সংঘাতের দায়ভার সরকারকেই নিতে হবে: ড. কামাল

স্টাফ রিপোর্টার
টাইম নিউজ বিডি,
০৭ নভেম্বর, ২০১৮ ২৩:১০:৩০
#

শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান চাই। তা না হলে পরিস্থিতি সংঘাতের দিকে গেলে এর দায়ভার সরকারকেই নিতে হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন। তিনি বলেন,  “বল এখন সরকারের কোর্টে। দাবি না মানলে পরিস্থিতির দায় সরকারকে নিতে হবে।”


আজ (০৭ নভেম্বর) বুধবার গণভবনে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সংলাপের পর বেইলি রোডে গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের বাসভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এইসব কথা বলেন।


এসময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।  বেইলি রোডে ড. কামাল হোসেনের বাসায় সংলাপ পরবর্তী ওই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।


ড. কামাল হোসেন বলেন, “৭ দফার ব্যাপারে আজকের সংলাপে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি, তবে এই ব্যাপারে সীমিত পরিসরে আরো আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।”


জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক  বলেন, “আমরা শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান চাই। তা না হলে পরিস্থিতি সংঘাতের দিকে গেলে এর দায়ভার সরকারকেই নিতে হবে।” তিনি আরও বলেন, “আমরা আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করছি। কিন্তু দাবি না মানলে রাজনৈতিক পরিস্থিতি সংঘাতের দিকে গেলে সরকারকে দায় নিতে হবে।”


ড. কামাল বলেন, “ইতিমধ্যে সারা দেশে হাজার হাজার রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে যেসব মিথ্যা ও গায়েবি মামলা দায়ের করা হয়েছে। যেসব মিথ্যা ও গায়েবি মামলা দায়ের করা হয়েছে সেগুলো প্রত্যাহার এবং ভবিষ্যতে আর কোনো গায়েবি মামলা হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করা যাবে না।”


এই সংবিধান প্রণেতা বলেন, “জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতাকর্মীদের আর গ্রেফতার করা হবে না বলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংলাপে আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন।”


সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, “আগামীকাল রাজশাহী অভিমুখে আনাদের লংমার্চ অব্যাহত থাকবে। ঘোষিত কর্মসূচি পালন করা হবে।”


মির্জা ফখরুল বলেন, “নির্বাচনকালীন সরকারের দাবি যদি সরকার না মানে, আমরা আন্দোলনের মাধ্যমে আদায় করবো।” বিএনপির মহাসচিব বলেন “আমরা বিশ্বাস করি, আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হওয়া উচিত। কিন্তু সরকার যদি সে পথে না আসে, সরকার যদি আলোচনার মাধ্যমে একটা জায়গা পৌঁছাতে চায়, তাহলে তার দায়দায়িত্ব সরকারের ওপরই বর্তাবে।”


এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, “আমরা প্রস্তাব করেছি যে, এ বিষয়ে আরও আলোচনা  চালিয়ে যেতে চাই। সরকার বলেছে, তফসিল ঘোষণার সঙ্গে এই আলোচনার কোনও সম্পর্ক থাকবে না। প্রয়োজনে তফসিল রি-সিডিউলও করা যেতে পারে।”


এসময় নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, “তফসিল ঘোষণা করতে আমরা মানা করেছি। এরপরও যদি তারা করে, নিশ্চয় আমরা পছন্দ করবো না। তাহলে নির্বাচন কমিশন অভিমুখে পদযাত্রা শুরু করবো। আমরা আমাদের মতো করে বলেছি, তফসিল রি-সিডিউল করা যেতে পারে। আমরা সেই দাবিই তুলেছি।”


সংলাপ ফলপ্রসূ হয়েছে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, “ফলপ্রসূ হলো কিনা, তা তো আলোচনা শেষে বোঝা যাবে। আলোচনা তো অব্যাহত আছে।”


সংলাপে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট আশার আলো দেখছে কিনা-জানতে চাইলে তিনি বলেন, জনগণ যদি দেখে, তাহলে আশার আলো দেখা হবে। কাল আমরা রোডমার্চ করে রাজশাহী যাচ্ছি, পরশু সেখানে জনসভা করবো।”


ঐক্যফ্রন্টে ৭ দফা দাবির কয়টি সরকার মেনে নিয়েছে? এমন প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “আমরা পুরোটাই বিবেচনা করবো। যখন পুরো বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে, তখন আপনাদের জানাবো।”


খালেদা জিয়ার কারামুক্তি প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, “খালেদা জিয়ার মুক্তির ব্যাপারে অবশ্যই আলোচনা হয়েছে। সে ব্যাপারে আমরা বলেছি, তিনি তো আইনগতভাবেই জামিনে মুক্তি পাওয়ার যোগ্য।”


নির্বাচনকালীন সরকার প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, “এই বিষয়টা আমরা বলেছি।  আমরা যেহেতু বলেছি সংসদ ভেঙে দিতে হবে, তো সংসদ ভেঙে দেওয়ার ৯০ দিন পরেই তো নির্বাচন হবে।”


তিনি বলেন,  “সংসদ ভেঙে দেওয়াটা সংবিধানের অন্তর্গত। এখনই আমাদের সংবিধানে আছে, একইসঙ্গে দু’টি সংসদ থাকবে, এটা তো কোনও নিয়ম হতে পারে না। তারা যদি বলেন- সংসদ ভেঙে দেওয়া সম্ভব না, তাহলে তারা ভুল বলেছেন। সাংবিধানিকভাবেই আমরা প্রস্তাব করেছি। সেক্ষেত্রে সংসদ ভেঙে দেওয়ার ৯০ দিন পরেই নির্বাচন হতে হবে। এটাই কথা।”


এমবি 

Print