অবশেষে জয়ের দেখা রিয়ালের

স্পের্টস ডেস্ক
টাইম নিউজ বিডি,
২৪ অক্টোবর, ২০১৮ ১৪:৫৭:৪৩
#

অবশেষে জয় ফুল ‍ফুটল সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে। ঝরল প্রস্বস্তির বৃষ্টি। সেই বৃষ্টিতে বার্নাব্যুর হতাশার গুমোট পরিবেশটা কিছুটা হলেও হালকা হলো। হতাশার ঘুটঘুটে অন্ধকারে নিমজ্জিত বার্নাব্যুতে আলো ফোটানোর নায়ক করিম বেনজেমা ও মার্সেলো। এই ‍দুজনের গোলেই গতকাল মঙ্গলবার রাতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ভিক্টোরিয়া প্লজেনের বিপক্ষে স্বস্তির এই জয় পেয়েছে রিয়াল। জিতেছে ২-১ গোলে। আর অনেক প্রত্যাশার এই জয়ে আপাতত টিকে গেল কোচ জুলিয়েন লোপেতেুগইয়ের চাকরি!



ঘটনা সত্যিই তাই। টানা ৫ ম্যাচে জয়হীন ছিল। যার ৪টিতেই হার। অন্যটিতে ড্র। বিশ্বসেরা রিয়াল মাদ্রিদের এই পরিসংখান একদমই বেমানান। স্বাভাবিকভাবেই দলের এমন বাজে পারফরম্যান্সে বার্নাব্যুর আকাশটা ঢেকে গিয়েছিল হতাশার অন্ধকারে। ‍সমর্থক থেকে শুরু করে ক্লাব কর্তারা, কেউই দলের এই টানা ব্যর্থতা মেনে নিতে পারছিলেন না।



রিয়ালের উচ্চাবিলাসী সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ ও অন্য পরিচালকরা তাই পাকা সিদ্ধান্তই নিয়ে ফেলেছিলেন, দল আরেকটা ম্যাচে হারলেই ছাটাইয়ের চিঠি ধরিয়ে দেওয়া হবে কোচ লোপেতেগুইয়ের হাতে। তবে ক্লাব কর্তারা, সমর্থকরা চাইলেও রিয়ালের খেলোয়াড়েরা কিছুতেই প্রিয় কোচের ছাটাই চাইছিলেন না। মঙ্গলবার রাতে তাই পণ করেই মাঠে নেমেছিলেন বেনজেমা, মার্সেলোরা-যে করেই হোক জিততে হবে। ম্যাচ জিতে বাঁচাতে হবে কোচের চাকরি।

সেই পণকে মাঠে অনুবাদ করিয়ে দেখিয়েছেন রিয়ালের খেলোয়াড়েরা। বেনজেমা-মার্সেলোরা আপাতত বাঁচিয়ে দিলেন কোচের চাকরি। হ্যাঁ, আপাততই। কারণ, কোচ লোপেতেগুইয়ের ফাড়া এখনো পুরিপুরি কাটেনি। তবে ব্যর্থতার খোলস ছেড়ে জয় আলোর যে পথটা খুঁজে পেল, এটা যদি রিয়াল ধরে রাখতে পারে, সামনে যদি মসৃণভা পথ চলতে পারে, তবে কোচ লোপেতেগুই পাকাভাবে টিকে যাবেন। অন্যথায় তাকে বরখাস্তের শঙ্কা নিয়েই বসবাস কতে হবে। মানসিকভাবে প্রস্তুত প্রস্তুত থাকতে হবে ছাটাইয়ের চিঠির জন্য!



লোপেতেগুইয়ের উপর থেকে ফাড়া যে একেবারে কেটে যায়নি, রিয়ালও যে মসৃণ পথ খুঁজে পায়নি, ২-১ গোলের স্বস্তির এই জয়টিই তার প্রমাণ! টানা ব্যর্থতার পর জয় বলেই রিয়াল এতোটা খুশি। নয়তো ভিক্টোরিয়া প্লজেনের মতো পুচকে এক দলের বিপক্ষে ২-১ গোলের জয় তো দৈত্য রিয়ালের জন্য এক ধরনের বর্থতাই!


চেক প্রজাতন্ত্রের ক্লাবটি বিশ্বসেরা রিয়ালের কাছে স্রেফ খড়কুটোর মতো উড়ে যাওয়ার কথা। সময় ভালো হলে হয়তো তা যেতও। কিন্তু রিয়াল দুঃসময়ে যাত্রী বলেই ভিক্টোরিয়া প্লজেনের মতো দলও বার্নাব্যুতে এসে চোখ রাঙিয়ে গেল! হারলেও শেষ পর্ন্ত হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করে গেল। দুই গোলে পিছিয়ে পড়ার পরও দেখাতে পারল ঘুরে দাঁড়ানোর সাহস।



যাই হোক, শেষ পর্ন্ত জয় ধরা দিয়েছে, এতেই বার্নাব্যুতে প্রশান্তির বৃষ্টি। ম্যাচের ১১ মিনিটেই হতাশার অন্ধকার দূর করে বার্নাব্যুকে নাচিয়ে তোলেন করিম বেনজেমা। এই ১ গোলের লিড নিয়েই বিরতিতে যায় রিয়াল। এরপর ৫৬ মিনিটে দলের দ্বিতীয় গোলটি করেন ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার মার্সেলো।


২-০তে পিছিয়ে পড়েও হতাশায় ভেঙে পড়েনি ভিক্টোরিয়া প্লজেন। চেক ক্লাবটি বরং উজ্জীবিত হয়েই লড়ে যায় ম্যাচে ফেরার জন্য। মিনিটে গোল করে ভিক্টোরিয়াকে ম্যাচে ফিরিয়েও ছিলেন রসোভস্কি। কিন্তু সমতাসূচক গোল আর করতে পারেনি। রিয়াল তাই মাঠ ছাড়তে পেরেছে গুমোট দূর করা জয় নিয়ে।


এসএম

Print