আন্তর্জাতিক আপরাধ আদালতের প্রধান কৌঁসুলির ভিসা বাতিল

টাইম ডেস্ক
টাইম নিউজ বিডি,
০৬ এপ্রিল, ২০১৯ ১৬:৩০:৫৩
#

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) প্রধান কৌঁসুলি ফাতু বেনসুদার ভিসা বাতিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র।


আফগানিস্তানে মার্কিন সৈন্যদের হাতে সংঘটিত সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধ তদন্তে আগ্রহ প্রকাশের পরই এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপের জবাবে গাম্বিয়ার নাগরিক বেনসুদা বলেছেন, কোনো ভয়ভীতি বা পক্ষালম্বন ব্যতিত তিনি বৈশ্বিক আদালতের পক্ষে নিজের দায়িত্ব চালিয়ে যাবেন। আরও বলেছেন, তিনি এরপরও যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাবেন। নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সদরদপ্তরে তার প্রবেশাধিকার রহিত করে নি যুক্তরাষ্ট্র। এ খবর দিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান।


খবরে বলা হয়, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর কোনো একক ব্যক্তিবিশেষের ঘটনায় মন্তব্য করে না। তবে গত মাসে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, আইসিসির কোনো কর্মকর্তা যদি মার্কিন অথবা মিত্র বাহিনীর কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে তদন্ত করে থাকেন, তাহলে তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে।


আইসিসির সঙ্গে সহযোগিতা না করার যে নীতি রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের, তা যেন আরও কঠোর করার ইঙ্গিত দিয়েছে বর্তমান মার্কিন প্রশাসন।


পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র নিজের সার্বভৌমত্ব সুরক্ষিত করা এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের কোনো অন্যায় তদন্ত বা মামলা থেকে আমাদের জনগণকে রক্ষা করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।’ ওই মুখপাত্র আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট দেশের সম্মতি ব্যতীত যুক্তরাষ্ট্র বা মিত্র দেশগুলোর কোনো সৈন্যের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্ত চালাতে আইসিসির যেকোনো প্রচেষ্টার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত হতে চান, এমন কোনো কর্মকর্তাকে ভিসা দেওয়া হবে না। তবে জাতিসংঘে কোনো কাজের উদ্দেশ্যে কেউ জাতিসংঘ দপ্তরে যেতে চাইলে তাকে বাধা দেওয়া হবে না।


২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র এই বৈশ্বিক আদালতকে স্বীকৃতি দেওয়া থেকে বিরত থেকেছে। ফলে এই আদালতের কর্তৃত্ব ক্ষুণ্ন হয়েছে। অনেক দেশই (বিশেষত আফ্রিকার) এই আদালত থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করার সুযোগ পেয়েছে। ২০১৭ সালে বুরুন্ডি প্রথম দেশ হিসেবে আইসিসি ত্যাগ করে।


বর্তমান মার্কিন প্রশাসন বহুজাতিক সংস্থার কর্তৃত্ব বা গ্রহণযোগ্যতাকে খাটো করে দেখানোর নীতি গ্রহণ করেছে। সম্প্রতি, পম্পেও জি৭ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলনে যোগ না দিয়ে, তার ডেপুট জন সুলিভানকে পাঠিয়েছেন।


এদিকে বেনসুদার কার্যালয় থেকে বলা হয়েছে, রোম সনদ মোতাবেক এ ধরণের তদন্ত পরিচালনার স্বাধীন ও নিরপেক্ষ ম্যান্ডেট তার রয়েছে।


আফগানিস্তানে তালেবান, আফগান সরকারি বাহিনী ও মার্কিন সহ আন্তর্জাতিক বাহিনীর সদস্যদের কথিত যুদ্ধাপরাধ তদন্ত চালুর জন্য ২০১৭ সালে আদালতের বিচারকদের কাছ থেকে অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন। এই তদন্তে আফগানিস্তানের বিভিন্ন বন্দিশালায় মার্কিন গুপ্তচর সংস্থা সিআইএ’র কর্মকান্ডও খতিয়ে দেখা হবে। তবে পরিপূর্ণ তদন্ত শুরু হবে কিনা সে ব্যাপারে আদালত এখনও সিদ্ধান্ত দেয়নি।


১৫ই মার্চ পম্পেও বলেন, আইসিসি যুক্তরাষ্ট্রের আইনের শাসনকে আক্রমণ করছে। ওই ঘোষণাতেই তিনি এই সম্ভাব্য তদন্তের সঙ্গে সম্পৃক্ত আইসিসি কর্মকর্তাদের ভিসা না দেওয়ার নীতি ঘোষণা করেন। গত সেপ্টেম্বরে মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন আইসিসি’র বিরুদ্ধে কড়া ভাষায় বক্তব্য দেন। তিনি এই আদালতকে অবৈধ ও যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যবোধের পরিপন্থী বলে ঘোষণা দেন। ওই ভাষণে বোল্টন এমনকি আইসিসি’র বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা ও অবরোধ এবং সংস্থাটির কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে বিচার শুরু করার হুমকি দেন। এক্ষেত্রে আফগানিস্তানে মার্কিন সামরিক বা গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের বিরুদ্ধে কিংবা ইসরাইল বা কোনো মার্কিন মিত্রের বিরুদ্ধে আইসিসি তদন্ত অব্যাহত রাখলে এমন চরম ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দেন বোল্টন।


জেড

Print