চাকরি ছেড়ে যেভাবে ভাগ্যের চাকা ঘুরালেন মেহেদি

বেনাপোল প্রতিনিধি
টাইম নিউজ বিডি,
২৬ এপ্রিল, ২০১৯ ২১:৫৮:৩১
#

কাজ করতেন একটি ওয়েব ডিজাইন কোম্পানির ডেভেলপার হিসেবে। বছরখানেক করার পর প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানে এতো ভালো পদে চাকরিটাও ছেড়ে দেন মেহেদি।


আর কোথাও চেষ্টা চালাননি চাকরির। সোজা বাসায় গিয়ে নিজেকে উদ্যোক্তা হিসেবে আবিষ্কার করে নতুন রুপে নামের আগে যোগ করেন 'সফল ব্যবসায়ী'।


বাড়িতে যাওয়ার পর মেহেদি গড়ে তুলেন 'গাড়লে'র খামার। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নাগপুর অঞ্চলের ছোট নাগপুরি জাতের ভেড়ার সঙ্গে আমাদের দেশি ভেড়ার ক্রস ব্রিড। এই ক্রস ব্রিডের নামকরণ করা হয় ‘গাড়ল’। 'গাড়ল' ৭-৮ মাস পর পর বাচ্চা দেয়।


মাত্র ১৫ হাজার টাকা দিয়ে দুইট গাড়লের বাচ্চা কিনে খামার দেন মেহেদি। ২০১৮ সালের জুন মাসে মেহেরপুর আট কবর এলাকা থেকে এই বাচ্চা দুইটি কিনেন তিনি। এরপর ভারতের নাগপুর, কলিকাতা ও রাজস্থন থেকে আরো ৩৫টি ক্রস 'গাড়ল' সংগ্রহ করেন।


বর্তমানে তার খামারে ১০০ টি গাড়ল রয়েছে। একটি ৩-৪ মাস বয়সী গাড়লের দাম ৫-৬ হাজার টাকা। পূর্ণবয়স্ক গাড়লের ওজন ৬০ থেকে ৮০ কেজি পযর্ন্ত হয়।


বিক্রিতে যেমন দাম পাওয়া যায় তেমনি মাংসেও দাম পাওয়া যায় 'গাড়লে'র। প্রতি কেজি গাড়লের মাংসের দাম বিক্রি হয় ৮০০ - ১০০০ টাকা।


তার সফলতার পিছনের সর্বাত্মক সহযোগীতা করেছে উপজেলা পশু সম্পদ অফিস।


উপজেলা পশু সম্পদ অফিসে যোগাযোগ করলে বিভিন্ন টিকা বিনামূল্যে পাওয়া যেত। এর পাশাপাশি বছরে চার বার কৃমির বড়ি আর দুইবার পিপিআর টিকা দিলে খামার রোগমুক্ত থাকে।


এ ব্যাপারে র্শাশা উপজেলা প্রাণিসম্পদ র্কমর্কতা ডাঃ জয়দেব কুমার সিংহ জানান, যশোরের র্শাশা ও বেনাপোলে গাড়ল খামার করে স্বাবলম্বী হয়েছেন অনেকে। এতে র্কমসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি পুষ্টির চাহিদা পূরণ হচ্ছে। এ কারণে গাড়ল খামারের প্রতি অনেকেই আগ্রহী হয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে গাড়লের বাচ্চা সংগ্রহ করে খামারীরা চাষ করছে।


যশোরের বেনাপোল পোর্ট থানার শিকড়ী গ্রামের আব্দুল কাদেরের ছেলে মেহেদি। কম্পিউটার প্রকৌশল বিজ্ঞানে উচ্চতর শিক্ষা গ্রহন করে ঢাকার হেমায়েতপুরে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠনে কাজ শুরু করেন মেহেদী হাসান। সেখানে বছর খানেক চাকরি করে ‘বিডি কলিং ওয়েবসাইট ডিজাইন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানে ডেভেলপার হিসেবে যোগ দেন। পরে চাকরি ছেড়ে এই খামার দেন।


নাসির/জেড


 


 

Print