বৈশাখী আমেজে মেতেছে ইবি

ইবি করেসপন্ডেন্ট
টাইম নিউজ বিডি,
১৪ এপ্রিল, ২০১৯ ২২:০০:৪৪
#

‘এসো এসো, এসো হে বৈশাখ। তাপসনিশ্বসবায়ে মুমূর্ষুরে দাও উড়ায়ে, বৎসরের আবর্জনা দূর হয়ে যাক।’কবিগুরুর এই আহ্বানের সাথে সুর মিলিয়ে সারাদেশের মতো ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) ও মেতেছে নববর্ষকে স্বাগত জানানোর আমেজে। নতুন বছররের আগমনকে ঘিরে নতুনভাবে জেগে উঠেছে ১৭৫ একরের সবুজ চত্বর। নববর্ষকে স্বাগত জানাতে চারদিক আজ সেজেছে নতুন সাজে। সবুজ ক্যাম্পাসকে লাল, সাদার বাঙ্গালিয়ানা সাজ যেন দিয়েছে নতুন রুপ।


নববর্ষের আগমনী গানে সাড়া দিয়ে বৈশাখী শাড়িতে  সেজেছে তরুনীরা। গালে শোভা পেয়েছে রংতুলির মনকাঁড়া আল্পনা।  তরুনদের বসনেও বৈশাখী ছোঁয়া।  বাদ যায়নি শিশু-কিশোর কিংবা বৃদ্ধরাও। ক্যাম্পাসের প্রতিটি প্রাঙ্গন মুখর হয়ে উঠেছে বৈশাখী সাজে সজ্জিত তরুন-তরুনীদের পদচারণায়। তিনদিন ব্যাপী মেলার আয়োজনে ক্যাম্পাসে বিরাজ করছে উৎসব মুখর পরিবেশ।  


বাংলা নববর্ষ ১৪২৬ কে বরণ করে নিতে পহেলা বৈশাখে রোববার সকাল সাড়ে ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে এক বর্ণাঢ্য ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’বের হয়। উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন-উর-রশিদ আসকারীর নেতৃত্বে শোভাযাত্রায় উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. শাহিনুর রহমান, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সেলিম তোহা ও রেজিস্ট্রার ড. এস এম আব্দুল লতিফ প্রমুখ।


শোভাযাত্রাটি প্রশাসন ভবন থেকে শুরু হয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে আমতলায় মেলা প্রাঙ্গনে গিয়ে শেষ হয়। শোভাযাত্রায় বিভিন্ন বিভাগ ও সংগঠন নিজেদেরকে বাঙ্গালী সংস্কৃতিতে ফুটিয়ে তুলে অংশগ্রহন করে। শোভাযাত্রা শেষে আমতলার বাংলা মঞ্চে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনদিনব্যাপী মেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন-উর-রশিদ আসকারী।


ল এন্ড ল্যান্ড ম্যানেজমেন্ট বিভাগের প্রভাষক বনানী আফরিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন  অধ্যাপক ড. রেজওয়ানুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপচার্য অধ্যাপক ড. শাহিনুর রহমান, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সেলিম তোহা। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন রেজিস্ট্রার ড. এস এম আব্দুল লতিফ, ছাত্র-উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. পরেশ চন্দ্র বর্মণ, প্রক্টর(ভারঃ) ড. আনিচুর রহমান, ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি বিভাগের সভাপকি অধ্যাপক ড মাহবুবল আরফিন, মার্কেটিং বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড মোঃ জাকারিয়া রহমান, ইইই বিভাগের অধ্যাপক ড মোঃ মাহবুবর রহমান, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) এ.কে.আজাদ লাভলু প্রমুখ।


অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য বলেন, “সংস্কৃতিক হচ্ছে বেগবান যা চর্চার বিষয়। আর এই চর্চাটি হয় পহেলা বৈশাখের সার্বজনীন উৎসব বর্ষবরনের মধ্যে দিয়ে। পহেলা বৈশাখ হচ্ছে বাঙালী সংস্কৃতির প্রাণের উৎসব যেখানে নেই কোন ভেদাভেদ ও বিভাজন। সকল ধর্ম,বর্ণ, পেশার মানুষ এই দিনে সম্প্রতির বন্ধনে মেতে উঠে। পহেলা বৈশাখের অন্যতম আকর্ষন হচ্ছে মঙ্গল শোভাযাএা, যা আজ সকল অমঙ্গলকে বিদায় করে দিয়েছে। তাই মঙ্গল শোভাযাএা সমাজের বিশেষ কোন শ্রেনীর বা পেশার মানুষের জন্য নয় বরং তা সার্বজনীন যেখানে সকল ভেদাভেদ ভুলে জাতি, বর্ণ, ধর্ম নির্বিশেষে সমাজের সকল স্তরের মানুষ স্বর্তস্ফুতভাবে প্রাণের উৎসবে মিলিত হয়।”


মুনজুরুল/এমবি   

Print