কমছে রিজার্ভ বাড়ছে ডলার সঙ্কট

টাইম ডেস্ক
টাইম নিউজ বিডি,
২৭ জানুয়ারি, ২০১৯ ১৬:৩৯:০৭
#

দেশে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ গত বছরের ২৩ জানুয়ারি ছিল ৩ হাজার ২৪১ কোটি ডলার। এক বছরের ব্যবধানে গত ২৩ জানুয়ারি তা কমে নেমেছে ৩ হাজার ১০৬ কোটিতে। এক বছরে কমেছে ১৩৫ কোটি ডলার, যা শতকরা হিসাবে প্রায় সাড়ে ৪ ভাগ। বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রচলিত জ্বালানি তেল আমদানির সাথে নতুন করে যুক্ত হয়েছে এলএনজি।


একই সাথে পিডিবির বিদ্যুৎ কেন্দ্রের যন্ত্রপাতি, রাসায়নিক সার আমদানি ব্যাপক হারে বেড়ে গেছে। এতে বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা বাড়ছে। কিন্তু চাহিদার চেয়ে ডলারের সরবরাহ বাড়েনি। ফলে বাজারে ডলারের ঘাটতি বেড়ে যাচ্ছে। এ ঘাটতি মেটাতে রিজার্ভ থেকে সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে কমে যাচ্ছে রিজার্ভ। চাহিদার চেয়ে সরবরাহ না বাড়লে বা চাহিদার লাগাম টেনে ধরতে না পারলে সঙ্কট তীব্র হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।


সূত্র জানিয়েছে, গত বছরের শুরু থেকেই ডলারের সঙ্কট দেখা দেয়। ব্যাংকগুলো পর্যাপ্ত তহবিলের সংস্থান না করেই অস্বাভাবিকভাবে পণ্য আমদানির জন্য এলসি খুলতে থাকে। পাশাপাশি অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটের মাধ্যমে ডলার বিনিয়োগ করতে থাকে। ফলে নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে এলসির দায় পরিশোধ করতে গিয়ে বিপাকে পড়ে ব্যাংকগুলো।


বৈদেশিক মুদ্রাবাজারের অস্থিরতা কাটাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে সঙ্কটে পড়া ব্যাংকগুলোর কাছে ডলার বিক্রি করা হয়। এভাবে চলতি অর্থবছরের গত ২৪ জানুয়ারি পর্যন্ত সঙ্কটে পড়া ব্যাংকগুলোর কাছে ১৩৩ কোটি ডলার বিক্রি করা হয়; যার স্থানীয় মূল্য প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা। রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি করতে গিয়ে টানা পড়েছে রিজার্ভে।


গত ২৩ জানুয়ারি রিজার্ভ নেমেছে ৩ হাজার ১০৬ কোটি ডলারে, যেখানে এক বছর আগেও একই সময়ে ছিল ৩ হাজার ২৪১ কোটি ডলার। এরও আগে রিজার্ভ ৩ হাজার ৩০০ কোটি ডলারে ছেড়ে গিয়েছিল।


এ দিকে ডলারের মূল্য আগের স্থানে ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। যেমন বছরখানেক আগেও যেখানে প্রতি ডলার পেতে ৭৭ থেকে ৭৮ টাকা ব্যয় হতো, বর্তমানে তা বেড়ে হয়েছে ৮৩ টাকা ৯৫ পয়সা। তবে বাজারে এই দামে ডলার পাওয়া যাচ্ছে না। বর্তমানে প্রতি ডলার পেতে ৮৫ থেকে ৮৬ টাকা ব্যয় হচ্ছে।


সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ডলারের সঙ্কট সামনে আরো বাড়তে পারে। কারণ আগে পেট্রল, ডিজেল, কেরোসিন, অকটেন আমদানি করা হতো। কিন্তু এখন নতুন করে যুক্ত হয়েছে এলএনজি আমদানি। প্রতি মাসে বিপুল অঙ্কের এলএনজি আমদানির দায় পরিশোধ করতে হচ্ছে। এর সাথে রাসায়নিক সার ও বিদ্যুৎকেন্দ্রের যন্ত্রপাতি আমদানি করতে হচ্ছে। একই সাথে ভারতসহ প্রতিবেশী দেশ থেকে পণ্য আমাদনি বেড়ে গেছে। এর ফলে আকুর (এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়ন) দায় বেড়ে হয়েছে ১৪৪ কোটি ডলার।


সব মিলে বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা অস্বাভাবিক হারে বেড়ে গেছে। এ দিকে প্রায় প্রতি মাসেই রেমিট্যান্স প্রবাহ কমছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) রেমিট্যান্স প্রবাহের প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র ৮ শতাংশ, যেখানে গত বছরের একই সময়ে ছিল প্রায় সাড়ে ১২ শতাংশ। আর মাস হিসাবে গত ডিসেম্বরে রেমিট্যান্সের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩ দশমিক ৩৫ শতাংশ, যেখানে আগের বছরের ডিসেম্বরে প্রবৃদ্ধি হয়েছিল প্রায় সাড়ে ২১ শতাংশ। অন্য দিকে কাক্সিক্ষত হারে রফতানি আয় বাড়ছে না এবং অবমুক্ত হচ্ছে না বৈদেশিক ঋণ।

Print