‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কারণেই রোহিঙ্গা গণহত্যা ঠেকানো সম্ভব হয়নি’

স্টাফ রিপোর্টার
টাইম নিউজ বিডি,
২৫ মার্চ, ২০১৯ ০২:৫১:৪৯
#

জাতিসংঘের গণহত্যা বিষয়ক বিশেষ দূত আদামা দিয়েং বলেছেন, জাতিসঙ্ঘের আগাম সতর্কতা আমলে নিলে মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গাদের গণহত্যা ঠেকানো সম্ভব ছিল। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অকার্যকর ভূমিকার কারণেই এ গণহত্যা ঠেকানো সম্ভব হয়নি।


আজ (২৪ মার্চ) রোববার বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অফ ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজে ‘১৯৭১-এ বাংলাদেশে গণহত্যা’শীর্ষক এক সেমিনারে তিনি এই কথা বলেন।


এই ইস্যুটি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলের উপেক্ষার অভিযোগ করে আদামা দিয়েং বলেন, “রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে নির্মমতা শুরু হওয়ার আগে আমরা কয়েক দফা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সতর্ক করেছি। আমাদের আগাম সতর্কতা আমলে নিলে এই গণহত্যা ঠেকানো সম্ভব ছিল।”


রোহিঙ্গা ইস্যু প্রসঙ্গে দিয়েং আরও বলেন, “রোহিঙ্গা ইস্যুটি আন্তর্জাতিক আদালতে উপস্থাপন করার সময় এটিকে গণহত্যা হিসেবে অভিহিত করা হবে।”


বাংলাদেশে ১৯৭১ সালে সংঘটিত গণহত্যার প্রসঙ্গে জাতিসংঘের বিশেষ দূত বলেন, “এখানে আমার উপস্থিতির জন্য এটি মনে করার কারণ নেই যে, ১৯৭১ সালে যা ঘটেছিল জাতিসংঘ তার স্বীকৃতি দিচ্ছে। এ বিষয়ে বলার সঠিক ব্যক্তি আমি নই। আমি সামনের দিনগুলোতে কী ঘটতে পারে সেসব বিষয় নিয়ে কাজ করি।”


নিজেকে ১৯৭১ সালে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি সহানুভূতিশীল হিসেবে অভিহিত করে দিয়েং বলেন, “গণহত্যার জন্য কোর্ট অফ জাস্টিসের স্বীকৃতি দরকার।”


সারা বিশ্বের চিত্র তুলে ধরে তিনি অসহিষ্ণুতার প্রতি ইঙ্গিত করে জাতিসংঘের বিশেষ দূত বলেন, “পৃথিবীর কোনও দেশের এ থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায় নেই। ১৯৯০-এর প্রথম দিকে কেউ বিশ্বাস করেনি যে, ইউরোপে গণহত্যা হতে পারে। কিন্তু স্রেব্রেনিস্তাতে গণহত্যা হয়েছে। ৩০-এর দশকে যে অসহিষ্ণুতা দেখা গিয়েছিল সেটি এখন আবার পরিলক্ষিত হচ্ছে এবং চরমপন্থীদের উত্থান দেখা যাচ্ছে।”


সেমিনারে ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলাম বলেন, “১৯৫ জন পাকিস্তানি সামরিক অফিসারের বিচার করার বিষয়ে ঐক্যমত্য ছিল। কিন্তু একজনকেও বিচারের আওতায় আনা হয়নি। জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপ ছিল ওই সৈনিকদের ফেরত পাঠানোর জন্য।”


পররাষ্ট্র সচিব এম শহীদুল হক সেমিনারের সভাপতিত্ব করেন। এছাড়া, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের অ্যাডভাইজরি বোর্ডের সদস্য মফিদুল হক, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অফ ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের চেয়ারম্যান মুন্সি ফায়েজ আহমেদ ও  মহাপরিচালক কেএম আবদুর রহমান এই সময় বক্তব্য রাখেন।


এমবি

Print