বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স স্থাপনের দাবি

বেনাপোল করসপন্ডেন্ট
টাইম নিউজ বিডি,
০৬ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০২:১০:৫৫
#

মুক্তিযোদ্ধাদের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে অরক্ষিত যশোরের শার্শা উপজেলার কাশিপুর গ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখ’র স্মৃতিস্তম্ভটি সংরক্ষনে এগিয়ে এসেছে সরকার।


ইতিমধ্যে স্মৃতিস্তম্ভটি সংরক্ষণে সরকার বরাদ্ধ দিয়েছেন ১২ লাখ ৭৭ হাজার টাকা।


সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করে স্বাধীনতা যুদ্ধে জীবন দিয়ে যারা এই দেশকে ভালোবেসে স্বাধীন করেছিলেন, সেসব বীর সন্তানদের একজন বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ নূর মোহাম্মদ শেখ।


মহান মুক্তিযুদ্ধে তারা উপহার দিয়েছিল একটি স্বাধীন সার্বভৌমত্ব দেশ। সেই অসামান্য বীরত্বের স্বীকৃতি স্বরূপ সর্বোচ্চ সামরিক সম্মান বীরশ্রেষ্ঠ উপাধিতে ভূষিত হয়েছিল শহীদ নূর মোহাম্মদ শেখ।


বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদসহ ৭ শহীদ মুক্তিযোদ্ধা চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন শার্শা উপজেলার সীমান্তবর্তী কাশিপুর গ্রামের পুকুর পাড়ে। এই শহীদ সন্তানদের স্মৃতি রক্ষার্থে তৈরি করা হয়েছে বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ নূর মোহাম্মদ শেখ স্মৃতিস্তম্ভ।


স্মৃতিস্তম্ভটি সরকারিভাবে রক্ষণাবেক্ষণ’র কোন ব্যবস্থা ছিল না দীর্ঘদিন। ফলে সীমান্তঘেষা গ্রামের এসব সূর্য সন্তানদের কবরগুলো ছিল গো-চারণ ভূমি।


বেনাপোলের পাশেই সীমান্তবর্তী উপজেলা শার্শা। বেনাপোল থেকে মাত্র ২৫ কিলোমিটার উত্তরে সীমান্তঘেষা গ্রাম কাশিপুর। ওপারে রয়েছে ভারতের দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলার বয়রা গ্রাম। তাদের স্মরনেই এখানে নির্মাণ করা হয়েছে বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ নূর মোহাম্মদ শেখ স্মৃতিস্তম্ভ।


বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ ছাড়া অপর ছয়জন হলেন- শহীদ সিপাহী আবদুস ছাত্তার, শহীদ এমসিএ সৈয়দ আতর আলী, শহীদ সিপাহী এনামূল হক, বাহাদুর গেরিলা শহীদ, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা আবদুল আহাদ ও শহীদ সুবেদার মনিরুজ্জামান।


বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ নূর মোহাম্মদ শেখ তৎকালীন সীমান্তরক্ষী বাহিনীর একজন ল্যান্স নায়েক ছিলেন। ১৯৭১ সালের ৫ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে ৪ মুক্তিযোদ্ধাসহ ঝিকরগাছা উপজেলার গোয়ালহাটি এলাকায় টহলরত হানাদার পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে শুরু হয়ে সম্মুখযুদ্ধ। নিজের জীবন উৎসর্গ করে ৩ মুক্তিযোদ্ধার জীবন রক্ষা করেন শহীদ নূর মোহাম্মদ শেখ।


গোয়ালহাটিতে মৃত্যুর পর কাশিপুর সীমান্তের মুক্ত এলাকায় পুকুর পাড়ে সম্পন্ন করা হয় শহীদ নূর মোহাম্মদ শেখ’র দাফন। পরবর্তীতে শহীদ হওয়া আরো ছয় জন বীর সন্তানকেও দাফন করা হয় এখানেই।


জাতীয় দিবস গুলো এলেই শুরু হয়ে এই স্মৃতিস্তম্ভের ধোয়া মোছার কাজ। বছরে দু-একবার ধুয়েমুছে জাতীয় দিবসগুলো পালনের পরেই যেন দায়িত্ব শেষ! মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষে দাবি ওঠে এটি সংস্কার, রক্ষনাবেক্ষন ও মুক্তিযোদ্ধা জাদুঘর স্থাপন করার। ইতিমধ্যে স্মৃতিস্তম্ভে সীমানা  প্রাচীর ও মাজারে টাইলস ও মার্বের পাথর বসানোর কাজ ষাট ভাগ সম্পন্ন হয়েছে।


১নং ডিহি ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মোঃ হোসেন আলী বলেন, বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ নূর মোহাম্মদ শেখ স্মৃতিস্তম্ভে কমপ্লেক্সে, রেস্ট হাউজ, পাবলিক টয়লেট ও একটি মসজিদ নির্মানের দাবি ছিলো বহুদিনের। এতোমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে আশা করি আগামী ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিসব অনুষ্ঠান সেখানে পালন করতে পারবো।


শার্শা উপজেলা নির্বাহী অফিসার পুলক কুমার মন্ডল বলেন, বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ নূর মোহাম্মদ শেখ স্মৃতিস্তম্ভ রক্ষনাবেক্ষনে একটি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। তাতে ১২ লাখ ৭৭ হাজার টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। ইতিমধ্যে কাজের অগ্রগতি ৬০ভাগ সম্পন্ন হয়েছে।


শেখ নাছির উদ্দিন/এসএম

Print