মেসির ৫০তম হ্যাটট্রিকে বার্সার রোমাঞ্চকর জয়

টাইম ডেস্ক
টাইম নিউজ বিডি,
২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ১৫:২২:৫৩
#

লিওনেল মেসি সর্বশেষ হ্যাটট্রিকটা করেছিলেন গত ১৬ ডিসেম্বর। লিগে লেভান্তের বিপক্ষে। সেটি ছিল তার ক্যারিয়ারের ৪৯তম হ্যাটট্রিক। সেই থেকেই মেসি-ভক্তরা অপেক্ষায় ছিলেন এই দিনটির জন্য। কবে তারা উদযাপন করবেন মেসির ৫০তম হ্যাটট্রিক।


অবশেষে সেই অপেক্ষার অবসান হলো কাল। শনিবার রাতে সেভিয়ার মাঠ র‌্যামন সানচেজ পিজউয়ান স্টেডিয়ামে হ্যাটট্রিকের হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করলেন মেসি। তার সেই দুর্দান্ত হ্যাটট্রিকে বার্সেলোনা পেয়েছে রোমাঞ্চকর জয়। দুই দফা পিছিয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত জিতেছে ৪-২ গোলে।


নিজেদের মাঠে ম্যাচের ২২ মিনিটেই এগিয়ে যায় সেভিয়া। স্বাগতিকদের এগিয়ে দেন স্প্যানিশ উইঙ্গার জেসুস নাভাস। র‌্যামন সানচেজ স্টেডিয়ামে তখন গুঞ্জন, বার্সেলোনার আরেকটি হতাশার রাতই বুঝি হতে যাচ্ছে। কিন্তু মেসির দিনে কোনো ধারণাই সত্যি হয় না। হতে পারে না। ৪ মিনিট পরই তাই মেসির ম্যাজিক।


দুর্দান্ত এক ভলিতে বার্সেলোনাকে ১-১ সমতায় ফেরানোর পাশাপাশি আর্জেন্টাইন তারকা মনে করালেন ফরাসি কিংবদন্তি জিনেদিন জিদানকে। জিদান ঠিক যেভাবে ঠাণ্ডা মাথায় আলতো ভলিতে প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডার ও গোলরক্ষককে বোকা বানাতেন, মেসি কাল নিজের প্রথম গোলটা করলেন ঠিক সেভাবেই। মানে হঠাৎই যেন জিদান সেজে বসেন মেসি!


তবে ৪২ মিনিটে আবারও এগিয়ে যায় স্বাগতিক সেভিয়া। দলকে এবার এগিয়ে দেন গ্যাব্রিয়েল মার্সেদো। ২-১ গোলের এই লিড নিয়েই বিরতিতে যায় তারা। ম্যাচের স্কোরকার্ড যেমন সেভিয়াকে এগিয়ে রাখছিল, মাঠের খেলাতেও তাই। প্রথমার্ধে স্বাগতিক সেভিয়াই ছিল সেরা দল। মেসির ওই জিদান-সুলভ ভলি বাদে আক্রমণে নেতৃত্ব দিয়েছে সেভিয়াই।


উপায়ান্তর না দেখে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই দলে দুটি পরিবর্তন ঘটান বার্সেলোনার কোচ আর্নেস্তো ভালভার্দে। ৪৬ মিনিটে সের্গিও রবার্তো ও আরতুরো ভিদালকে তুলে নিয়ে মাঠে নামান নেলসন সেমেদো ও উসমানে ডেম্বেলেকে। এই পরিবর্তন দুটিই পাল্টে দেয় চিত্রপট। প্রথমার্ধের অনেকটা ছন্নছাড়া বার্সেলোনার খেলায় ফিরে গতি। বিশেষ করে ফরাসি তরুণ উসমানে ডেম্বেলের কারণে প্রতি আক্রমণে ভয়ঙ্কর হয়ে উঠে বার্সেলোনা। ফিলিপে কুতিনহো ও ডেম্বেলে মিলে আক্রমণ রচনা করেন। সামনে তো মেসি-সুয়ারেজ ছিলেনই।


ক্ষীপ্র গতিতে ডেম্বেলে বেশ কয়েকবারই প্রতি আক্রমণে কাঁপিয়ে দেন সেভিয়ার রক্ষণ। তবে গোল তিনি পাননি। গোলের জন্য বার্সাকে ভরসা করতে হয়েছে মেসির ওপরই। অবশেষে ৬৭ মিনিটে ডেম্বেলের পাস থেকে দলকে সমতায় ফেরান মেসি, ২-২। এরপর ৮৫ মিনিটে বার্সেলোনার জয়ের দরজাও খুলেন তিনিই।


দলকে ৩-২ গোলে এগিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি মেসি মেতে উঠেন ক্যারিয়ারের ৫০তম হ্যাটট্রিক আনন্দে। সব মিলে ৫০তম হলেও লা লিগায় এটা তার ৩২তম হ্যাটট্রিক। আর দুটি হলেই ছুঁয়ে ফেলবেন চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর দখলে থাকা সর্বোচ্চ ৩৪ হ্যাটট্রিকের রেকর্ড।


মেসি হ্যাটট্রিক গোলটি করার পর র‌্যামন সানচেজ স্টেডিয়ামে উপস্থিত বার্সেলোনার অল্প সংখ্যক সমর্থক গগণবিদারী চিৎকারে লাফিয়ে উঠেন। যেন বিশ্ব জয় করে ফেলেছেন মেসি। এতোদিন ধরে যে মহেন্দ্রক্ষণটির অপেক্ষা, তার দেখা পাওয়ার পর মেসি-ভক্তদের উদযাপন বাঁধ ভাঙা তো হবেই। মেসির এই হ্যাটট্রিকেই জয় নিশ্চিত হয়ে যায় বার্সার। তবে যোগ করা সময়ে বার্সার জয়ের ব্যবধানটা আর একটু বড় করেন লুইস সুয়ারেজ। উরুগুইয়ান তারকা দলের চতুর্থ গোলটি অবশ্য করেন হ্যাটট্রিক-ম্যান মেসির পাস থেকেই।


মানে হ্যাটট্রিকের পাশাপাশি দলের অন্য গোলটি অ্যাসিস্টও করেছেন মেসি। অর্থাৎ বার্সার ৪টি গোলই মেসির প্রত্যক্ষ অবদানের ফসল। র্যা মন সানচেজ স্টেডিয়ামে কালকের রাতটি আক্ষরিক অর্থেই হয়ে হয়ে উঠেছিল মেসিময়।


জেড

Print