কারাগারে গুরুতর অসুস্থ মোশাররফের অবস্থা আশঙ্কাজনক

টাইম ডেস্ক
টাইম নিউজ বিডি,
১৩ নভেম্বর, ২০১৮ ০২:৪৫:৫৭
#

১৫ দিন নিঁখোজ থাকার পর কারাগারে পাঠানো পাঁচ যুবকের একজন মুহাম্মাদ মোশাররফ খান। তার অবস্থা বর্তবানে আশঙ্কাজনক।


গত ০৪  নভেম্বর কেরানীগঞ্জে অবস্থিত ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পরিবারের সদস্যদের সাথে সাক্ষাত শেষে মুহাম্মাদ মোশাররফ খানের ভাই মুহাম্মাদ মিজান খান সাংবাদিকদের এই কথা জানান।


মিজান খান বলেন, মোশাররফ দীর্ঘ তিন বছর যাবত রিওম্যাটিক আরথিটিস নামক জটিল রোগে ভুগছে। তাকে নিয়মিত ডাক্তার দেখাতে হয়। অথচ পুলিশ তাকে রিমান্ডে নিয়ে একটানা তিনদিন নির্যাতনের পর বিনা চিকিৎসায় কারাগারে আটক রাখায় আমার ভাইয়ের মরনাপন্ন অবস্থা তৈরী হয়েছে। আমি ও আমার পরিবার তার জীবন নিয়ে শঙ্কিত।


উল্লেখ্য গত ১২ সেপ্টেম্বর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে পবিত্র হজ্ব পালন শেষে দেশে ফিরে আসা মা ও ভাইকে রিসিভ করতে গেলে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবিরের ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সভাপতি মুহাম্মাদ শফিউল আলমসহ তার সাথে থাকা আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।


পরে গ্রেপ্তারকৃত মুহাম্মাদ শফিউল আলমকে সাথে নিয়ে যাত্রাবাড়ী এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও দুইজনকে গ্রেপ্তার করে।


কিন্তু পুলিশের পক্ষ থেকে তাদের গ্রেপ্তার ও অভিযান পরিচালনার কথা অস্বীকার করা হলে ১৫ সেপ্টেম্বর শফিউল আলমের মা ক্রাইম রিপোর্টারস এসোসিয়েশনে নিঁখোজ সন্তানের সন্ধান দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেন।


পরবর্তীতে ২৬ সেপ্টেম্বর রাজধানী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আওতাধীন ওয়ারী এলাকায় অবস্থিত বাংলাদেশ হোমিও মেডিকেল কলেজ শাখার সভাপতি মুহাম্মাদ মোশাররফ খানের বাসায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকেসহ উক্ত বাসায় থাকা আরও ৫ জনকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়।


২৭  সেপ্টেম্বর ওয়ারী থানায় (ওয়ারী থানা মামলা নম্বার ৫০, তারিখ ২৭/০৯/২০১৮) বিস্ফোরক আইনে করা একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাকেসহ পূর্বে আটককৃত ঢাকা মহানগরী সভাপতি মুহাম্মাদ শফিউল আলম ও অন্যান্য গ্রেপ্তারকৃতদেরকে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিট্রেট (সিএমএম) আদালতে হাজির করা হয়। আদালত ৩ দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।


একই মামলায় বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি মুহাম্মাদ ইয়াছির আরাফাত ও সেক্রেটারী জেনারেল মোবারক হোসাইনসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগরীর দায়িত্বে থাকা মোট ৩৯ জন নেতা-কর্মীকে আসামী করা হয়।


মুহাম্মাদ মোশাররফ খান বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ শাখার সভাপতি ও মাদারীপুর সদর থানার নূর মুহাম্মাদ খানের ছেলে।


বর্তমানে মোশাররফকে কেরানীগঞ্জে অবস্থিত ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে স্থানান্তর করে গাজীপুরে অবস্থিত কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে আটক করে রাখা হয়েছে।


মুহাম্মাদ মিজান খান বলেন, কারাগারে অবস্থান করায় চিকিৎসার অভাবে তার শারীরিক অবস্থার দিন দিন অবনতি হচ্ছে।


এদিকে মোশাররফের সু-চিকিৎসার জন্য আদালতের নির্দেশনা থাকলেও কারা কর্তৃপক্ষ কোন ধরনের ব্যাবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ করেন মোশাররফের ভাই।


তিনি বলেন, দীর্ঘ তিন মাস যাবত মাদারীপুর থেকে চিকিৎসা শেষে কিছুটা সুস্থ হলে শারীরিক পরীক্ষা করাতে এবং তার মেডিকেল কলেজের পরীক্ষা সমূহে অংশ গ্রহন করতে ঢাকায় আসে। এবং পুলিশ তাকে ব্লক রেইড দিয়ে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়। হাঁটু, কোমর ও মেরুদন্ডে প্রচন্ড ব্যাথার কারনে সে নিজে নিজে চলাফেরা করতে পারে না।


আসন্ন শীতে তার অবস্থা দিন দিন খারাপের দিকে যাচ্ছে। দ্রুত জামিনে মুক্তি ও চিকিৎসা সুবিধা না পেলে তার জীবন বিপন্ন হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন মোশাররফের ভাই মিজান খান।


এসএম

Print