পেট্রাপোলে পণ্য চালান শতভাগপরীক্ষা করে ছাড়পত্রের নির্দেশনা সাময়িক স্থগিত

বেনাপোল প্রতিনিধি
টাইম নিউজ বিডি,
২২ এপ্রিল, ২০১৯ ২৩:২৭:২২
#

বেনাপোলের বিপরীতে ভারতের পেট্রাপোল বন্দরে আমদানি-রপ্তানির পণ্য চালান শতভাগ পরীক্ষা করে তারপর ছাড়পত্র দেওয়ার নির্দেশনা সাময়িক ভাবে স্থগিত করেছে সে দেশের শুল্ক কর্তৃপক্ষ।


পেট্রাপোল বন্দর ক্লিয়ারিং এজেন্ট স্টাফ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক কার্তিক চক্রবর্তী বলেন, পেট্রাপোল বন্দরে পর্যাপ্ত জনবল, পণ্য উঠা-নামানোর মত পর্যাপ্ত জায়গা ও যন্ত্রপাতিসহ অন্যান্য সুযোগ- সুবিধা না থাকায় পেট্রাপোল কাস্টমস তাদের সিদ্ধান্ত স্থগিত করেছেন ।


তবে এতে ব্যবসায়ীরা আপাতত খুশি হলেও দুঃশ্চিন্তা মুক্ত হতে পারছেন না। আদেশটি আবারো চালু হতে পারে।


বাবু কার্তিক চন্দ্র বলেন, বেনাপোলের মতো পণ্য রাখার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা পেট্রাপোল বন্দরে নেই।এমনিতেই সেখানে সারা বছর পণ্যজট লেগে থাকে।এতে আমদানি-রপ্তানিতে মারাত্বক ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়। বন্দর ব্যবহারকারি ব্যবসায়ীরা শতভাগ পরীক্ষনে সমস্যার বিষয়টি কাস্টমস কর্তৃপক্ষকে বোঝাতে সক্ষম হলে তারা আপাতত সিদ্ধান্ত স্থগিত করে পূর্বের নিয়মে পণ্য খালাস সচল রেখেছেন বলেন কার্তিক ।


ভারতীয় শুল্ক বিভাগের ওই নির্দেশনায় বলা হয়েছিল, পণ্যের চালান‘যথাযথভাবে’ পরীক্ষা করার এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল ২০০৫ সালের নভেম্বরে। কিন্তু তা অনুসৃত না হওয়ায় নতুন করে নোটিস দেওয়া হয়েছে।


“বাংলাদেশি ট্রাকে আসা সব আমদানি পণ্য সিডিসি (সেন্ট্রাল ওয়্যারহাউজিং করপোরেশন) গোডাউনে খালাস করতে হবে। তারপর যথাযথভাবে পরীক্ষা করে সেগুলো ভারতীয় ট্রাকে তুলতে হবে। সরকারের প্রাপ্য শুল্ক পরিশোধের পর ওওসি (আউট অব চার্জ) দেওয়া হবে।


“একইভাবে রপ্তানির ক্ষেত্রে ভারতীয় ট্রাক থেকে পণ্য খালাসের পর তা পরীক্ষা করে বাংলাদেশি ট্রাকে তুলতে হবে এবং কেবল এলইও (লেট এক্সপোর্ট অর্ডার) দেওয়া হবে।”


পেট্রাপোল বন্দরের সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ী সন্তোষ কুমার বলেন, ১৬ এপ্রিল স্বাক্ষরিত শুল্ক বিভাগের ওই নির্দেশনা যার স্মারক নম্বর ১১(২৬)১১৩/পিটিপিএল-আরডি/আইএমপি/এমআইএসসি/ ২০১৮- ১৯/২৭২৫। এই নির্দেশনা ১৮ এপ্রিল ভারত থেকে বেনাপোল বন্দরে পণ্য চালান প্রবেশে বাধা হয়ে দাঁড়ায় । ওই নির্দেশনার প্রতিবাদ জানিয়ে ব্যবসায়ীরা নতুন চালানের এন্ট্রি বন্ধ রাখেন।এতে টনক নড়ে প্রশাসনের।


বেনাপোল চেকপোষ্ট কাস্টমস কার্গো শাখার ওয়্যারহাউজ সুপারেনটেনডেন্ট মতিনুল হক বলেন, “ভারতীয় শুল্ক কর্তৃপক্ষ তাদের শতভাগ পরিক্ষনের বিষয়টি স্থগিত করার পর সীমান্ত বানিজ্য পুরোপুরি শুরু হয়েছে । প্রত্যাহারের পর রোববার দুপুর পর্যন্ত ভারত থেকে ২৫৬টি ট্রাক আমদানি পন্য নিয়ে বেনাপোল বন্দরে এসেছে আর বেনাপোল থেকে রপ্তানি পন্য নিয়ে ১২৬টি ট্রাক পেট্রাপোল বন্দরে গেছে ।

Print