আইয়ুব বাচ্চুর মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে

স্টাফ রিপোর্টার
টাইম নিউজ বিডি,
১৯ অক্টোবর, ২০১৮ ১৬:০১:৩৯
#

বাংলা ব্যান্ড সংগীতের কিংবদন্তি শিল্পী আইয়ুব বাচ্চুর মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আনা হয়েছে। সেখানে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে জড়ো হয়েছেন সর্বস্তরের মানুষ।


আজ (১৯ অক্টোবর) শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বাচ্চুর মরদেহ আনার পরপরই সেখানে উপস্থিত হন পরিবারের সদস্য, বন্ধু ও দেশের বিভিন্ন অঙ্গনের তারকারা। গত রাতে মরহুমের লাশ রাখা ছিল স্কয়ার হাসপাতালের হিমঘরে।


শ্রদ্ধা জানানোর পর শিল্পীর মরদেহ জাতীয় ঈদগাহ মাঠে বাদ জুমা জানাজার জন্য আনা হবে।


আইয়ুব বাচ্চু গতকাল (১৮ অক্টোবর) বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে মারা যান।


সঙ্গীত শিল্পী আইয়ুব বাচ্চু দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগে ভুগছিলেন বলে জানিয়ে স্কয়ার হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. মির্জা নাজিম উদ্দিন বলেন, আইয়ুব বাচ্চুর হার্টের কার্যক্ষমতা ছিল ৩০ শতাংশ। নরমালি থাকে ৭০ শতাংশ। উনার ছিল ৩০ শতাংশ। যার জন্য উনি বার বার হাসপাতালে ভর্তি হতেন। সবশেষ তিনি (আইয়ুব বাচ্চু) স্কয়ার হাসপাতালে এসেছিলেন ‘ফুসফুসে পানি নিয়ে’। 


আরও পড়ুন: নিজ গাড়িতে আইয়ুব বাচ্চুর মৃত্যু: চিকিৎসক


২০০৯ সালে তাঁর হার্টে রিং পরানো হয়। দুই সপ্তাহ আগে শেষ তিনি স্কয়ার হাসপাতালে এসেছিলেন।


শিল্পীর ছেলে ও মেয়ে দেশের বাইরে থেকে ঢাকায় ফিরে এলে আগামীকাল চট্টগ্রামে মায়ের পাশে দাফন করা হবে আইয়ুব বাচ্চুকে। 


আইয়ুব বাচ্চু ১৯৬২ সালের ১৬ আগস্ট তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের (বর্তমান বাংলাদেশ) চট্টগ্রাম জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। বাচ্চুর সংগীতজগতে যাত্রা শুরু হয় ১৯৭৮ সালে ‘ফিলিংস’ব্যান্ডের মাধ্যমে। তার কণ্ঠের প্রথম গান- ‘হারানো বিকেলের গল্প’। গানটির কথা লিখেছিলেন শহীদ মাহমুদ জঙ্গী।


১৯৮০ থেকে ১৯৯০ সালে তিনি সোলস ব্যান্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ১৯৮৬ সালে প্রকাশিত ‘রক্তগোলাপ’আইয়ুব বাচ্চুর প্রথম প্রকাশিত একক অ্যালবাম। এই অ্যালবামটি তার জীবনে সফলতা বয়ে না আনলেও ১৯৮৮ সালে তার দ্বিতীয় একক অ্যালবাম ‘ময়না’তার জীবনে সফলতার দ্বার উন্মোচন করে।


১৯৯১ সালে বাচ্চু এলআরবি ব্যান্ড গঠন করে। এই ব্যান্ড গঠনের পর প্রথম অ্যালবাম প্রকাশিত হয় ১৯৯২ সালে। এটি বাংলাদেশের প্রথম দ্বৈত অ্যালবাম। এই অ্যালবামের ‘শেষ চিঠি কেন এমন চিঠি’, ‘ঘুম ভাঙা শহরে’, ‘হকার’গানগুলো জনপ্রিয়তা লাভ করে।


পরবর্তী সময়ে ১৯৯৩ ও ১৯৯৪ সালে তার দ্বিতীয় ও তৃতীয় ব্যান্ড অ্যালবাম ‘সুখ’ও ‘তবুও’বের হয়। ১৯৯৫ সালে তিনি বের করেন তৃতীয় একক অ্যালবাম ‘কষ্ট’। সর্বকালের সেরা একক অ্যালবামের একটি বলে অভিহিত করা হয় এটিকে।  একই বছর তার চতুর্থ ব্যান্ড অ্যালবাম ‘ঘুমন্ত শহরে’প্রকাশিত হয়।


‘অনন্ত প্রেম তুমি দাও আমাকে’তার বাংলা ছবির অন্যতম একটি জনপ্রিয় গান। এটি তার গাওয়া প্রথম চলচ্চিত্রের গান।


২০০৯ সালে তার একক অ্যালবাম বলিনি কখনও প্রকাশিত। ২০১১ সালে এলআরবি ব্যান্ড থেকে বের করেন ব্যান্ড অ্যালবাম যুদ্ধ।  ৬ বছর পর ২০১৫ সালে তার পরবর্তী একক অ্যালবাম জীবনের গল্প বাজারে আসে।


গিটারে তিনি সারা ভারতীয় উপমহাদেশে বিখ্যাত। জিমি হেন্ড্রিক্স ও জো স্যাট্রিয়ানীর বাজনায় তিনি দারুণভাবে অনুপ্রাণিত। ঢাকার মগবাজারে ‘এবি কিচেন’নামে তার নিজস্ব একটি মিউজিক স্টুডিও রয়েছে।


আইয়ুব বাচ্চুর জনপ্রিয় গান ‘হাসতে দেখো গাইতে দেখো’। বাংলাদেশের ব্যান্ড সংগীতে যে কয়েকটি গান তুমুল জনপ্রিয়তা পেয়েছে, তার মধ্যে এই গানটি অন্যতম। লিখেছেন জনপ্রিয় গীতিকবি লতিফুল ইসলাম শিবলী। এছাড়া,‘কষ্ট পেতে ভালোবাসি’‘সেই তুমি’, ‘সে তারা ভরা রাতে’, ‘সুখের পৃথিবী’, ‘হাসতে দেখো গাইতে দেখো’, ‘আমি বারো মাস তোমার আশাই আছি’, ‘মেয়ে’, ‘আম্মাজান’।


এমবি    

Print