পশ্চিমবঙ্গে গণির দুর্গে মমতার হানা!

টাইম ডেস্ক
টাইম নিউজ বিডি,
১৯ এপ্রিল, ২০১৯ ১৫:৫৯:৫০
#

পশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেসের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত মালদহ ও মুর্শিদাবাদ। তবে এ দুটি জেলায় এবার তৃণমূলের জয় চান পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পশ্চিমবঙ্গের ৪২টি আসনেই জেতার লক্ষ্যে মালদহ ও মুর্শিদাবাদের দিকে নজর দিয়েছেন তিনি।


নির্বাচনে মুর্শিদাবাদে রয়েছে লোকসভার ৩টি আসন আর মালদহে রয়েছে দুটি আসন। মালদহের আসন দুটি হলো মালদহ উত্তর এবং মালদহ দক্ষিণ। ২৩ এপ্রিল ভোট হবে এই দুই আসনে।


তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২০১১ সালে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসার পর এই দুটি জেলা থেকে কংগ্রেসকে মুছে দেওয়ার জন্য আদাজল খেয়ে নামেন। তবে এখনো মুছে দিতে পারেননি কংগ্রেসকে। এই মালদহ পরিচিত গণি খানের ঘাঁটি হিসেবে। এ বি এ গণি খান চৌধুরী হলেন প্রখ্যাত এক কংগ্রেস নেতা। সবাই তাঁকে চেনেন ‘বরকতদা’ হিসেবে। ১৯৫৭ থেকে ১৯৮০ পর্যন্ত ২৩ বছর ছিলেন তিনি বিধায়ক। ১৯৭২ থেকে ১৯৭৭ পর্যন্ত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের কংগ্রেস আমলের রাজ্যমন্ত্রীও। শুধু তা–ই নয়, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী এবং রাজীব গান্ধীর আমলে তিনি ছিলেন কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রীও। তিনিই কলকাতার পাতাল রেল আর চক্র রেল তৈরির প্রধান কারিগর ছিলেন। ২০০৬ সালে মারা যান গণি খান। এরপর থেকে দায়িত্ব নিয়ে আছেন গণি খানের উত্তরাধিকারীরা।


মমতার ক্ষমতায় আসার পর প্রথম লোকসভা নির্বাচন হয় ২০১৪ সালে। মালদহের দুটি আসন যায় কংগ্রেসের থলিতে। দক্ষিণ মালদহে জেতেন আবু হাসেম খান চৌধুরী। উত্তর মালদহে জয়ী হন কংগ্রেসের মৌসম বেনজির নূর। দুজনেই গণি খান চৌধুরীর বংশধর। গত নির্বাচনে এই জেলায় তৃণমূল একটি আসন না পাওয়ায় তারা কার্যত হতাশ হয়ে পড়ে। এই দুই জেলায় কংগ্রেস ভাঙার খেলা শুরু করে তারা।


কংগ্রেস ভাঙার খেলায় সফল হয় তৃণমূল। মালদা উত্তর আসনের কংগ্রেস সাংসদ মৌসম বেনজির নূরকে তৃণমূল তাদের দলে ভেড়াতে সক্ষম হয়। মৌসম সম্প্রতি তৃণমূলে যোগ দিয়ে পেয়ে যান নির্বাচনের টিকিট।


গত নির্বাচনে মৌসম পেয়েছিলেন ৩ লাখ ৮৮ হাজার ৬০৯ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন সিপিএমের নেতা খগেন মুর্মু। তিনি পেয়েছিলেন ৩ লাখ ২২ হাজার ৯০৪ ভোট। তৃতীয় হয়েছিলেন তৃণমূলের প্রার্থী সৌমিত্র রায়। পেয়েছিলেন ১ লাখ ৯৭ হাজার ৩১৩ ভোট। চতুর্থ হয়েছিলেন বিজেপির প্রার্থী সুভাষকৃষ্ণ গোস্বামী। তিনি পেয়েছিলেন ১ লাখ ৭৯ হাজার ভোট।


এবার জেতার অভিপ্রায়ে খগেন মুর্মু যোগ দিয়েছেন বিজেপিতে।


মালদহ দক্ষিণ আসনে এবার দাঁড়িয়েছেন বর্তমান কংগ্রেসের বিদায়ী সাংসদ গণি খান চৌধুরীর ছোট ভাই আবু হাসেম খান চৌধুরী। তৃণমূলের প্রার্থী হয়েছেন মোয়াজ্জেম হোসেন, বিজেপির প্রার্থী হয়েছেন শ্রীরূপা মিত্র চৌধুরী। বামফ্রন্ট এই আসনে কংগ্রেস প্রার্থীর প্রতি সম্মান জানাতে কোনো প্রার্থী দেয়নি। ফলে এই আসনের এবার লড়াই হবে ত্রিমুখী।


আবু হাসেম খান চৌধুরী ২০০৬ সাল থেকে মালদহ দক্ষিণ আসনের সাংসদ। তাঁর ছেলে ঈশাখান চৌধুরী লড়ছেন মালদা উত্তর আসনে মৌসম বেনজির নূরের বিরুদ্ধে। আবু হাসেম খান চৌধুরী ২০১২ সালে কংগ্রেস জমানায় কেন্দ্রীয় সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী ছিলেন।


তৃণমূলের প্রার্থী মোয়াজ্জেম হোসেন একজন চিকিৎসক। মমতার সঙ্গে ছিল তাঁর সখ্য। মমতার ডাকেই তিনি চাকরি ছেড়ে রাজনীতিতে যোগ দেন। ২০১৪ সালের নির্বাচনে তিনি তৃণমূলের টিকিটে দাঁড়িয়ে হেরে যান। এরপর ২০১৬ সালের রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনেও তিনি মালদহের মালতিপুর বিধানসভা আসন থেকে লড়ে হেরে যান কংগ্রেস প্রার্থীর কাছে।


বিজেপি প্রার্থী করেছে শ্রীরূপা মিত্র চৌধুরী সমাজকল্যাণ কাজের সঙ্গে যুক্ত আছেন। ২০১৪ সালে তিনি তৃণমূলে যোগ দিয়ে দিল্লির একটি লোকসভার আসনে লড়ে হেরে যান। সম্প্রতি তিনি যোগ দেন বিজেপিতে। তারপর পেয়ে যান লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির টিকিট। প্রথমআলো

Print