সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহর প্রথম জানাজা সম্পন্ন

স্টাফ রিপোর্টার
টাইম নিউজ বিডি,
২৮ এপ্রিল, ২০১৯ ২১:৩৬:৪৩
#

বিশিষ্ট সাংবাদিক ও লেখক মাহফুজ উল্লাহর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে।


আজ (২৮ এপ্রিল) রোববার জোহর নামাজের পর গ্রিনরোডের ডরমেটরি মসজিদে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এসময় দেশের রাজনীতিক, সুধীজনদের পাশাপাশি পারিবারিক আত্মীয়স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন।


দেশের বিশিষ্ট এই সাংবাদিক গতকাল (২৭ এপ্রিল) শনিবার সকাল ১০টার দিকে (ব্যাংকক সময় ১১টা ৫ মিনিট) ব্যাংককের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তাঁর মৃত্যুতে বিএনপি, জাতীয় পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা শোক প্রকাশ করেছেন।


আজ (২৮ এপ্রিল) দুপুরে অনুষ্ঠিত জানাজায় মাহফুজ উল্লাহর সন্তান, বড় ভাই অর্থনীতিবিদ মাহবুবউল্লাহ, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু, উপদেষ্টা আবদুল কাইয়ুম, সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস দুলু, নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়াল, সাবেক কূটনীতিক হারুনুর রশীদ, ব্যারিস্টার ইজাজ আহমেদ, জন আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশের সমন্বয়ক মজিবুর রহমান মন্জু, জাসাসের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি বাবুল আহমেদ, চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইং সদস্য শায়রুল কবির খান, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মেজর (অব.) মামুন, সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সহসভাপতি রফিকুল করিম খান পাপ্পুসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।


শায়রুল কবির খান বলেন, “গ্রিনরোডে জানাজার পর বাদ আসর প্রেস ক্লাবে মাহফুজ উল্লাহর দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর সন্ধ্যার দিকে বুদ্ধিজীবী গোরস্তানে তাকে দাফন করা হবে। সেখানে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ অন্যরা উপস্থিত থাকবেন।”


 


গত ২ এপ্রিল সকালে ধানমন্ডির গ্রীন রোডে মাহফুজউল্লাহ নিজ বাসায় হৃদরোগে আক্রান্ত হলে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়।


এরপর ১০ এপ্রিল (বুধবার) রাত ১১টা ৫২ মিনিটে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় মাহফুজ উল্লাহকে উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার এ্যাম্বুলেন্সে ব্যাংককে নেয়া হয়।


 


অষ্ট্রেলিয়া প্রবাসী বড় মেয়ে ডা. মেঘলা ও জামাতা মাহফুজ উল্লাহর সঙ্গে যান।


মাহফুজ উল্লাহ ১৯৫০ সালের ১০ মার্চ নোয়াখালীতে জন্ম গ্রহণ করেন। বাংলাদেশের জনগণের প্রতিটি অধিকার আদায়ের আন্দোলনের একজন নেতৃস্থানীয় কর্মী ছিলেন। ছাত্রাবস্থায়ই তিনি সাংবাদিকতা পেশার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন।


বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় সাপ্তাহিক বিচিত্রাসহ দেশের বিভিন্ন নেতৃস্থানীয় বাংলা ও ইংরেজি দৈনিকে কাজ করেছেন। মাঝে চীন গণপ্রজাতন্ত্রে বিশেষজ্ঞ, কলকাতাস্থ বাংলাদেশ উপদূতাবাসে, কূটনীতিক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গণযোগাযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে খন্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।


‘সেন্টার ফর সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট’র প্রতিষ্ঠাতা সেক্রেটারি জেনারেল মাহফুজ উল্লাহ বাংলাদেশে পরিবেশ সাংবাদিকতার সূচনা করেন। রাজনীতি উন্নয়ন ও পরিবেশ বিষয়ে বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় লেখা তার বইয়ের সংখ্যা পঞ্চাশের অধিক। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- President Zia of Bangladesh : A political Biography, ULFA & THE INSURGENCY IN ASSAM, যাদুর লাউ, যে কথা বলতে চাই, অভ্যুত্থানের ঊনসত্তর, পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন : গৌরবের দিনলিপি (১৯৫২-৭১)।


তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিনেটের এবং আন্তর্জাতিক পরিবেশবাদী সংগঠন ‘ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর করজারভেশন অব নেচার’র আন্তর্জাতিক পরিচালনা পর্ষদের প্রথম বাংলাদেশী নির্বাচিত সদস্য। বর্তমানে তিনি ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে শিক্ষকতার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।


মাহফুজ উল্লাহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিদ্যা ও সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। তার পিতা শিক্ষাবিদ মরহুম হাবিবুল্লাহ এবং মাতা মরহুমা ফয়জুননিসা বেগম। তিনি ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা পরলোকগত কমরেড মোজাফফর আহমদের দৌহিত্র।


এমবি      

Print