বিজিএমইএর প্রেসিডেন্টকে আইনি নোটিশ, ৭২ ঘণ্টার আলটিমেটাম

স্টাফ রিপোর্টার
টাইম নিউজ বিডি,
১৮ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:২৫:১১
#

মুচলেকা দেয়ার পরও ভবন ভাঙতে পুনরায় সময় চেয়ে করা আবেদন প্রত্যাহার করতে বিজিএমইএ প্রেসিডেন্টকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।


বিজিএমইএ’র প্রেসিডেন্টকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তাদের আবেদন প্রত্যাহার করতে বলা হয়েছে। অন্যথায় তাদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা করা হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।


বুধবার রেজিস্ট্রি ডাকযোগে সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী মনজিল মোরসেদ এ নোটিশ পাঠান। এর আগে গত ১২ এপ্রিল বিজিএমইএ ভবন ভাঙতে আপিল বিভাগের দেয়া সময় শেষ হয়। ১১ এপ্রিল ভবন ভাঙতে পুনরায় একবছর সময় চেয়ে পুনরায় আবেদন করে বিজিএমইএ। বিজিএমইএ প্রেসিডেন্ট উল্লেখ করে এ আবেদন করা হয়।


অথচ বিজিএমইএ আর সময় চাইবে না বলে মুচলেকা দিয়েছিল। তাই পুনরায় এক বছর চেয়ে করা বিজিএমইএ’র আবেদন প্রত্যাহার চেয়ে এ নোটিশ পাঠানো হয়।


১৯৯৮ সালের ২৮ নভেম্বর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিজিএমইএ ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। নির্মাণ শেষ হলে ২০০৬ সালের ৮ অক্টোবর ভবনটির উদ্বোধন করেন সে সময়কার প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। এরপর থেকে এটি বিজিএমইএ’র প্রধান কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।


কিন্ত রাজউকের অনুমোদন ছাড়াই কারওয়ান বাজার সংলগ্ন বেগুনবাড়ি খালে বিজিএমইএ ভবন নির্মাণ করা হয়েছে উল্লেখ করে ২০১০ সালের ২ অক্টোবর একটি ইংরেজি দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদন আদালতের নজরে আসে। ২০১১ সালের ৩ এপ্রিল বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরীর নেতৃত্বে হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলের রায়ে বিজিএমইএ ভবন ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেন।


ভবনটি নির্মাণের আগে ওই স্থানের ভূমি যে অবস্থায় ছিল সে অবস্থায় ফিরিয়ে আনতেও নির্দেশ দেন বিজিএমইএকে। একই বছরের ৫ এপ্রিল বিজিএমইএ’র আবেদনে হাইকোর্টের রায় ছয় মাসের জন্য স্থগিত করেন আপিল বিভাগ। পরবর্তী সময়ে স্থগিতাদেশের মেয়াদ আরও বাড়ান সর্বোচ্চ আদালত।


হাইকোর্টের রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশের পর লিভ টু আপিল করে বিজিএমইএ কর্তৃপক্ষ। ২০১৬ সালের ২ জুন তা খারিজ হয়ে যায়। পরে আপিল বিভাগ তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দুই দফায় ২০১৮ সালের ১২ এপ্রিল পর্যন্ত সময় দেন।


এ সময় শেষ হওয়ার আগেই তারা আরও এক বছর সময় চেয়ে আবেদন করলে আদালত তাদের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে আরও এক বছর সময় দেন।


প্রসঙ্গত আপিল বিভাগের রায়ে বিজিএমইএকে অবিলম্বে নিজেদের খরচে ওই ভবন ভেঙে ফেলতে বলা হয়েছিল। তারা তা না করলে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) রায়ের অনুলিপি হাতে পাওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে এই নির্দেশনা বাস্তবায়ন করবে এবং ভবন ভাঙার খরচ বিজিএমইএ দেবে।


এ মামলার হাইকোর্টে থাকা অ্যামিকাস কিউরি অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ বলেন, ২০১৯ সালের ১২ এপ্রিল পর্যন্ত বিজিএমইএ সময় পায়। অর্থাৎ ১৩ এপ্রিল থেকে এটা ভাঙতে হবে।


এমআর

Print