শেখ হাসিনাকে আদালতে হাজির করানোর প্রশ্নই ওঠে না: খালেদা জিয়াকে বিচারক

স্টাফ রিপোর্টার
টাইম নিউজ বিডি,
০৮ নভেম্বর, ২০১৮ ২২:৫২:৪৯
#

নাইকো দুর্নীতি মামলার অভিযোগ গঠনের আংশিক শুনানি শেষে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে আদালত থেকে ফের কারাগারে নেওয়া হয়েছে। অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য পরবর্তী তারিখ ১৪ নভেম্বর নির্ধারণ করেছে আদালত।


আজ (০৮ নভেম্বর) বৃহস্পতিবার পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থাপিত বিশেষ জজ আদালত-৯-এ এই অভিযোগ গঠনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে বিএসএমএমইউ হাসপাতাল থেকেখালেদা জিয়াকে কারাগারে আনা হয়।


নাইকো দুর্নীতি মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানিতে আদালতে হাজির হয়ে বেগম খালেদা জিয়া বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আদালতে হাজির করার দাবি জানিয়েছেন।


শুনানিতে আজ (০৮ নভেম্বর) খালেদা জিয়া বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রীও নাইকো দুর্নীতি মামলায় আসামি ছিলেন। কাজেই তাঁকেও এখানে হাজির করা উচিত।


এসময় বিচারক বলেন,“প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই মামলার আসামি নন। কাজেই তাঁকে এখানে হাজির করানোর কোনো প্রশ্ন ওঠে না।”


বেগম খালেদা জিয়া এসময় আদালতকে বলেন, “আমি অসুস্থ, হুইল চেয়ারে বসে থাকতে পারছি না।”


বেলা ১১:৪০ মিনিটে শুরু হয়ে বেলা সোয়া একটা পর্যন্ত আদালতে শুনানি চলে। আদালতে খালেদা জিয়াকে হুইল চেয়ারে বসিয়ে উপস্থিত করা হয়।


এরপর এই মামলার অন্যতম আসামি ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানিতে আত্মপক্ষ সমর্থন করে বক্তব্য দেন। প্রথমে মওদুদ আহমদ আজ শুনানি না করার জন্য আদালতে একটি দরখাস্ত দেন। কিন্তু আদালত সে দরখাস্ত নামঞ্জুর করে তাঁকে শুনানিতে অংশ নিতে নির্দেশ দিলে মওদুদ আহমদ নিজের পক্ষে নিজেই শুনানিতে অংশ নেন।


শুনানিতে খালেদা জিয়ার পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া ও অ্যাডভোকেট আখতারুজ্জামান। অন্যদিকে রাষ্টপক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর মোশাররফ হোসেন কাজল। মামলার অন্য আসামী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ নিজের পক্ষে নিজেই শুনানি করেন।


উল্লেখ্য, গত ৮ ফেব্রুয়ারি দুদকের দায়ের করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়াকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ -এর বিচারক ড. আখতারুজ্জামান। একই সঙ্গে তার বড় ছেলে তারেক রহমানসহ ৫ আসামিকে ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং প্রত্যেকের ২ কোটি ১০ লাখ টাকা করে জরিমানা করে রায় ঘোষণা করেন আদালত।


রায়ের পর থেকেই একমাত্র বন্দ হিসেবে বেগম খালেদা জিয়া রাজধানীর নাজিমুদ্দিন রোডের পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারে সাজা ভোগ করেন।  সেখান থেকে গত ০৬ অক্টোবর চিকিৎসার জন্য বিএসএমএমইউতে আনা হয় সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে।  


এরমধ্যে আবার চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ২৯ অক্টোবর খালেদা জিয়াকে ৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এতোদিন বিএনপি চেয়ারপারসন বিএসএমএমইউ হাসপাতালের ভিআইপি কেবিনে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন।  


এমবি

Print