সিনেটরকে ডিম নিক্ষেপের কারণ জানালো সেই তরুণ

টাইম ডেস্ক
টাইম নিউজ বিডি,
২৭ মার্চ, ২০১৯ ১৬:৩০:৫৪
#

নিউজিল্যান্ডের দুই মসজিদে গুলি করে ৫০ মুসল্লিকে হত্যার জন্য উল্টো মুসলিমদের দায়ী করা অস্ট্রেলীয় সিনেটরকে ডিম নিক্ষেপ করে দুনিয়াজুড়ে আলোচনায় আসে অস্ট্রেলিয়ার উইল কনোলি। ওই ঘটনার নয় দিনের মাথায় প্রথমবারের মতো বিষয়টি নিয়ে সংবাদমাধ্যমে কথা বলেছে ১৭ বছরের এ তরুণ।


অস্ট্রেলিয়ার সম্প্রচারমাধ্যম চ্যানেল টেনকে দেয়া সাক্ষাৎকারে নিজেকে ‘মানবতাবাদী’ হিসেবে তুলে ধরেন এই অদম্য সাহসী তরুণ। তিনি জানান, এক ঘণ্টা ধরে ওই সিনেটরের বক্তব্য শোনার পরই তার মাথায় ডিম ছোড়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। উইল কনোলির ভাষায়, ‘কাউকে শারীরিকভাবে আক্রমণের কোনো কারণ নেই। এটা বুঝতে পারছি যে, আমি যা করেছি তা ঠিক হয়নি। তবে সেই ডিম জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করেছে।’


উইল কনোলি বলেন, সিনেটরের বক্তব্যের প্রতিবাদ করায় মা খুশি হয়েছেন। তবে আমার প্রতিবাদের ধরন তিনি মেনে নিতে পারেননি। ১৭ বছরের এই তরুণ বলেন, ‘তিনি এভাবে আমার দিকে তেড়ে আসবেন, এটা আমার চিন্তায়ও ছিল না। ভাবছিলাম হেঁটেই সেখান থেকে সরে যাবো। তবে এ ঘটনা যে এতটা আলোড়ন তৈরি করবে, তা ছিল আমার চিন্তার বাইরে।’
উইল কনোলি বলেন, আমার ধারণা ছিল বন্ধুরা এ ঘটনায় মজা করবে। তবে বাস্তবে সবাই মসজিদে হামলার চেয়ে এ ঘটনার প্রতি বেশি মনোযোগী হয়ে উঠল। প্রকৃতপক্ষে মসজিদে হামলার শিকার ব্যক্তিদের দিকে আমাদের বেশি মনোযোগ দেয়া উচিত। চ্যানেল টেনকে দেয়া সাক্ষাৎকারে রাজনীতির সাথে নিজের কোনো সম্পর্ক নেই বলেও জানান নিজেকে ‘মানবতাবাদী’ হিসেবে তুলে ধরা এই অদম্য সাহসী তরুণ।


২০১৯ সালের ১৫ মার্চ পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী, নিউজিল্যান্ডের দুই মসজিদে গুলি চালিয়ে ৫০ মুসল্লিকে হত্যা করে উগ্র মুসলিমবিদ্বেষী অস্ট্রেলীয় নাগরিক ব্রেন্টন ট্যারান্ট। পরে এ হত্যাকাণ্ডের জন্য উল্টো মুসলমানদেরই দায়ী করেন অস্ট্রেলীয় সিনেটর ফ্রেজার অ্যানিং। তার দাবি, মুসলিমরা নিউজিল্যান্ডে প্রবেশের সুযোগ পেয়েছে বলেই সেখানে সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। হামলার পরদিন ১৬ মার্চ এক রাজনৈতিক কর্মসূচিতে যোগ দিতে গিয়ে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলছিলেন অ্যানিং। সেখানেই তার মাথায় ডিম ছুড়ে মারে ১৭ বছরের উইল কনোলি। এতে ক্ষুব্ধ সিনেটর ঘুরে দাঁড়িয়ে তাৎক্ষণিক কিশোরটিকে আঘাত করতে থাকেন। অন্তত একটি চড় কিশোরটির মাথায় লাগে। পরে উইল কনোলিকে গ্রেফতার করা হয়।
সিনেটরের মার খেয়ে গ্রেফতার হলেও ওই ঘটনার ভিডিও সোস্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়লে দুনিয়াজুড়ে হিরো উপাধি পান উইল কনোলি। আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে তাকে মুক্ত করতে অনলাইনে তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগ নেয়া হয়। ক্রাউডফান্ডিং সাইট ‘গো ফান্ড মি’র মাধ্যমে দুই হাজার ডলার সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও ইতোমধ্যেই সেখানে প্রায় ৪২ হাজার ডলার জমা পড়েছে। ইতোমধ্যে অনলাইনে এই তহবিল সংগ্রহের উদ্যোক্তাকে উইল কনোলি জানিয়ে দিয়েছেন, এই অর্থের বড় অংশটি ক্রাইস্টচার্চের মসজিদে সন্ত্রাসী হামলায় নিহতদের দিয়ে দিতে তিনি অঙ্গীকারবদ্ধ।


কোনো অভিযোগ গঠন ছাড়াই অবশ্য শেষ পর্যন্ত কারামুক্তি পান উইল কনোলি। মুক্তির পর টুইটারে দেয়া এক ভিডিওবার্তায় তিনি বলেন, ‘রাজনীতিকদের ডিম মারবেন না। এতে আপনাকে ৩০ জন বোগোন্সকে (নিম্নশ্রেণির লোক) মোকাবিলা করতে হবে। আমার কঠিন শিক্ষা হয়ে গেছে।’ ‘৩০ জন নিম্নশ্রেণির লোক’ বলতে প্রকৃতপক্ষে উইল কনোলি সিনেটর ফ্রেজার অ্যানিংয়ের নিরাপত্তারক্ষীদের ব্যঙ্গাত্মকভাবে উদ্দেশ্য করেছেন। টুইটারে দেয়া পোস্টে তার প্রতি ভালোবাসা ও সমর্থনের জন্য সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন উইল কনোলি।


তিনি বলেন, একজন মানুষ হিসেবে ওই মুহূর্তটিতে আমি গর্বিত অনুভব করেছি। আপনাদের বলতে চাই, মুসলমানরা সন্ত্রাসী নয় এবং সন্ত্রাসবাদের কোনো ধর্ম নেই। মুসলমানদের যারা সন্ত্রাসী সম্প্রদায় মনে করে, তাদের মাথা অ্যানিংয়ের মতোই শূন্য।


এদিকে বর্ণবাদী সিনেটরের মাথায় ডিম ছুড়ে সোস্যাল মিডিয়ায় রীতিমতো তারকা বনে গেছেন উইল কনোলি। ওই ঘটনার পর ইনস্টাগ্রাম ও টুইটারে তার ফলোয়ার সংখ্যা হু হু করে বাড়তে শুরু করেছে। এরই মধ্যে ইনস্টাগ্রামে তার ফলোয়ার সংখ্যা তিন লাখ ছাড়িয়েছে। সূত্র : রয়টার্স


জেড

Print