‘বাংলাদেশের কাছে অস্ত্র বিক্রি করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র’

টাইম ডেস্ক
টাইম নিউজ বিডি,
১৪ এপ্রিল, ২০১৯ ১৬:৩১:৪০
#

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের কাছে অস্ত্র বিক্রি করতে চায়। সদ্য সমাপ্ত ওয়াশিংটন সফরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেনের সঙ্গে বৈঠকে স্টেট ডিপার্টমেন্টের কর্মকর্তারা এমন আগ্রহ ব্যক্ত করেছেন।


ঢাকায় ফিরে শুক্রবার সফররত ভুটানিজ প্রধানমন্ত্রী লোটে শেরিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে বলেন, স্টেট ডিপার্টমেন্টে সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের একটি বৈঠকে তার কাছে মার্কিন কর্মকর্তারা জানতে চান- বাংলাদেশ কেন যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে প্রতিরক্ষা সরঞ্জামাদি কেনে না?


মন্ত্রীকে উদ্দেশ্যে করে তারা বলেন, আপনারা অন্য দেশ থেকে কিনেন। জবাবে মোমেন বলেন, অবশ্যই আমরা কিনবো, যদি তোমরা এটাকে আমাদের সাধ্যের মধ্যে নিয়ে আসো। মন্ত্রী আরও সুনির্দিষ্টভাবে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সরঞ্জামাদি বিক্রেতারা অনেক ক্ষেত্রে মূল্য বাড়িয়ে দেয়। যদি তোমরা এটা না করো এবং আমাদের একটি স্পেশাল প্রাইস অফার করো তাহলে অবশ্যই আমরা কিনবো।


যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা পণ্যের দাম অনেক বেশি উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সাধারণত চীন ও রাশিয়ার কাছ থেকে অস্ত্র এবং অন্যান্য প্রতিরক্ষা সরঞ্জামাদি কিনে থাকে। দেশ দু’টির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদ্বন্দ্বিতা রয়েছে।


তবে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে অস্ত্র কিনতে আমাদের কোন সমস্যা নেই। ৪ দিনের যুক্তরাষ্ট্র সফরে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওসহ স্টেট ডিপার্টমেন্টের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। আলোচনা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপ-প্রধান, সিনেটর এবং আমেরিকান দাতব্য সংস্থা ইউএসএআইডি প্রশাসকের সঙ্গেও।


মোমেন বাংলাদেশে মার্কিন বিনিয়োগ এবং বাণিজ্য বাড়ানো বিশেষত সম্ভাবনাময় এনার্জি সেক্টরে দেশটির বিদ্যমান বিনিয়োগ কয়েক গুণ বৃদ্ধির উপায় নিয়ে কথা বলেছেন। মন্ত্রী মোমেন মার্কিন কর্মকর্তাদের বলেন, বাংলাদেশ সব সময় বাণিজ্য ও বিনিয়োগে বৈচিত্র্যময়তাকে উৎসাহিত করে। এ সময় চীনের বহুমাত্রিক উন্নয়ন এজেন্ডা ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’-এর প্রসঙ্গ ওঠে। মোমেন বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এ বিষয়ে সম্যক অবগত। মন্ত্রী জানান, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাকে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তাবিত ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যটেজির মাধ্যমে আপনারা অবকাঠামো উন্নয়নে এগিয়ে আসতে পারেন।


এতে আমরা উভয়ে লাভবান হবো। আমরা সবার সঙ্গেই ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক রাখি। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও’র সঙ্গে বৈঠক প্রসঙ্গে মোমেন বলেন, আমি তাকে বলেছি, বাংলাদেশের অর্থনীতি এগিয়ে চলেছে, এখন সময় তোমার (যুক্তরাষ্ট্র) আমাদের সঙ্গে যোগদানের। যদি তোমরা আমাদের সঙ্গে যুক্ত না হও, তাহলে বাজার হারাবা। যদি তোমাদের লোকজন অর্থ কামাই করতে চায়, তাহলে তাদের এখনই বাংলাদেশে আসা উচিত। যদি তারা না আসে, তাহলে তারা বাস মিস করবে।

Print