৫২ কোটি টাকা ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগ এসআইবিএল-এর বিরুদ্ধে

টাইম ডেস্ক
টাইম নিউজ বিডি,
২৬ অক্টোবর, ২০১৮ ১৪:৩৯:৩৮
#

প্রায় ৫২ কোটি টাকা ভ্যাট ফাঁকি দিয়েছে বেসরকারি সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক এসআইবিএল। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।


সম্প্রতি প্রতিবেদনটি এনবিআরের নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর, মূল্য সংযোজন কর-এর মহাপরিচালকের কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে।


সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ের তথ্য উপাত্তের ওপর ভিত্তি করে নিরীক্ষা চালিয়ে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।


নিরীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিরীক্ষা মেয়াদের বার্ষিক অডিট রিপোর্ট পর্যালোচনা করে ব্যাংকিং খাতের আয়, অব্যাহতি প্রাপ্ত আয়, বাড়িভাড়া ও উৎসে কর্তিত খাত সমূহের পরিহার করা মূসক ফাঁকি দেওয়া হয়েছে ৫ কোটি ৬৪ লাখ ৭৪ হাজার ৮২৬ টাকা।


এছাড়া পরিহারকৃত মূসকের (ভ্যাটের) টাকা সঠিক সময়ে পরিশোধ না করায় সুদ বাবদ (সাময়িক গণনা) হয়েছে আরও ২ কোটি ৯৫ লাখ ২ হাজার ৭৯৬ টাকা। অপরদিকে এক্সচেঞ্জ ইনকামের ওপর অপরিশোধিত মূসক (ভ্যাট) ফাঁকি দেওয়া হয়েছে ২৯ কোটি ৫৭ লাখ ৮৫ হাজার ৩৯৪ টাকা। এর সঙ্গে অপরিশোধিত মূসকের বিপরীতে সুদ বাবদ (সাময়িক গণনা) ১৩ কোটি ৭১ লাখ ১৭ হাজার ১১৮ টাকা।


নিরীক্ষা প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংকটি মোট প্রায় ৫১ কোটি ৮৮ লাখ টাকা ভ্যাট ফাঁকি দিয়েছে।


জানা গেছে, এই বছরের ২২ মার্চ এনবিআরের নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর, মূল্য সংযোজন কর-এর মহাপরিচালকের কক্ষে ব্যাংকটির সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড সিএফও ওয়ালিদ মাহমুদ সোবহানীর মতামত নিয়ে এনবিআর প্রতিবেদন তৈরি করেছে।


ভ্যাট ফাঁকির বিষয়ে জানতে সোস্যাল ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী ওসমান আলীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।


তবে ব্যাংকটির শীর্ষ পর্যায়ের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, ভ্যাট ফাঁকির বিষয়ে মিটমাট করার জন্য এনবিআরের সঙ্গে আলোচনা হচ্ছে। আশা করা যায়, অচিরেই সমাধান হয়ে যাবে।


এনবিআরের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, নিরীক্ষা মেয়াদের দাখিলপত্র পর্যালোচনায় প্রদেয় মূসক (ভ্যাট) এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রাজস্ব জমার ট্রেজারি চালানের তথ্যের মধ্যে গড়মিল রয়েছে।


এ প্রসঙ্গে এলটিইউ-এর এক কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানটি পরিদর্শন ও পরবর্তীতে দাখিলপত্র যাচাই করে ফাঁকি উদঘাটন করা হয়েছে।’


এনবিআরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মূল্য সংযোজন আইন ১৯৯১ এর ধারা ২৬ (ক) এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাধারণ আদেশ নম্বর ১৪/মূসক/২০১৫ তারিখ ৩০.০৬.২০১৫ এর নির্দেশনা মোতাবেক নিরীক্ষা কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে।


এনবিআরের নিরীক্ষা প্রতিবেদন তৈরির সময়ে ব্যাংকটির অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ সাফায়েত হোসেনের সার্বিক সহযোগিতায় ব্যাংকটির বার্ষিক প্রতিবেদনের বিভিন্ন অনুচ্ছেদে উল্লেখিত তথ্যের সঙ্গে মাসিক দাখিলপত্রের তথ্য এবং আবগারী কর, উৎসে কর আদায় ও পরিশোধের তথ্য আড়াআড়িভাবে যাচাই/পর্যালোচনা করা হয়।


প্রসঙ্গত, ব্যাংকটির সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড সিএফও ওয়ালিদ মাহমুদ সোবহানী এবং ব্যাংকটির অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ সাফায়েত হোসেন স্বাক্ষরিত এবং দাখিলকৃত দলিলাদি, বিবরণী, মাসিক দাখিলপত্র (মূসক-১৯) সিএ ফার্ম কর্তৃক প্রত্যায়িত বার্ষিক প্রতিবেদনের (অ্যানুয়াল রিপোর্ট) ভিত্তিতে যাচাই/পরীক্ষা করে প্রাপ্ত তথ্য উপাত্তের ভিত্তিকে ভ্যঅট ফাঁকির প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।


প্রতিবেদনের মতামত তুলে ধরে বলা হয়েছে, সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক যাতে প্রতি মাসের সব আয় ও ক্রয়ের ওপর প্রযোজ্য মূসক পরিশোধ করে তা নিশ্চিত করার জন্য স্থানীয় মূসক কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করা যেতে পারে। এছাড়া ব্যাংকটিকে নিয়মিত নিরীক্ষার আওতায় আনা যেতে পারে।


জেড

Print