাবাহিনী গুলি করে হত্যা করেছে।


এমবি    

Print