সাধারণ মানুষের কাছে ইশতেহারের গুরুত্ব নেই!

টাইম ডেস্ক
টাইম নিউজ বিডি,
২৩ ডিসেম্বর, ২০১৮ ১৫:০৮:৫২
#

প্রধান দুই রাজনৈতিক দল ও জোটের নির্বাচনী ইশতেহার দেখেছি। দুই দলের ইশতেহারেই বেশ কিছু ভালো কথা আছে। আবার অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্থান পায়নি।


যেমন আওয়ামী লীগের ইশতেহারে বর্তমান উন্নয়নের ধারাকেই এগিয়ে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। দলটি ১০ বছর ক্ষমতায় ছিল এবং তাদের সরকার পরিচালনার একটা ধারাবাহিকতাও তৈরি হয়েছে- এ কারণে তারা উন্নয়নের অগ্রযাত্রাকে এগিয়ে নেওয়ার বিষয়েই জোর দিয়েছে।


১০ বছর ক্ষমতায় থাকায় আওয়ামী লীগের কাছে তথ্য আছে, তথ্যপ্রবাহের ওপর নিয়ন্ত্রণও আছে, এ কারণে তারা একটি বিস্তারিত ইশতেহার দিয়েছে। ইশতেহারে সরকার পরিচালনায় ভুলত্রুটি থাকলে ক্ষমা চাওয়ার কথা বলা হয়েছে। এটা ইতিবাচক।


কিন্তু ভুলগুলো কী ছিল তা তুলে ধরে সেগুলো সংশোধনের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট বক্তব্য থাকলে আরও ভালো হতো। গত কয়েক বছরে আওয়ামী লীগের আমলে বেশ কিছু বিষয় নিয়ে সমালোচনা উঠেছে।


তার মধ্যে একটা ছিল ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন। এর আগে এ আইন সংশোধনে সরকারের মন্ত্রীরা কথা দিয়েও কথা রাখেননি। এখন দেখা গেল আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারেও এ নিয়ে কোনো কথা নেই।


এ ধরনের অনেক বিষয়ে দলটির ইশতেহারে কিছুই নেই। ফলে বর্তমান কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতা রক্ষার বিষয়টি মোটা দাগে তাদের ইশতেহারে স্থান পেয়েছে এবং ভোটারদের তারা এটাই বিবেচনা করতে বলেছেন।


অন্যদিকে বিএনপির ইশতেহারে গত ১০ বছর ক্ষমতার বাইরে থাকায় নানা কারণে তাদের ভেতরে যে ক্ষোভ এবং সরকারের যেসব কর্মকাণ্ড নিয়ে তারা সমালোচনা করেছেন, সেগুলো তুলে ধরা হয়েছে।


তারা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল, অফিস সিক্রেসি অ্যাক্ট বাতিলের মতো কিছু সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার করেছেন। এ ছাড়া তারা রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতায় ভারসাম্য নিয়ে আসতে সংবিধান সংশোধনের কথাও বলেছেন।


এটা নতুন কিছু নয়। ২০০৭ সালে ওয়ান-ইলেভেনের পর দুই দলের সংস্কারবাদী নেতারাও এ ধরনের কথা বলেছেন। কিন্তু এ প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে হলে সব রাজনৈতিক দলের ঐক্যের প্রয়োজন। সেটা কতটা সম্ভব তা বিবেচ্য বিষয়।


তবে সংসদে উচ্চকক্ষের কথা যেটা বলা হয়েছে তা ভালো। এ নিয়ে আলাপ-আলোচনা হতে পারে। বিএনপির ইশতেহারেও অতীতে সরকার পরিচালনাসহ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ভুলত্রুটি এবং আত্মসমালোচনার কথা নেই।


ফলে অতীতে বিএনপি যেসব ভুল করেছে, যেসব অনিয়মের জন্ম দিয়েছে তারা ক্ষমতায় গেলে এসব বিষয়ে কী করবেন, তা বলা নেই।


আসলে নির্বাচনী ইশতেহারের একটা মূল্য হচ্ছে, রাজনৈতিক দলগুলোর অঙ্গীকার সম্পর্কে জানা যায় এবং ভবিষ্যতে জবাবদিহি চাওয়া যায়; যদি তারা প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করেন কিংবা প্রতিশ্রুতি থেকে দূরে সরে যান।


কিন্তু বাস্তবে সাধারণ ভোটারের কাছে ইশতেহারের খুব বেশি মূল্য আছে বলে মনে হয় না। ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে ইশতেহার নয়, দৃশ্যমান রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডই বেশি প্রাধান্য পায়। সূত্র: সমকাল।


এএস


 

Print