এত অত্যাচারী-ফ্যাসিস্ট-হিটলারি শাসক আগে কখনো দেখিনি: মমতা

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক
টাইম নিউজ বিডি,
২১ এপ্রিল, ২০১৯ ২০:৪২:১১
#

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, এত অত্যাচারী, ফ্যাসিস্ট, হিটলারি শাসক, এত শোষণ, এত বঞ্চনা, এত লাঞ্ছনা আমরা আগে কখনো দেখিনি।


গতকাল (২০ এপ্রিল) শনিবার লোকসভা নির্বাচন উপলক্ষে নদিয়া জেলার বগুলায় নির্বাচনি সমাবেশে ভাষণ দেয়ার সময় মমতা ওই মন্তব্য করেন।


তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করে বলেন, “আমি নাকি এখানে দুর্গাপুজো করতে দিই না! কত বড় মিথ্যেবাদী! সবচেয়ে বড় মিথ্যেবাদীর পুরস্কার থাকলে ওনাকে দেয়া উচিত ছিল। বলে দুর্গাপুজো হতে দিই না! আমাদের এখানে এক লাখ দুর্গাপুজো হয়।”


কেন্দ্রীয় বিজেপি সরকার ও প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “দেশটাকে ওরা জ্বালিয়ে পুড়িয়ে শেষ করে দিল, দেশের সর্বনাশ করে দিল, আর আজ বড় বড় কথা বলছেন! ৫ বছরে উনি শুধু বিদেশে ঘুরে বেড়িয়েছেন, নোট বাতিল (৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট) করেছেন, ওনার দল মানুষকে মেরেছে, ২ কোটি বেকার যুবকের চাকরি কেড়ে নিয়েছ, ব্যাঙ্কের টাকা লুঠেছে, আরবিআই (ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক)থেকে সিবিআই  (কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা) সকলে বলছে বাই-বাই।”


মমতা বলেন, “বাংলার মাটি সর্বধর্ম সমন্বয়ের মাটি, জনগণের মাটি, এই মাটি দাঙ্গা সহ্য করে না, এই মাটির ১ ইঞ্চিও আমরা কাউকে ছাড়বো না। দেশে দলিত, তপশিলি, আদিবাসীদের ওপর এত অত্যাচার আগে কখনো হয়নি। আর এখন ওদের নেতারা গদা ও তলোয়ার নিয়ে বেরিয়ে পড়েছে, এসব নিয়ে ওরা রক্তের খেলা করে।”


অসমে জাতীয় নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি) প্রসঙ্গে মমতা বলেন, “বাংলায় আমরা কোনোদিনও এনআরসি করতে দেবো না। সবাই আমরা একসাথে থাকতে চাই। বিজেপি বাংলায় ক্ষমতায় না থেকেই বলছে বাংলায় এনআরসি করবে। আসামে এনআরসি করে ৪০ লাখ লোকের নাম বাদ দিয়ে দিয়েছে, এরমধ্যে ২২ লাখ হিন্দু বাঙালী। এছাড়া মুসলিম, বিহারীসহ অন্য সম্প্রদায়ের মানুষের নামও বাদ দিয়েছে। কারও বাবার, কারও মায়ের, কারও স্বামীর নাম বাদ গেছে, অনেক মানুষ আত্মহত্যা করেছে!”


মমতার প্রশ্ন, ওরা ঠিক করবে কার নাম রাখবে আর রাখবে না? 


বিজেপিকে দেশ থেকে বিতাড়িত করতে লোকসভা নির্বাচনে বিজেপিকে গণতান্ত্রিকভাবে কবর দেয়ার আহ্বান জানান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।


এমবি    


 

Print