ছাত্রলীগ নেতার প্রেম প্রত্যাখ্যান করায় নুসরাতকে পুড়িয়ে হত্যা: পিবিআই

স্টাফ রিপোর্টার
টাইম নিউজ বিডি,
১৩ এপ্রিল, ২০১৯ ২২:২৬:৩৯
#

অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাকে হেয় ও শাহাদাত হোসেন শামীমের প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি (১৮) কে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।


শাহাদাত হোসেন শামীম সোনাগাজী ইসলামীয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার ছাত্রলীগের সভাপতি।


আজ (১৩ এপ্রিল) শনিবার দুপুরে রাজধানীর ধানমন্ডিতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান পিবিআই প্রধান বনোজ কুমার মজুমদার।  


তিনি জানান, নুসরাত জাহান রাফিকে পরিকল্পনা করে আগুন দিয়ে হত্যার কথা স্বীকার করেছে আসামি নূর উদ্দিন। জবানবন্দিতে তিনি জানায়, অপারেশনে বোরখা পরিহিতের মধ্যে ওই মাদ্রাসার দুই জন ছেলে আর বাকি দুইজন মেয়ে ছিল।  ৪ জনের মধ্যে শাহদাত হোসেন শামীমকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আর শম্পা বা চম্পা নামে যে ছিল তাকেও গ্রেফতার করা হয়েছে।


ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার বলেন, “নুসরাত জাহান রাফির গায়ে আগুন দেওয়ার আগে অনেক কাহিনী আছে। সবকিছু তদন্তের স্বার্থে এই মুহূর্তে বলা ঠিক হবে না। তবে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার মুক্তির পক্ষে যারা ছিলেন, তাদের মধ্যে নূরউদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীমসহ কয়েকজন জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেয় ৪ এপ্রিল। স্মারকলিপি দিয়ে ওই দিনই কারাগারে সিরাজ উদ দৌলার সঙ্গে দেখা করে। সেখানে গিয়ে রাফিকে হত্যার নির্দেশ নিয়ে আসে।”


পিবিআই’র ডিআইজি আরও বলেন, “সোনাগাজী মাদ্রাসার পাশে দু’টি হোস্টেল আছে। সেখানকার পশ্চিম হোস্টেলে ছিল নূরউদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, জাবেদ হোসেন, হাফেজ আবদুল কাদেরসহ পাঁচজন। পরদিন ৫ এপ্রিল তারা সেখানে বসে পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনাতে তারা সিদ্ধান্ত নেয়, রাফিকে পুড়িয়ে মারা হবে। এই সিদ্ধান্ত তারা নেয় দু’টি কারণে। প্রথমত, মাদ্রাসার অধ্যক্ষসহ আলেম সমাজকে হেয় করেছে নুসরাত। দ্বিতীয়ত, শাহাদাত দফায় দফায় প্রেমের প্রস্তাব দিয়েছে রাফিকে। কিন্তু রাফি শামীমের সেই প্রস্তাব বারবার প্রত্যাখ্যান করে। এই কারণে রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে মারার প্রথম প্রস্তাবটি দেয় শামীম।”


“পরিকল্পনার বিষয়টি পরে আরও ৫ জনের সঙ্গে শেয়ার করে তারা। তাদের মধ্যে ২জন মেয়ে। তারা ওই মাদ্রাসারই ছাত্রী। সেই ২ মেয়ের একজনকে দায়িত্ব দেওয়া হয় ৩টা বোরকা ও কেরোসিন আনার জন্য। পরিকল্পনা অনুযায়ী, মেয়েটি বোরকা ও কেরোসিন সরবরাহ করে শামীমের কাছে। এরপরই তারা ৬ এপ্রিল পরিকল্পনার অংশ হিসেবে রাফির শরীরে আগুন দেয়।” বলেন পিবিআই প্রধান।


এমবি  

Print