মুহূর্তেই বদলে গেল নিত্যপণ্যের দাম

টাইম ডেস্ক
টাইম নিউজ বিডি,
২৯ অক্টোবর, ২০১৮ ১৭:২১:২৬
#

দেশজুড়ে চলছে মালিক-শ্রমিকদের ৪৮ ঘণ্টার পরিবহন ধর্মঘট। সদ্য পাস হওয়া সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ এর কয়েকটি ধারা সংশোধনসহ আট দফা দাবি আদায়ে এ ধর্মঘট চলছে।


এতে সড়কে সাধারণ মানুষ পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে। বাদ পড়েনি কাঁচাবাজারও। তবে পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকার পরও কারসাজি করছে ব্যবসায়ীরা। তারা পরিবহন ধর্মঘটের অজুহাতে এক দিনে বাড়িয়েছে পেঁয়াজ, শাকসবজি, মাছ-মাংসসহ নিত্যপণ্যের দাম।


বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পরিবহন ধর্মঘটের অজুহাতে ধর্মঘট শুরু হতে না হতেই নিত্যপণ্যের দাম বাড়াল ব্যবসায়ীরা। তাদের এ অজুহাত অযৌক্তিক। কারণ রোববার সকাল ৬টা থেকে ধর্মঘট শুরু হয়েছে। কিন্তু খাদ্যপণ্য বাজারে যা আসার শনিবার মধ্যরাত বা বোববার সকালের মধ্যে রাজধানীর পাইকারি বাজারে এসে গেছে। তবুও ব্যবসায়ীরা ধর্মঘটের অজুহাত দেখিয়ে ভোক্তার পকেট কাটছে।


এজন্য সংশ্লিষ্টদের দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। তা না হলে ব্যবসায়ীরা ধর্মঘটের অজুহাত দেখিয়ে ভোক্তাদের জিম্মি করে ফেলবে। রোববার রাজধানীর কারওয়ান বাজার, শান্তিনগর কাঁচাবাজার, মালিবাগ বাজার, নয়াবাজার ঘুরে দেখা গেছে, এসব বাজারে বড় আকারের প্রতি কেজি শিম বিক্রি হচ্ছে ১৫০-১৬০ টাকা, যা একদিন আগে বিক্রি হয়েছে ১২০ টাকা।


এক দিনের ব্যবধানে ২০ টাকা বেড়ে লাল টমেটো বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়। কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে গাজর বিক্রি হচ্ছে ৯০-১০০ টাকা। প্রতি কেজি ঢেঁড়স বিক্রি হচ্ছে ৬০-৬৫ টাকা, যা একদিন আগে বিক্রি হয় ৫৫ টাকা কেজি। ৫৫-৬০ টাকা কেজির বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৮০-১০০ টাকায়। আর মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে আদা ও দেশি পেঁয়াজের দামও বেড়েছে।


শনিবার মান ভেদে যে আদা বিক্রি হয় ১০০-১৫০ টাকা কেজি, সে আদা রোববার বিক্রি হয়েছে ১৪০-১৮০ টাকায়। আর দেশি পেঁয়াজে কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৫০-৫৫ টাকা।


কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান রোববার বলেন, পরিবহন মালিক শ্রমিকদের ধর্মঘটের কারণে মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে পণ্যের দাম বৃদ্ধি অযৌক্তিক। এ বিষয়ে সরকারকে বাজার মনিটরিং সমন্বিতভাবে করতে হবে।


এক্ষেত্রে যাতে কেউ অযৌক্তিক দাম নিতে না পারে, সে বিষয়ে লক্ষ্য রাখতে হবে। তিনি আরও বলেন, মালিক-শ্রমিকদের এ ধর্মঘটের কোনো যৌক্তিকতা নেই। কারণ সরকার সাধারণ মানুষ ও গাড়িচালকদের সব কিছু বিবেচনা করে নিরাপদ সড়ক আইন পাস করেছে।


এ কারণে মালিক-শ্রমিকদের এ অপ্রত্যাশিত ধর্মঘট প্রত্যাহর করা উচিত। এ ছাড়া ৫ থেকে ১০ টাকা বেড়ে প্রতি পিস বাঁধাকপি বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা, ফুলকপি ৬০-৭০ টাকা, লাউ ৫০-৬০ টাকা, জালি কুমড়া ৪০ টাকায়। আর ৫ টাকা বেড়ে প্রতি আঁটি কলমি শাক বিক্রি হচ্ছে ১৫ টাকা, লাল শাক ২০ টাকা, লাউ শাক ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, পালং শাক ২৫ থেকে ৩০ টাকা, পুঁই শাক ২৫ থেকে ৩০ টাকা।


কারওয়ান বাজারের সবজি বিক্রেতা সোনাই আলী বলেন, সকাল থেকেই পাইকারি বাজারে সবজির দাম চড়া। তবে সরবরাহ পর্যাপ্ত। পাইকারি বিক্রেতারা বলছেন, ধর্মঘটের কারণে মালামাল আসতে পারেনি। যা এসেছে তাতে খরচ বেশি লেগেছে, তাই দাম বেশি।


এ অস্বাভাবিক দাম বাড়ার পেছনে খুচরা বিক্রেতাদের কোনো হাত নেই। পাইকারি বাজার থেকে বেশি দামে এনে বেশি দামে বিক্রি করতে হয়। রাজধানীর বাজারগুলোতে মাছের দামও বেড়েছে। একদিনের ব্যবধানে মাছ ভেদে কেজিতে দাম বেড়েছে ৩০-৫০ টাকা। রোববার প্রতি কেজি পাঙ্গাস বিক্রি হয় ১৪০-১৭০ টাকা, যা একদিন আগেও বিক্রি হয়েছে ১২০-১৪০ টাকা। প্রতি কেজি তেলাপিয়া মাছে ৩০ টাকা বেড়ে বিক্রি হয়েছে ১২০-১৫০ টাকা। কৈ মাছ কেজিতে ৫০ টাকা বেড়ে বিক্রি হয়েছে ২০০ টাকা।


এছাড়া টেংরা মাছ বিক্রি হয়েছে ৫০০-৮০০ টাকা কেজি। শিং মাছ ৫০০-৮০০ টাকা কেজি, দেশি মাগুর ৬০০-৮০০ টাকা, পাবদা ৪৫০-৬০০ টাকা কেজি। গরুর মাংসের দাম না বাড়লেও ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হয়েছে ১৪০-১৫০ টাকা।


রাজধানীর নয়াবাজারে নিত্যপণ্য কিনতে আসা জিল্লুর রহমান বলেন, এক দিনের ব্যবধানে পণ্যের দাম কখনই বাড়তে পারে না। সকাল ৬টা থেকে ধর্মঘট শুরু হয়েছে। আর নিত্যপণ্য যা রাজধানীতে আসবে সেগুলো আগের দিন রাতের মধ্যেই এসেছে। তবুও কেন এ দাম বাড়তি। এটা ব্যবসায়ীদের অজুহাত। অবশ্যই এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের নজর দিতে হবে।


জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার বলেন, এক দিনের ব্যবধানে দাম বাড়ার এ চিত্র অযৌক্তিক। তবে অধিদফতরের পক্ষ থেকে একাধিক তদারকি টিম বাজারে আছে। কী কারণে দাম বাড়ল তা খতিয়ে দেখে দোষী ব্যবসায়ীদের ভোক্তা আইনে শাস্তির আওতায় আনা হবে। সূত্র: যুগান্তর।


এসএম

Print