সৌদি কুটনীতিক খালাফ হত্যাকারীর ফাঁসি কার্যকর

কুটনৈতিক প্রতিবেদক
টাইম নিউজ বিডি,
০৪ মার্চ, ২০১৯ ১২:০৭:৪৮
#

ঢাকায় সৌদি দূতাবাসের কর্মকর্তা খালাফ আল আলী হত্যা মামলার আসামি সাইফুল ইসলাম ওরফে মামুনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ কার্যকর করা হয়েছে।


রোববার রাত ১০টা ১ মিনিটে গাজীপুরের কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারে তাঁর মৃত্যুদণ্ডাদেশ কার্যকর করা হয় বলে কারাগার সূত্র নিশ্চিত করেছে।


আসামি সাইফুলের বাড়ি বাগেরহাটের শরণখোলা থানার মধ্য খোন্তাকাটা এলাকায়। রাতেই ময়নাতদন্ত শেষে তাঁর লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।


সাইফুলের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার পর কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনে জ্যেষ্ঠ জেল সুপার শাহজাহান আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, সকল বিধি-বিধান ও প্রক্রিয়া মেনে সৌদি দূতাবাস কর্মকর্তা খালাফ আল আলী হত্যা মামলার আসামি সাইফুলের মৃত্যুদণ্ডাদেশ কার্যকর করা হয়।


কারাগারের চিকিৎসক মো. মিজানুর রহমান জানান, রোববার দুপুরে তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়েছে। তিনি তখন সুস্থ ও স্বাভাবিক ছিলেন।


কারা কর্তৃপক্ষ আরো জানায়, দুপুরে সাইফুলের মা, ভাই ও বোনসহ ১০জন স্বজন তার সঙ্গে দেখা করেছেন। রাজু নামের বন্দি জল্লাদ রাত ১০টা ১মিনিটে সময় ফাঁসি মঞ্চের লিভার টেনে তার ফাঁসি কার্যকর করেন।


চিকিৎসকরা সাইফুলের মৃত্যু নিশ্চিতের পর আনুসাঙ্গিক কাজ শেষে তার স্বজনদের কাছে লাশ হাস্তান্তর করা হয়।


২০১২ সালের ৫ মার্চ রাজধানীর গুলশানে গুলিবিদ্ধ হন খালাফ আল আলী। পরদিন ভোরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।


খালাফ হত্যার ঘটনায় ৭ মার্চ গুলশান থানায় মামলা করে পুলিশ। একই বছরের ৩০ ডিসেম্বর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪ মামলার রায়ে পাঁচজনকে মৃত্যুদণ্ড দেন।


নিম্ন আদালতের রায়ের পর আসামিদের মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদনের (ডেথ রেফারেন্স) জন্য হাইকোর্টে আসে। নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আসামিরা আপিল করেন।


এর ওপর শুনানি শেষে ২০১৩ সালের ১৮ নভেম্বর হাইকোর্ট রায় দেন। রায়ে আসামি সাইফুল ইসলামের মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকে। মো. আল আমিন, আকবর আলী ওরফে রবি, রফিকুল ইসলাম খোকনকে মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। খালাস পান অপর আসামি সেলিম চৌধুরী ওরফে সেলিম আহম্মেদ।


মৃত্যুদণ্ডাদেশের রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে আসামি সাইফুল ইসলামের করা আবেদন ২০১৮ সালের ৭ অক্টোবর খারিজ করে দেন আপিল বিভাগ।


কেবি

Print