রোববারের মধ্যে সমাধান খুঁজে বের করব: শ্রম সচিব

স্টাফ রিপোর্টার
টাইম নিউজ বিডি,
১১ জানুয়ারি, ২০১৯ ০৩:০২:৪৬
#

পোশাক শ্রমিকদের বেতন বৈষম্য নিরসনে পর্যালোচনা কমিটির প্রথম বৈঠকে ন্যূনতম মজুরি কাঠামোর ৩, ৪ ও ৫ নম্বর গ্রেড সমন্বয়ে জন্য বিবেচনায় নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব আফরোজা খান।


শ্রমিকদের মজুরি বোর্ড নিয়ে যে সমস্যা তৈরি হয়েছে, সেটা রোববারের (১৩ জানুয়ারি) মধ্যে সমাধান করা হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন আফরোজা খান।


পোশাক শ্রমিকদের নতুন মজুরি কাঠামো পর্যালোচনার জন্য গঠিত ১২ সদস্যের কমিটির প্রথম সভা আজ (১০ জানুয়ারি) বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টা ২০ মিনিটে শ্রম মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন শ্রম সচিব ও কমিটির আহ্বায়ক আফরোজা খান।  


নতুন মজুরি কাঠামোতে বৈষম্য রয়েছে দাবি করে ঢাকা, গাজীপুর, আশুলিয়া, সাভারসহ বিভিন্ন স্থানে আন্দোলন করে আসছে পোশাক শ্রমিকরা। এই প্রেক্ষাপটে গত মঙ্গলবার শ্রম ভবনে সরকার-মালিক-শ্রমিক সমন্বয়ে ত্রিপক্ষীয় জরুরি বৈঠক হয়। সেখানে মজুরি পর্যালোচনা কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে এক মাসের মধ্যে মজুরির অসঙ্গতিগুলো খতিয়ে দেখে সমস্যা সমাধানে পদক্ষেপ নিতে বলা হয়।


কিন্তু এরপরও থামেনি শ্রমিক আন্দোলন। বর্তমান সরকারের শেষ সময়ে পোশাক শ্রমিকদের নতুন ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করা হয় ৮ হাজার টাকা। গত ডিসেম্বর মাস থেকে এই মজুরি কার্যকর ধরা হয়েছে।


সভা শেষে শ্রম মন্ত্রণালয়ের সচিব বলেন, “গ্রেড নিয়ে একটু ইয়ে আছে, কোন গ্রেডে কমেছে, কোন গ্রেডে বেড়েছে। আমরা দেখতে পেয়েছি সাতটি গ্রেডের মধ্যে ১ ও ২ সম্পর্কে ওনাদের মন্তব্য হচ্ছে সেথানে কোন সমস্যা নেই। ৬ ও ৭ নম্বর গ্রেডেও কোন সমস্যা নেই। শুধু ৩, ৪ ও ৫ নম্বর গ্রেডে একটু অবজারভেশন আছে, সেটা আমলে নিয়েছি।”


তিনি বলেন, “এখানে যেহেতু ক্যালকুলেশনের ব্যাপার আছে, সেজন্য আরো গভীরভাবে পর্যালোচনার জন্য আরো ছোট পরিসরে আগামী রোববার বসে সেটার সমাধান খুঁজে বের করব। কোথায় কীভাবে করলে সেই সমন্বয়টা আমরা করতে পারি। যাতে এই সমস্যা সমাধান হয়।”


“মাননীয় প্রতিমন্ত্রী বলেছেন আমিও সেটা বলতে চাই- যে মজুরি ঘোষিত হয়েছে, একজন শ্রমিক আগে যে মজুরি পেয়েছেন সেটার বেসিক বা গ্রস কোনটাই কমবে না।”


আফরোজা খান বলেন, “যেহেতু সমস্যা শনাক্ত হয়েছে সেহেতু সমস্যা সমাধান করা যাবে। আগামী রবিবার (১৩ জানুয়ারি) কমিটির বৈঠক আবার বসবে। ওই বৈঠকে চিহিৃত তিনটি গ্রেডের বিষয় সমাধানের চেষ্টা করা হবে।”


তিনি বলেন, কমিটিকে বিষয়টি সমাধানে এক মাসের সময় দেওয়া হয়েছিল। ওই সময়ের আগেই বিষয়টির সমাধান হয়ে যাবে। সরকার যে শ্রমিকবান্ধব তা উল্লেখ করে তিনি বলেন, শ্রমিকদের কারও বেতনই কমবে না।


মজুরি কাঠামোর কারণে যে অস্থিতিশীলতা তৈরি হচ্ছে তা নয়, এর পেছনে অন্য ঘটনা রয়েছে যার একটি উদাহরণ উল্লেখ করে আফরোজা খান বলেন, ‘মজুরি কাঠামোর চাইতে বেশি বেতন দেওয়া হয় এমন একটি কারখানা ভাঙচুর করা হয়েছে।’তিনি বলেন, অর্থনীতির মূলভিত্তি হচ্ছে গার্মেন্টস খাত। এ খাতকে ধ্বংস করার জন্য একটি চক্র পেছন থেকে কলকাঠি নাড়ছে। এ কারণে সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।


শ্রমিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “শুধু বেতনই নয়, শ্রমিকরা যেকোনও সমস্যায় পড়লে একটি হটলাইন নম্বর চালু করবে শ্রম অধিদফতর। রাত-দিন ২৪ ঘণ্টা সেই নম্বরে ফোন দিয়ে শ্রমিকরা তাদের সমস্যা জানাতে পারবেন। সমস্যার যাতে তাৎক্ষণিক সমাধান হয় তার ব্যবস্থাও থাকবে। নম্বরটি শিল্প অঞ্চলে মাইকিং করে জানানো হবে।”


বৈঠকে ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, বাংলাদেশ তৈরি পোশাক ও রফতানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান, বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থী আতিকুল ইসলাম এবং বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি ও সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম মুর্শিদীসহ গার্মেন্টস মালিক, শ্রমিক এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের পর্যালোচনা কমিটির ১২ সদস্যের মধ্যে ১০ জন উপস্থিত ছিলেন। 


এমবি     

Print