গরুর দুধ ও দইয়ে ক্ষতিকর কীটনাশক, অ্যান্টিবায়োটিক ও সীসা

স্টাফ রিপোর্টার
টাইম নিউজ বিডি,
১১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০২:৫৭:৩০
#

সরাসরি খামার ও বিভিন্ন ব্র্যান্ডের প্যাকেটজাত তরল গরুর দুধে সহনীয় মাত্রার চেয়ে বেশি কীটনাশক ও নানা ধরনের অ্যান্টিবায়োটিকের উপাদান পাওয়া গেছে। পাওয়া গেছে বিভিন্ন অণুজীবও। একই সঙ্গে প্যাকেটজাত গরুর দুধ, দুগ্ধজাত পণ্য এমনকি দইয়েও অ্যান্টিবায়োটিক ও সীসা পাওয়া গেছে মাত্রাতিরিক্ত।


আজ (১০ ফেব্রুয়ারি) রোববার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এইসব তথ্য জানিয়েছে সরকারি প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ফুড সেফটি ল্যাবরেটরি (এনএফএসএল)।


সংস্থাটি জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) আর্থিক সহায়তায় গরুর দুধ, প্যাকেটজাত দুধ, দই ও গো খাদ্য নিয়ে এই জরিপের কাজ করেছে। 


এনএফএসএল সূত্র জানায়, দেশের বিভিন্ন উপজেলা/থানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। গরুর দুধ সরাসরি খামার থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। একই সাথে উক্ত খামার থেকেই গবাদী পশুর খাবার সংগ্রহ করা হয়েছে। দই ঢাকা শহরের বিভিন্ন ব্র্যান্ড দোকান ও আশপাশের উপজেলার দোকান থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে।


বাজারে প্রচলিত বিভিন্ন ব্র্যান্ডের প্যাকেটজাত তরল দুধ এবং আমদানি করা প্যাকেটজাত দুধও সংগ্রহ করা হয়েছে। এগুলো নির্দিষ্ট নিয়মে মেনে ল্যাবরেটরিতে পৌঁছানোর পর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে।


গবেষণায় প্রাপ্ত ফলাফলে জানানো হয়, ৬৯-১০০ শতাংশ গোখাদ্যে বিভিন্ন রকমের রাসায়নিক- কীটনাশক (৯টি নমুনায়), সীসা (২২টি নমুনায়), ক্রোমিয়াম(১৬টি নমুনায়), টেট্রাসাইক্লিন(২২টি নমুনায়), এনরোফ্লোক্সাসিন (২৬টি নমুনায়), সিপ্রোসিন(৩০টি নমুনায়) এবং আফলাটক্সিন (১৯টি নমুনায়) গ্রহণযোগ্য মাত্রার চেয়ে বেশি মাত্রা পাওয়া যায়।


গরুর দুধের ৯৬টি নমুনার মধ্যে ৯ শতাংশ দুধে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি কীটনাশক, ১৩ শতাংশ দুধে ক্ষতিকর মাত্রায় এন্টিবায়োটিক টেট্রাসাইক্লিন, ১৫ শতাংশ  দুধে ক্ষতিকর মাত্রায় সীসা পাওয়া গেছে, ৯৬ শতাংশ দুধে পাওয়া গেছে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া’সহ বিভিন্ন অণুজীব।


অন্যদিকে প্যাকেটজাত তরল দুধের ৩১টি নমুনার মধ্যে ৩০ শতাংশ দুধে সহনীয় মাত্রার চেয়ে বেশি পাওয়া গেছে এন্টিবায়টিক টেট্রাসাইক্লিন, ৬৬-৮০ শতাংশ দুধে পাওয়া গেছে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া’সহ বিভিন্ন অণুজীব। একটি প্যাকেট দুধে ক্ষতিকর মাত্রায় পাওয়া গেছে সীসা


এছাড়া, দইয়ের ৩৩টি নমুনা পরীক্ষা করে একটিতে সহনীয় মাত্রার চেয়ে বেশি সীসা পাওয়া গেছে। আর ৫১ শতাংশ নমুনায় মিলেছে বিভিন্ন অণুজীব।


গবেষকেরা বলছেন, যে সকল উপাদান পাওয়া গেছে তা মানুষের রোগ প্রতিরোধ শক্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তাছাড়া সিসা ও ক্রোমিয়াম ক্যানসার সৃষ্টি করতে পারে।  


আজ (১০ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে গবেষণা প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করা হয়। জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের ফুড সেফটি ল্যাবরেটরির পক্ষ থেকে এইসব তথ্য উপস্থাপন করছিলেন ল্যাবরেটরির প্রধান অধ্যাপক ড. শাহনীলা ফেরদৌসী।


তাঁর কাছে প্রশ্ন ছিল এইসব দুধ শিশুদের খাওয়ানো যাবে কি না। শাহনীলা ফেরদৌসী বলেন, “আমরা প্রতিনিয়ত এই দুধই কনজিউম করছি।”


শাহনীলা ফেরদৌসীর এই জবাবের সূত্র ধরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. আবুল কালাম আজাদ আরও কিছু ব্যাখ্যা দিলেন।


ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, “বাংলাদেশ উন্নত হচ্ছে বলেই আমরা আজ খাদ্যের মান নিয়ে চিন্তা করি। আমরা হয়তো আগে এই বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করতাম না। আমাদের জন্য এটা হলো সিগন্যাল।”


তিনি আরও বলেন, “আমরা এখনই খাওয়া বন্ধ করব না। আমরা খাব। কিন্তু অবশ্যই দূষণমাত্রা যাতে এসব আর না থাকে সেই ব্যবস্থা করব। আমরা দুধের বাচ্চাকে দুধ থেকে বঞ্চিত করব না।”


জাতিসংঘের কৃষি ও খাদ্য বিষয়ক সংস্থা, এফএওর প্রতিনিধি ডেবিড ডোলান বললেন, “দুধের এইসব ভেজালের বিরুদ্ধে আইনের কঠোর প্রয়োগ হওয়া প্রয়োজন।”


স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, “খাদ্যের বিষয়টি শুধু স্বাস্থ্যের বিষয় না, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিষয় না। এটা একটা মাল্টিসেকটরাল অ্যাপ্রোচ এখানে আসতে হবে। এখানে খাদ্য মন্ত্রণালয় রয়েছে, কৃষি, শিল্প মন্ত্রণালয় রয়েছে।”


ওই একই রিপোর্টে উঠে এসেছে দুধে যেসব ভেজাল পাওয়া যাচ্ছে তার মূল উৎস গরুকে যেসব খাদ্য খাওয়ানো হচ্ছে সেসব গো-খাদ্য।


এমবি   

Print