যানজটে নাজেহাল নগরজীবন: ব্যস্ত সড়কে ড্রাইভিং সিটেই ঘুমান বাস ড্রাইভার!

মো: মুস্তাঈন বিল্লাহ
টাইম নিউজ বিডি,
২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ১৭:৫০:৫৯
#

মো: আবুল কাশেম (ছদ্মনাম)।  পৃথিবীর সবচেয়ে জনবহুল শহরের মধ্যে অন্যতম ব্যস্তনগরী ঢাকার রাস্তার একজন বাস ড্রাইভার। এই রাজধানী শহরে প্রায় একযুগ ধরে বাস চালান তিনি।


গত ৫ই ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে দশটায় বাংলামটর এলাকায় ট্রাফিক জ্যামে আটকা পড়ে তার বাস। ঢাকার রাস্তার মতিগতি সম্পর্কে অত্যন্ত অভিজ্ঞ এই ড্রাইভার সহসাই বুঝতে পারলেন এই জ্যাম ছাড়তে বেশ খানিকটা সময় লাগবে।


ড্রাইভার কাশেম কালবিলম্ব করলেন না। নিজ ড্রাইভিং সিটে বসে স্টেয়ারিংয়ের ওপর মাথা রেখেই দিলেন ঘুম।  এটা যে একটি ব্যস্ত সড়ক এবং খোদ রাজধানীর বুকে সে দিকে যেন ভ্রুক্ষেপই নেই কাশেমের।


এদিকে পেছনে সীটে বসা প্রায় জনা চল্লিশেক যাত্রীদের মধ্যেও যেন কোনো ভাবান্তর নেই। এমন দৃশ্য দেখতে দেখতে তারা যেন অভ্যস্ত হয়ে গেছে।



এভাবে ঘুমন্ত একজন ড্রাইভার হঠাৎ ঘুম থেকে জেগে ব্যস্ত সড়কে গাড়ি চালানো শুরু করবেন- বাদবাকি দুনিয়ায় এটা যেন কল্পনাও করা যায় না। কিন্তু কেন এমন আশ্চর্যজনক এই চিত্র ঢাকার রাস্তায়?  


প্রায় পোনে একঘণ্টা পর জ্যাম শিথিল হলো। ড্রাইভার কাশেমেরও ঘুম ভাঙলো।  শুরু করলেন বাস চালানো। খানিকটা এগিয়ে ফার্মগেট এলাকায় এসে ফের জ্যামে পড়লেন।


এমনই এক সুযোগে তার কাছে জানতে চাইলাম এমন ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কে আপনি কেন বাসে ঘুমালেন? জবাবে ফ্যাক ফ্যাক করে হেসে দিলেন কাশেম। ঘুমাবো না তো গীত গাবো? প্রায় একঘণ্টা থেমে ছিলো গাড়ি, একটু ঘুমিয়ে নিলাম আপনার অসুবিধা কিসের? 


এভাবে উল্টো প্রশ্ন করলেন ড্রাইভার কাশেম এই প্রতিবেদককে। পিছনের সীটে বসা কয়েকজন যাত্রীর সাথে কথা হয়। তাদের একজন বললেন, ভাই, এই দৃশ্য হরহামেশাই দেখছি। এটা গা সওয়া হয়ে গেছে।


অসুস্থ প্রতিযোগিতা


বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার যানজট এভাবেই যেন নগরবাসীর নিত্য দিনের সঙ্গী ও একটি গা সওয়া ঘটনায় পরিণত হয়েছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তাতেই কাটাতে হচ্ছে নগরবাসীকে। কর্মদিবস হোক আর ছুটির দিন হোক দিনভর যানজট।


যানজটের কারণে শাহবাগ থেকে কারওয়ান বাজার সংলগ্ন সোনারগাঁ হোটেল ধরে দেখা গেলো অনেকেই হেটে যাচ্ছেন।


লম্বা জ্যাম দেখতে পেয়ে অনেকেই বাস থেকে নেমে হাটা শুরু করেন। দেখা গেলো বিআরটিসির একটি দোতলা বাসের ভেতর প্রায় ফাঁকা। আর হেলপার বাসে উঠার সিঁড়িতে বসে ঝিমাচ্ছেন।


এরই মধ্যে হঠাৎ জ্যাম ছেড়ে দিলে অনেক সময়ই দেখা যায় দ্রুত লাফিয়ে বা ঝুলে ঝুলে বাসে উঠার এক অসুস্থ প্রতিযোগিতা। এরফলে অনেক সময়ই ঘটে অনাকাঙ্খিত সড়ক দুর্ঘটনা।



রেষারেষির বলি রাজিব, রোজিনা


গতবছরের ৩ এপ্রিল  দুই বাসের রেষারেষিতে রাজীব নামের এক শিক্ষার্থীর হাত শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বিআরটিসির দোতলা বাসের পেছনের ফটকে দাঁড়িয়ে রাজধানীর কারওয়ান বাজার থেকে গন্তব্যে যাচ্ছিলেন সরকারি তিতুমীর কলেজের স্নাতক (বাণিজ্য) দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র রাজীব হোসেন। এই সময় স্বজন পরিবহনের একটি বাস পেছনের বিআরটিসি বাসকে ওভারটেকের চেষ্টা করে।


রেষারেষির একমুহুর্তে দুই বাসের চাপে রাজীবের ডান হাতটি শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।  মারাত্মক আহত রাজীব ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।


এর কদিন পর (২০ এপ্রিল) রাত ৮টার দিকে বনানীর চেয়ারম্যান বাড়ির সামনে বিআরটিসির একটি বাস রোজিনা (২১) নামের এক পথচারীকে ধাক্কা দেয়। তিনি পড়ে গেলে বাসটি তার ডান পায়ের উপর দিয়ে চলে যায়।


এতে রোজিনার পা দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ঢামেক হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোজিনাও মারা যান।



বছরে নিহত ৭ হাজারের বেশি


বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৮ সালে সারাদেশে মোট ৫ হাজার ৫১৪টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৭ হাজার ২২১ জন নিহত হয়েছেন। এইসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছে ১৫ হাজার ৪৬৬ জন। 


এছাড়া, সড়ক-রেল-নৌ এবং আকাশ পথে মোট ৬ হাজার ৪৮টি দুর্ঘটনায় ৭ হাজার ৭৯৬ জন নিহত এবং আহত হয়েছেন ১৫ হাজার ৯৮০ জন।


আর ২০১৭ সালে ৪ হাজার ৯৭৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৭ হাজার ৩৯৭ জন নিহত ও ১৬ হাজার ১৯৩ জন আহত হয়েছে। ২০১৬ সালে ৪ হাজার ৩১২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৬ হাজার ৫৫ জন নিহত ও ১৫ হাজার ৯১৪ জন আহত হয়েছিল।



যানজটের শীর্ষ তালিকায় ঢাকা


২০১৯ সালে বিশ্বে যানজটপূর্ণ শহরের তালিকায় শীর্ষে স্থান পেয়েছে বাংলাদেশের ঢাকা। ১৬ ফেব্রুয়ারি শনিবার বহুজাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান নামবিও’র ওয়েবসাইটে ‘ওয়ার্ল্ড ট্রাফিক ইনডেক্স-২০১৯’তে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।


নামবিও’র তথ্যমতে, বিশ্বের সবচেয়ে যানজটপূর্ণ শহরের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে ঢাকা আর দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ভারতের কলকাতা। এর আগে ২০১৮ এবং ২০১৭ সালে ঢাকার অবস্থান ছিল দ্বিতীয়। তবে ২০১৬ সালে ঢাকার অবস্থান ছিল তৃতীয় এবং ২০১৫ সালে এই অবস্থান ছিল অষ্টম।


বিভিন্ন দেশের রাজধানী ও গুরুত্বপূর্ণ ২০৭ টি শহরকে বিবেচনায় নিয়ে এই তালিকা প্রণয়ন করেছে নামবিও। যানজটের জন্য ঢাকার স্কোর ২৯৭.৭৬, আর ২৮৩.৬৮ স্কোর নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে কলকাতা। ২৭৭.৮১ স্কোর নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ভারতের রাজধানী দিল্লি। 


তালিকায় চতুর্থ ও পঞ্চম স্থানে উঠে এসেছে কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবি ও ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তা। যানজটপূর্ণ শহর দুটির স্কোর যথাক্রমে ২৭৭.৬৬ ও ২৭৪.৩৯।


এদিকে ২০১৯ সালেও বিশ্বের সবচেয়ে কম যানজটপূর্ণ শহরের মধ্যে গতবারের শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনা। এরপর রয়েছে চেক রিপাবলিকের শহর বিয়ারনো, ডেনমার্কের কোপেনহেগেন, সুইডেনের গোথেনবার্গ ও জার্মানীর ফ্রাঙ্কফুট।


দুর্গন্ধ বাসে বসে থাকা কষ্টকর


১০ ফেব্রুয়ারি সোনারগাঁ হোটেলের সামনে কথা হয় রাসেল নোমের এক যাত্রীর সাথে তিনি জানান, আমি সাভার থেকে এসেছি কারওয়ান বাজারে কাজ শেষ করে এখন যাবো গুলিস্তানে। এই জ্যামের কারণে এখন সিদ্ধান্ত নিয়েছি হেটেই যাবো।


রাসেল আসেপাসের পথচারীদের নিকট জেনে নিচ্ছেন হেটে কত সময় লাকবে।


কারওয়ান বাজার এলাকায় তাহসিন নামের এক এইচএসসি শিক্ষার্থী জানান, এই যানজটের কারণে আমাদেরও দুর্ভোগের শেষ নেই। জ্যামের কারণে যেখানে ১০মিনিট সময় লাগার কথা সেখানে সময় লাগছে ৪০ থেকে ৫০ মিনিট। বাসের ভিতরও দুর্গন্ধ।  দীর্ঘ সময় বসে থাকা কষ্টকর।


এক পথচারি প্রতিবেদককে জানান, যানজটের কারনে সময় মত অফিসে যেতে পারিনা। ঘন্টারপর ঘন্টা রাস্তাতেই কাটাতে হয়। এভাবে কি চলা যায়?



মোটরবাইকের দখলে ফুটপাত


এদিকে যানজন থেকে রক্ষা পেতে প্রায়ই রাজধানীর ফুটপাতগুলোতে গাড়ি উঠিয়ে দেন বাইক চালকরা। এ ব্যাপারে শক্ত আইন থাকার পরও যেন কোনো কাজ হচ্ছে না।


এমনকি ফুটপাতে বাইক ঠেকাতে সিটি কর্পোরেশনসহ কর্তৃপক্ষ লোহার পাইপ পুতে রাখার পরও যেন থামছে না ফুটপাতে বাইকের দৌরাত্ম।


বিদ্যুৎ নামের এক বাইক শেয়ারিংকারীর (OBHAI) সাথে কথা হয়। তিনি জানান, জ্যামের ভিতর বাস-সিএনজি চালকরা যখন রাস্তার কিনারা চাপিয়ে তাদের গাড়ি রাখে তখনি আমরা ফুটপাতে বাইক তুলে দেই।


“আমাদের জন্য অল্প জায়গা রাখলেই তো হতো। কিন্তু সেটাও যখন পাই না, জ্যামও ছাড়ে না, তখন বাধ্য হয়ে ফুটপাতে উঠতে হয়।”


দুই চাকার যানের জন্য আলাদা একটা লেন করে দিলে খুব ভালো হতো বলেও মত দেন এই বাইক শেয়ারিংকারী।


নিউজ কইরা লাভ নাই


পরিবাগ ওভার ব্রিজের নিচে জ্যামে আটকা সিএনজির চালক জানান, আমি সোনারগাঁ হোটেলের ওখান থেকে আসছি। এটুকু আসতে আমার ২৫ মিনিট লেগেছে। তাহলে ভাবুন যানজট আজ কেমন? 


পাশেই এক বাস চালকের কাছ থেকে জানতে চাইলে তিনি জানান, মিরপর থেকে ঠেলে ঠেলে আসলেন। আসতে তার সময় লেগেছে ২ ঘন্টা ৩০ মিনিট। 


হোটেল সোনারগাঁর সামনের রাস্তায় কর্মরত ট্রাফিক কনস্টেবল আলমগীরকে যানজটের কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, রাস্তার কাজের জন্য রাস্তার দুই পাশে বেরিকেট দিয়ে আটকানোর কারনেই এই যানজট। তিনি আরও বলেন, এইগুলো নিউজ কইরা লাভ নাই। দেখেননা মিরপুর থেকে আসতে ৩/৪ ঘন্টা সময় লাগে।


যানজট নিয়ে  ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (টিআই) করিব বলেন, একটা শহরের মোট আয়তনের ২৫ পার্সেন্ট রাস্তা থাকা দরকার। সে ক্ষেত্রে ঢাকায় রাস্তা আছে ৭ পার্সেন্ট। এর মধ্যে কনস্ট্রাকশন (সংস্কার) আছে।


তিনি আরো বলেন, এখন ঢাকা শহরের মূল সড়কজুড়ে মেট্রোরেলের কাজ চলছে। এর ফলে রাস্তা অনেক সংকোচন হয়েছে। রাস্তার ক্যাপাসিটির (ধারণ ক্ষমতা) তুলনায় অনেকগুন বেশি যানবাহন ও মানুষের সংখ্যা।


অসচেতন পথচারি, চালক, যাত্রী, গাড়ির মালিক সবাই চান কে কার আগে যাবেন। ট্রাফিক আইন মানা না মানা তাদের কাছে মুখ্য বিষয় না।  আর বাংলাদেশে রিক্সা চালক থেকে শুরু করে সবকিছু ঢাকামুখী। যে যেকাজে ছুটছে সবাই চায় আগে যেতে। যার কারনেই এই যানজট।  


“তবে আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করতেছি সচল রাখতে,”ইন্সপেক্টর কবির বলেন।


প্রতিদিন নষ্ট হয় ৩২ কর্মঘণ্টা


২০১৮ সালের বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন বলছে, ১৯৮০ সালে ঢাকার জনসংখ্যা ছিল ৩০ লাখ, বর্তমানে তা ১ কোটি ৮০ লাখ। তাদের মধ্যে ৩৫ লাখ মানুষ বাস করে বস্তিতে।


প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, এই শহরে গাড়ির গতি ঘণ্টায় ৭ কিলোমিটার। শহরে যানজটের কারণে দৈনিক ৩২ লাখ কর্মঘণ্টা নষ্ট হয়। ২০৩৫ সালে বৃহত্তর ঢাকার জনসংখ্যা হবে আড়াই কোটি।


জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল শহরের তালিকায় ১১তম স্থানটি দখল করেছে ঢাকা। ২০১৪ সালে শহরটির জনসংখ্যা ১ কোটি ৭০ লাখের বেশি ছিল। ১৯৯০ সালে এর সংখ্যা ছিল ৯৮ লাখের মতো।


ইউনিভার্সিটি অব টরন্টোর গ্লোবাল সিটিস ইনস্টিটিউশন পরিচালিত এক সমীক্ষায় বলা হয়েছে, ২০৫০ সাল নাগাদ ঢাকা হবে বিশ্বের তৃতীয় জনসংখ্যাবহুল শহর। ওই সময় এর জনসংখ্যা দাঁড়াবে ৩ কোটি ৫২ লাখ। এখানকার গড় তাপমাত্রা ২৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।



১৫ শতাংশের দখলে ৭০ ভাগ সড়ক


ঢাকায় ১৫ ভাগ যাত্রী দখল করে আছেন মোট সড়কের ৭০ ভাগ৷ স্ট্র্যাটেজিক ট্রান্সপোর্ট প্ল্যান বা এসটিপি’র এক জরিপে দেখা যায়, বর্তমানে ঢাকায় কম-বেশি ১৫ ভাগ যাত্রী প্রাইভেট গাড়িতে যাতায়াত করেন৷ এই প্রাইভেট কারের দখলে থাকে ৭০ ভাগেরও বেশি রাস্তা৷ বাকি ৮৫ ভাগ যাত্রী অন্য কোনো ধরনের গণপরিবহন ব্যবহার করেন৷ অর্থাৎ তারা গণপরিবহন সড়কের মাত্র ৩০ ভাগ এলাকা ব্যবহারের সুযোগ পান৷


যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল (ডিআই) প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যক্তিগত গাড়িতে চলাচলকারী ৬ শতাংশ মানুষ ঢাকার ৭৬ ভাগ সড়ক দখল করে আছে।  মোট সড়কের ৬০ থেকে ৬৫ ভাগ ব্যক্তিগত গাড়ির দখলে।  গণপরিবহনের দখলে থাকে ৬ থেকে ৮ শতাংশ।  সড়কের বাকি অংশ বিভিন্নভাবে অবৈধ দখল ও অবৈধ পার্কিংয়ের দখলে থাকে।


নগরায়নের বেকেন্দ্রীকরণ জরুরী


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের প্রফেসর ড. মোহাম্মদ হেলাল টাইমনিউজবিডিকে বলেন, বাংলাদেশের আয়তন ১ লক্ষ ৪৭ হাজার বর্গ কিলোমিটার।  এর মধ্যে ঢাকা জেলার ১৪৬৩.৬০ বর্গ কিলোমিটার বা ৫৬৫ বর্গমাইল, ঢাকা সিটি করপোরেশনের আয়তন ২৭০ বর্গকিলোমিটার।  


“কিন্তু সারা দেশ থেকে মানুষ নানা প্রয়োজনে প্রতিদিন আসছেন এই শহরে। দিন দিন শহরটির ওপর মানুষের চাপ বেড়েই চলছে। এভাবে মানুষের চাপ বাড়তে থাকলে ফ্লাইওভার করেও কোনো লাভ হবে না।”


তিনি বলেন, ঢাকা শহরে অপরিকল্পিত নগরায়ন হয়েছে। সকল সুযোগ-সুবিধাও যেন গড়ে উঠেছে ঢাকাকে কেন্দ্র করে এবং ক্ষমতাও ঢাকাতে কেন্দ্রীভূত। সে জন্য সবাই ঢাকাতেই আসছেন।


২০১৮ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত বিশ্বব্যাংকের সম্মেলনে বলা হয়, বর্তমানে ঢাকার জনসংখ্যা ১ কোটি ৮০ লাখ। ২০৩৫ সালে এই জনসংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে ৩ কোটি ৫০ লাখ হবে।


অধ্যাপক হেলাল আরো বলেন, বাস্তব সীমাবদ্ধতা হলো, আপনি তো আর রাস্তাঘাট বাড়াতে পারবেন না। তাই মানুষ ঢাকার বাইরের বড় বড় বিভাগীয় শহরগুলোতেই যেন তার প্রয়োজন মেটাতে পারেন এবং ঢাকার ওপর মানুষের চাপ যেন কমে সেই ব্যবস্থা করতে হবে।


“আমরা যদি অর্থনৈতিকভাবে ডিসেন্ট্রালাইজেশন না করতে পারি। এই ঢাকা যদি আপনার সকল কেন্দ্রবিন্দু হয়। তাহলে মানুষ আসতেই থাকবেন এবং এই ট্রাফিক জ্যাম এভাবেই থাকবে। আর ট্রাফিক জ্যামে মানুষের যেভাবে কর্মঘণ্টা নষ্ট হয় তা দেশের অর্থনীতির জন্য সবসময়ই ক্ষতিকর।”


বাবলু    

Print