চাহিদার ৭৩% দেশেই উৎপাদন হয়: পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণ করে ভারত

টাইম ডেস্ক
টাইম নিউজ বিডি,
১২ নভেম্বর, ২০১৮ ২২:৪১:৪৮
#

পেঁয়াজের উৎপাদন দেশে ৭৩ শতাংশ হলেও দামের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে ভারতের হাতে। ঘাটতি পূরণে বাকি ২৭ শতাংশ আমদানি করা হয়। মোট আমদানির ৭৯ দশমিক ৬৫ শতাংশই আসে ভারত থেকে।


এ কারণে ভারতে উৎপাদন কম হওয়া, শুল্কারোপ, বন্দরের জটিলতার কারণে বাংলাদেশে দ্রুত দাম বেড়েছে যায়। তাছাড়া উৎসবভিত্তিক চাহিদা বৃদ্ধিও হঠাৎ পেঁয়াজের দাম বাড়ার অন্যতম কারণ।


বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) দুই দিনব্যাপী বার্ষিক গবেষণা সম্মেলনের উদ্বোধনী দিন রোববার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। রাজধানীর গুলশানে লেকশোর হোটেলে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।


পেঁয়াজ নিয়ে ‘অ্যাসেজিং কম্পিটিশন ইন অনিয়ন মার্কেট অব বাংলাদেশ’ শীর্ষক গবেষণাটি করেছেন নাজনীন আহমেদ ও মাইনুল হক।


এতে বলা হয়েছে, ভারতের পর চীন থেকে আনা হয় মোট আমদানির ১৯ দশমিক ৭৫ শতাংশ এবং খুব সামান্য আসে অস্ট্রেলিয়া, মিয়ানমার, পাকিস্তান, সিঙ্গাপুর ও অন্যান্য দেশ থেকে।


পাশাপাশি দেশি পেঁয়াজের একটি বড় অংশই জোগান দিচ্ছে পাবনা, ফরিদপুর এবং রাজবাড়ী জেলা। পেঁয়াজের মোট সরবরাহের ৭২ দশমিক ৬৯ শতাংশ আসে দেশীয় উৎপাদন থেকে। ২৭ দশমিক ৩১ শতাংশ আসে আমদানির মাধ্যমে। ২০১৫-১৬ সালের হিসাব অনুযায়ী দেশে পাবনায় পেঁয়াজ উৎপাদন হয় ২৩ দশমিক ৯ শতাংশ, ফরিদপুরে ১৬ দশমিক ৭ শতাংশ এবং রাজবাড়ীতে ১৩ দশমিক ১ শতাংশ।


এছাড়া পর্যায়ক্রমে রাজশাহী, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, মাগুরা, ঝিনাইদহ, মানিকগঞ্জ এবং মাদারীপুরেও কিছু কিছু পেঁয়াজ উৎপাদন হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যারা পেঁয়াজ উৎপাদন করেন, তারা ১০০ টাকার পেঁয়াজ বিক্রি করলে পান ৪৩ দশমিক ৯ টাকা।


অন্যদিকে কমিশন এজেন্ট, আড়তদার পান ৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ অর্থ, বেপারি ফড়িয়া পান ৭ দশমিক ১ শতাংশ, পাইকাররা পান ৮ দশমিক ১৯ শতাংশ এবং খুচরা বিক্রেতারা পান ৬ দশমিক ২৫ শতাংশ। গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশে পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধির আরও একটি কারণ হচ্ছে উৎসব। যে কোনো উৎসব হলেই দ্রুত দাম বেড়ে যায়।


তাছাড়া বন্দরগুলোয় যখন কোনো জটিলতা সৃষ্টি হয়, তখন কয়েকদিন সেখানে আটকা থাকলে পেঁয়াজের ওজন কমে যায়। ফলে আমদানিকারকরা দাম বাড়িয়ে এই লোকসান পোষাতে চেষ্টা করেন।


প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়েছে, পেঁয়াজের বাণিজ্যকে কেন্দ্র করে বেশ কয়েক ধরনের দালাল ও মধ্যস্বত্বভোগী গড়ে উঠেছে। উৎপাদন এলাকায় গড়ে উঠেছে পেঁয়াজের এক শ্রেণীর দালাল।


আবার উৎপাদন কম হলেও বেশি চাহিদা রয়েছে- এমন এলাকায়ও রয়েছে দালাল শ্রেণী। আন্তর্জাতিক বাজার থেকে গ্রাহকের ঘরে পেঁয়াজ পৌঁছাতে আমদানিকারক ছাড়াও আরও কয়েক দফায় হাতবদল হয় পণ্যটির।


ফরিদপুর জেলার পেঁয়াজ ভোক্তা পর্যায়ে আসতে হাতবদলের একটি চিত্র দেখানো হয়েছে গবেষণায়। এতে বলা হয়েছে, উৎপাদক থেকে পেঁয়াজ চলে যায় ফড়িয়াদের হাতে। সেখান থেকে যায় বেপারিদের কাছে।


বেপারিরা একই জেলায় বা অন্য জেলার বেপারি বা কমিশন এজেন্টদের কাছে পাঠিয়ে দেন পণ্যটি। আমদানিকারকদের পেঁয়াজও চলে যায় কমিশন এজেন্টের হাতে। কমিশন এজেন্টের পেঁয়াজ পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতাদের হাত ঘুরে যায় ভোক্তাদের কাছে। ঢাকার শ্যামবাজার, কারওয়ান বাজার ও মৌলভীবাজারে বেপারি ও কমিশন এজেন্টদের মধ্যে পেঁয়াজ হাতবদল হয় কয়েক দফায়।


সম্মেলনের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিকবিষয়ক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান। বিআইডিএসের মহাপরিচালক কেএএস মুর্শিদের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব বেগম কাজল ইসলাম।


মসিউর রহমান বলেন, দেশে নারীর ক্ষমতায়ন হচ্ছে। দেশ আর্থসামাজিক ক্ষেত্রে ব্যাপক এগিয়ে যাচ্ছে। এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে হবে। এজন্য গবেষণার বিকল্প নেই।


বর্গাচাষীরা কৃষি উৎপাদনে দক্ষতার পরিচয় দিচ্ছে : সম্মেলনে ‘দ্য রাইজ অব ল্যান্ডলেস টেনেনসি ইন রুরাল বাংলাদেশ : অ্যানালাইসিস অব দ্য রিসেন্ট এভিডেন্স’ শীর্ষক অপর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কৃষিতে বর্গাচাষীদের অবদান বাড়ছে। অন্যদিকে বর্গাচাষে অবদান বাড়ছে ভূমিহীন মানুষের। গবেষণাটি উপস্থাপন করেন বিআইডিএসের গবেষণা পরিচালাক বিনায়ক সেন।


তিনি বলেন, ১৯৮৮ সালে চাষযোগ্য জমির ২৩ দশমিক ৪ শতাংশ বর্গচাষ হতো। ২০১৪ সালে দাঁড়িয়েছে ৪৭ দশমিক ৫ শতাংশে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক অর্থনীতির মতে বর্গাচাষের কারণে চাষী অদক্ষ হন। কিন্তু বাংলাদেশে সেটা হয়নি। এদেশে বর্গাচাষীরা অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গেই কৃষিকাজ পরিচালনা করছেন।


মহিষের চেয়ে গরু পালনে লাভ বেশি : ‘হোয়াই ডু বাংলাদেশি ক্যাটল ইয়েল্ড হাই পজেটিভ রিটার্ন’ শীর্ষক অপর এক গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন কাজী আলী তৌফিক, কাজী ইকবাল এবং ওয়াহিদ ফেরদৌস ইবন।


গবেষণায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে মহিষের তুলনায় গরু উৎপাদন লাভজনক। কেননা গরু উৎপাদনের পর তা থেকে ৪৬ শতাংশ রিটার্ন পাওয়া যায়। আর মহিষ উৎপাদন করে তা থেকে মাত্র ১৫ শতাংশ রিটার্ন আসে।


মহিষের তুলনায় গরুতে আয় করা সহজ হয়। বাংলাদেশে গরিব মানুষ বেশি গরু পালন করেন। তারা এর মধ্য দিয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার চেষ্টা চালান। ফলে দারিদ্র্য নিরসনে বিশেষ ভূমিকা রাখছে গরু পালন। সূত্র: যুগান্তর।


এসএম

Print