পুঁজিবাজার এখন নিয়ন্ত্রণে নেই, ব্যাংকিং খাতও নাজুক: অর্থমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার
টাইম নিউজ বিডি,
২৯ এপ্রিল, ২০১৯ ০২:৪১:৩৭
#

দেশের পুঁজিবাজার এখন নিয়ন্ত্রণে নেই বলে স্বীকার করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি আরও বলেন, “আমাদের ব্যাংকিং খাত অনেকের ধারণায় নাজুক অবস্থায় আছে। এটা আমাদের স্বীকার করতে দোষ নেই।”  


আজ (২৮ এপ্রিল) রোববার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তরে সরকারি দলের আহসানুল হক টিটুর সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এই স্বীকারোক্তি দেন।


আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, কোনও দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী হওয়ার প্রথম প্রতিফলন পুঁজিবাজার দেখা যায়। সারা পৃথিবীতে পুঁজিবাজার ও অর্থনীতি এভাবে সম্পৃক্ত থাকে।


অর্থমন্ত্রী বলেন, “আমাদের দেশের অর্থনীতি অত্যন্ত চাঙ্গা ও শক্তিশালী। ওয়ার্ল্ড ব্যাংক ও আইএমএফ আমাদের অর্থনীতি দেখে উচ্ছ্বসিত। তারা অন্যান্য দেশকে বাংলাদেশকে অনুসরণ করতে বলেছে। আমাদের এই এগিয়ে যাওয়া থমকে যাবে যদি পুঁজিবাজারকে নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারি।”


মুস্তফা কামাল বলেন, “পুঁজিবাজারটি এখন নিয়ন্ত্রণে নেই। তবে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে নেই, সেটাও বলবো না। পুঁজিবাজারের যেসব সমস্যা আছে তা চিহ্নিত করেছি। একে একে সবগুলি সমস্যার সমাধান দেবো।”


তিনি বলেন, “সরকার সামষ্টিক অর্থনীতির ক্ষেত্রে যেমন যত্নশীল, ঠিক তেমনিভাবে পুঁজিবাজার নিয়েও ততটাই যত্নশীল।”


মুস্তফা কামাল বলেন, “পুঁজিবাজারের সঙ্গে সম্পৃক্তদের নিয়ে আমি এক-দুই দফা মিটিং করেছি। আরও মিনিং করবো। মিটিং করে আর ১০টি দেশে পুঁজিবাজার যেভাবে চলে আমরাও সেইভাবে চালানোর চেষ্টা করবো। এই ক্ষেত্রে যেসব জায়গায় বিচ্যুতি আছে তা অবশ্যই দূর করা হবে।”


“যেহেতু পুঁজিবাজার আর অর্থনীতি একে অপরের সঙ্গে সম্পৃক্ত, কাজেই সঙ্গত কারণেই পুঁজিবাজারের জন্য আগামী বাজেটে প্রণোদনা থাকবে।”


তবে কতটা থাকবে তা এই মুহূর্তে বলতে পারছি না। অবশ্যই পুঁজিবাজারকে শক্তিশালীভাবে চালানোর জন্য যা কিছু উপজীব্য, সেটাই করা হবে।” যোগ করেন অর্থমন্ত্রী।


সরকারি দলের সংসদ সদস্য ইসরাফিল আলমের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, “আমাদের ব্যাংকিং খাত অনেকের ধারণায় নাজুক অবস্থায় আছে। এটা আমাদের স্বীকার করতে দোষ নেই। প্রত্যেক দেশে এ ধরনের ঘটনা ঘটে। একটি উন্নয়নশীল দেশে সবগুলো খাতকে সুন্দর ও সমভাবে পরিচালনা করা অনেক সময় সম্ভব হয়ে ওঠে না।”


জাতীয় পার্টির কাজী ফিরোজ রশীদের প্রশ্নের জবাবে মুস্তফা কামাল বলেন, কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা ব্যাংক দেউলিয়া হোক, সরকার তা চায় না।


যুক্তরাষ্ট্রের উদাহরণ দিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, “ব্যাংক বাঁচাতে যে পরিমাণ সহযোগিতা করা দরকার, সরকার তা করবে। ফারমার্স ব্যাংক ব্যর্থ হয়েছে বলে যে এর উত্তরসূরি পদ্মা ব্যাংকও ব্যর্থ হবে, তেমন নয়। আমরা আশা করি, পদ্মা ব্যাংক ঘুরে দাঁড়াবে। যারা ফারমার্স ব্যাংকে টাকা রেখেছিলেন, তারা অবশ্যই সে টাকা ফেরত পাবেন। পদ্মা ব্যাংক সে টাকা ফেরত দিতে বাধ্য।”


এমবি  

Print