নিজ বাড়ি ফিরলো নুসরাতের নিথর দেহ  

ফেনী করেসপন্ডেন্ট
টাইম নিউজ বিডি,
১১ এপ্রিল, ২০১৯ ২৩:০৫:৫১
#

অগ্নিদগ্ধ হয়ে ঢামেকে মৃত্যুবরণ করা ফেনীর সোনাগাজীতে আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফির (১৮) মরদেহ বাড়ি পৌঁছেছে।


আজ (১১ এপ্রিল) বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টার দিকে তার মরদেহ পৌঁছায়। এখানেই পারিবারিক কবরস্থানে তিনি চিরনিদ্রায় শায়িত হবেন।


এর আগে দুপুরে ঢাকা মেডিকেলে নুসরাতের ময়নাতদন্ত হয়। তারপর তার লাশ নিয়ে ফেনী উদ্দেশে রওনা হন স্বজনরা।


নুসরাতের মরদেহ পৌঁছানোর আগেই তার বাড়ির চারপাশে হাজারো মানুষ জড়ো হন।


জানা যায়, সোনাগাজী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে তার জানাযার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে।


দুর্বৃত্তের দেয়া আগুনে নুসরাতের শরীরের ৮০ শতাংশ পুড়ে যায়। টানা পাঁচদিন লড়াই করে অবশেষে বুধবার রাত সাড়ে ৯টায় নুসরাতের মৃত্যু হয়।


নুসরাত জাহান রাফি এবার সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসা থেকে আলিম (এইচএসসি সমমান) পরীক্ষা দিচ্ছিলেন। তিনি সোনাগাজীর উত্তর চরচান্দিয়া গ্রামের মাওলানা এ কে এম মুসা মানিকের মেয়ে। তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি তৃতীয়।


গত ০৬ এপ্রিল (শনিবার) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নুসরাত জাহান রাফি (১৮) আলিম (এইচএসসি সমমান) আরবি প্রথমপত্র পরীক্ষা দিতে যান। এরপর কৌশলে তাকে পাশের ভবনের ছাদে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে ৪/৫ জন বোরকা পরিহিত দৃর্বৃত্ত ওই ছাত্রীর শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুর ধরিয়ে দেয়। এতে তার শরীরের ৮০ শতাংশ পুড়ে যায়।


তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ফেনী সদর হাসপাতাল থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়েছে।


পরিবারের অভিযোগ, মাদ্রাসার অধ্যক্ষ এস এম সিরাজউদ্দৌলা গত ২৭ মার্চ নুসরাত জাহানের শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন। নুসরাত বিষয়টি বাসায় জানালে তাঁদের মা সোনাগাজী থানায় মামলা করেন। ওই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে সোনাগাজী থানা পুলিশ অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলাকে গ্রেফতার করে।


এরপর মামলা প্রত্যাহারের জন্য নুসরাতকে চাপ দেয় সিরাজউদ্দৌলার লোকজন। কিন্তু নুসরাত অপারগতা প্রকাশ করেন। এই অবস্থায় আলিম পরীক্ষা শুরুর দিন থেকে ভাই নোমান নুসরাতকে পরীক্ষার হলে বসিয়ে দিয়ে আসতেন। ঘটনার দিনও তিনি তাই করেন।


এমবি    

Print