রাইড শেয়ারিং: স্বস্তি কতটুকু

স্টাফ রিপোর্টার
টাইম নিউজ বিডি,
০২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ১৯:০৪:৩৯
#

রাইড শেয়ারিং, বর্তমান যানজটের শহরে এক জনপ্রিয় নাম। সময় বাঁচাতে ইতোমধ্যেই মানুষের অন্তরে স্থান করে নিয়েছে এ মাধ্যমটি। অনেকে মনে করছেন আরো আগেই এরকম মাধ্যমের যাত্রা শুরু হওয়া দরকার ছিল। জনপ্রিয়তার সঙ্গে সঙ্গে সমালোচনাও কম নয়। অভিযোগ অনুযোগ নিয়ে ধীরে ধীরে কার্যক্রম এগিয়ে নিচ্ছে বিভিন্ন অ্যাপ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। তবে অভিযোগের পরিমান বাড়তে থাকায় নিয়ন্ত্রণ নিয়েও চিন্তা ভাবনা শুরু করেছে সরকার। পুলিশের পক্ষ থেকে কিছু পদক্ষেপের চিন্তাও করা হয়েছে।


সম্প্রতি রাইড শেয়ারিং শুরু করা জোবায়ের বলেন, চাকরির পাশাপাশি রাইড শেয়ার করে আমার দৈনন্দিন খরচের টাকা হয়ে যায়। একটু প্ররিশ্রম হলেও রাইড শেয়ারিংয়ে ভালই সুবিদা পাচ্ছি।


নিয়মিত সুবিধা নেয়া ব্যাংক কর্মকর্তা সালেহিন বলেন, আগে বাসের জন্য অনেক সময় অপেক্ষা করতে হতো। বাসা থেকে অফিস পর্যন্ত দেড় থেকে দু ঘন্টা সময় লাগতো। এখন সেটা লাগে না। তবে তার অভিযোগ মাঝে মাঝে রাইড শেয়ারকারীরা তাদের সুবিধামত স্থান না হলে রিসিভ করেও আসতে চান না। তখন বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। আবার কল করতে হয়। মাঝে মাঝে অ্যাপে মোটর সাইকেল পেতে সময় লাগে। তারপরও ভালো মন্তব্য করেন তিনি।


রাইড শেয়ারকারী চালকদের বিরুদ্ধেও অভিযোগ অনেক। ফুটপাত ব্যবহার, আইন না মানা, যৌন হয়রানীর অভিযোগও মাঝে মাঝে পাওয়া যাচ্ছে।


এসব বিষয়ে রাইড শেয়ারিং অ্যাপ পাঠাওয়ের সিইও হোসাইন মো. ইলিয়াস বলেন, এ ইন্ডাস্ট্রিটাতো নতুন, আমরা চেষ্টা করছি জনগণের চাহিদার আলোকে এটাকে সাজাতে। তবে আরো সময় লাগবে। যে কোনো বিষয়ে অভিযোগ পেলে আমরা চেষ্টা করছি তাৎক্ষণিক সমাধানের।


অভিযোগের বিষয় সমাধানে কিছু পদক্ষেপ চিন্তা করা হয়েছে পুলিশ বিভাগের পক্ষ থেকে।
তাদের তথ্যমতে, রাইড শেয়ারিং অ্যাপের (উবার, পাঠাও, স্যাম, ওভাই, সহজ) মাধ্যমে আয়ের আশায় বিভিন্ন জেলা থেকে বিপুল পরিমাণ মোটরসাইকেল ঢাকায় প্রবেশ করছে। তাদের বিরুদ্ধেই যত অভিযোগ। এসব মোটরসাইকেলের চালকরা ফুটপাত দিয়ে বেশি উঠে যায়। তাছাড়া যেখানে সেখানে দাঁড়িয়ে যাত্রী ওঠানামা করানোর অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। কোনো কোনো স্থানে অনেকটা স্ট্যান্ড তৈরি করে ফেলেছে তারা। অতিরিক্ত আয়ের আশায় অ্যাপের বাইরে যাত্রী নিচ্ছে তারা। এতে বাড়ছে নিরাপত্তা ঝুঁকিও।


এ বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগের যুগ্ম কমিশনার মফিজ উদ্দিন আহমেদ জানান, মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণে ‘ঢাকা মেট্রো’ ছাড়া বাকি সব মোটরসাইকেল ঢাকায় নিষিদ্ধের প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে এর সঙ্গে বিআরটিএ যুক্ত রয়েছে। তাদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-পরামর্শ করা হবে। ঢাকার বাইরের নিবন্ধিত কোনো মোটরসাইকেল রাজধানীতে রাইড শেয়ারিং অ্যাপে চলতে না দিলে রাজধানীতে মোটরসাইকেলের সংখ্যা অনেক কমে যাবে।


বিআরটিএ সূত্রে জানা গেছে, দেশে বর্তমানে ৩৫ লাখ যানবাহন চলাচল করে। যার মধ্যে ২২ লাখই মোটরসাইকেল। আর ঢাকায় মোটরসাইকেলের সংখ্যা সাড়ে ৫ লাখের বেশি। ঢাকায় প্রতিদিন গড়ে ৪৭টি করে নতুন মোটরসাইকেল নামছে।


গণপরিবহন বিশেষজ্ঞ বুয়েটের অধ্যাপক ড. শামসুল ইসলাম বলেন, গণপরিবহনের ভালো বিকল্প তৈরি না হওয়ায় মানুষ দ্রুত যাতায়াতের জন্য মোটরসাইকেল ব্যবহার করছে। এর ফলে রাজধানীতে প্রতিনিয়ত বাড়ছে মোটরসাইকেল। এটি অবশ্যই ঝুঁকিপূর্ণ একটি বাহন। এর দুর্ঘটনায় ৩০ শতাংশের বেশি শরীরের ক্ষয়ক্ষতি হয়। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহতদের মধ্যে অনেককেই স্থায়ী পঙ্গুত্ব বরণ করতে হয়। তাই রাজধানীতে মোটরসাইকেল ব্যবহারের লাগাম টানাটা জরুরি।


 

Print