এবি ব্যাংকের স্বেচ্ছাচারিতায় পথে বসলো এনজেল নিটিং ইন্ডাস্ট্রিজ লিঃ

স্টাফ রিপোর্টার
টাইম নিউজ বিডি,
২৯ এপ্রিল, ২০১৯ ১৮:০২:১৮
#

এনজেল কম্পোজিট নিটিং ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও চেয়ারম্যান মো. গিয়াস উদ্দিন এবি ব্যাংকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, ২০০৮ সালে এবি ব্যাংকের সাথে সম্পৃক্ত হই। তখন ব্যাংক আমাদের ১১ কোটি টাকার একটা ব্যাক টু ব্যাক এলসি লিমিট করে দেয়। তখন আমাদের প্রতিষ্ঠনে ৫০ কোটি টাকার পণ্য রপ্তানি করে। এসব রপ্তানির বিপরীতে ক্যাশ ইনসেনটিভ (রপ্তানির বিপরীতে নগদ প্রনোদন) বাবদ প্রায় ২ কোটি টাকা পাওনা হই।


কিন্তু এবি ব্যাংকের সেচ্ছাচারিতা ও খামখেয়ালির কারনে ইনসেনটিভের সেই অর্থ আমরা পাইনি। পরে খোজ নিয়ে জানতে পারি ব্যাংকটি আমাদের কাগজ পত্র বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠায়নি। যার কারনে সে অর্থ বাতিল হয়ে যায়।


সোমবার, জাতীয় প্রেসক্লাবে, সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ করেন।


তিনি আরও বলেন, ২০০৮ সালের পরবর্তীতে ইউরোপ আমেরিকাসহ বিশ্বব্যাপী আর্থিক মন্দা ঝড় শুরু হয়। এ মন্দার কারনে ২০১০-২০১১ সালে আমাদের ৯ কোটি টাকার রপ্তানি আদেশ বাতিল হয়ে যায়। সে থেকে এবি ব্যাংক আমাদের সব ধরনের ব্যবসায়িক সুযোগ সহযোগিতা বন্ধ করে দেয় এবং ব্যাংকটি লাগাতার অসহযোগীতার কারনে এনজেল কম্পোজিট নিটিং ইন্ডাস্ট্রিজ প্রতিষ্ঠানটি আজ পথে বসার উপক্রম। 


গিয়াস উদ্দিন অভিযোগ করে আরও বলেন, দীর্ঘ সাত বছর ধরে তারা আমাদের কোন প্রকার ঋণ  সহযোগিতা করেনি। বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী, রপ্তানি আদেশ বাতিল হলে পূর্বের ঋণটি পুনঃতফসিল করে দেওয়ার কথা।


কিন্তু এবি ব্যাংক আমাদের পুনঃতফসিলের সুযোগ দেয়নি। অথচ এ সময় দেশের ব্যাংকিং খাতে হাজার হাজার কোটি টাকার খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিল করা হয়েছে। পরবর্তীতে আমরা বড় বড় রপ্তানির আদেশ পেলেও ব্যাংকটির কর্মকর্তাদের অসহযোগিতার কারনে সেটি গ্রহণ করতে পারিনি।


তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন, এবি ব্যাংক প্রায় ২০ শতাংশ সুদ আরোপ করে জোরপূর্বক ফোর্স লোন সৃষ্টি করে। অথচ ব্যাংক শর্ত অনুযায়ী, আমাদের ঋণের সুদ ছিল ১২ শতাংশ। ব্যাংক ২০ শতাংশ হারে ৫ বছরের সুদকে আসল বানিয়ে ২০১৫ সালে ১৪ কোটি টাকা ঋণ দেখায়, যদিও এর আগে চার বছর আমরা প্রতিষ্ঠান সব স্টক লট বিক্রি করে ব্যাংকের সাড়ে ৬ কোটি টাকা পরিশোধ করি। আমাদের জমাকৃত টাকা তারা শুধু যাবে গণ্য করেছে মূল ঋণের সাথে সমন্বয় করেনি।


তিনি আরও বলেন, ঋণটি পুনঃতফসিল করে দেওয়ার জন্য আমরা এবি ব্যাংকের প্রধান কার্যলয়সহ শাখা কর্মকর্তাদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছি। কিন্তু ব্যাংকের নিকট থেকে ইতিবাচক সাড়া পাইনি। পরে ২০১৫ সালে ব্যংকটি এনজেলস কম্পোজিট নিটিং ইন্ডাস্ট্রিজ লিঃ ঋণটি সাড়ে ১৪ কোটি দেখিয়ে পুনঃতফসিল করে দেয়।


ততদিনে প্রবাসে কষ্টার্জিত অর্থে গড়ে তোলা আমার প্রতিষ্ঠানটি আর্থিক ভাবে পঙ্গু হয়ে যায়। উৎপাদন কার্যক্রম স্থির হয়ে যায়। এমনই সময় ঋণটি পুনঃতাফসীর করা হলেও মিল চালু করার জন্য কোন ধরনের ব্যবসার সুবিধা না দিয়ে কিস্তি পরিশোধ করতে বলে।


তিনি আরও বলেন, ১২-০৩-২০১৯ সালে এবি ব্যাংক কোন ধরনের নোটিশ ছাড়া দৈনিক যায়যায় দিন পত্রিকায় আমাদের প্রতিষ্ঠানের নিলামে বিক্রি কারার জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। ব্যাংকটির এ হঠকারিতা ঠেকাতে আমরা অর্থঋণ আদালতে এবি ব্যাংকের নামে মামলা করি এবং একই সংঙে অন্য একটি মামলা করি দেওয়ানি আদালতে। নিলাম বন্ধে  সুপ্রিম কোর্ট পিটিশন  (পিটিশন নং ৩২২২/১৯) দায়ের করতে ব্যধ্য হয়েছে।


এসএম/এমআর

Print