পাটগ্রামে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে গৃহবধুকে মারধরের অভিযোগ

টাইম ডেস্ক
টাইম নিউজ বিডি,
০২ মে, ২০১৯ ১৭:৩৩:৫৮
#

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলায় মাহিমা বেগম (৪৫) নামে এক গৃহবধুকে মারপিটের অভিযোগ উঠেছে বুড়িমারী ইউপি চেয়ারম্যান আবু সাঈদ নেওয়াজ নিশাদের বিরুদ্ধে।


মঙ্গলবার (৩০ এপ্রিল) রাতে উপজেলার বুড়িমারী উফারমারা গুড়িয়াটারী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত গৃহবধূ মাহিমা বেগম ওই এলাকার শামসুল হকের স্ত্রী। এ ঘটনায় বুধবার (০১ মে) দুপুরে মাহিমা বেগম বাদী হয়ে পাটগ্রাম থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।


অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১ বছর আগে মতিয়ার রহমান ওরফে নারুবেচা নামে এক ব্যাক্তি তার জমি জবর দখল করে। এ বিচার দেয়া হয় চেয়ারম্যান নিশাতকে। কিন্তু চেয়ারম্যান সুবিচার না করে মতিয়ারের পক্ষে অবস্থান নেয়ায় মাহিমা বেগম ও তার স্বামী শামসুল হকের সাথে চেয়ারম্যানের বাক বিতন্ডার ঘটনা ঘটে।


এ কারণে ওই চেয়ারম্যান ও তার লোকজন মাহিমা বেগম ও তার স্বামীকে বিভিন্নভাবে হুমকী ধমকী দেয়। এরই জের ধরে গত


বুধবার (৩০ এপ্রিল) রাত ২ টার দিকে চেয়ারম্যান নিশাতের নেতৃত্বে রফিকুল ইসলাম, হাসানুজ্জামান ও রুবেলসহ তার লোকজন বাদী মাহিমার বাড়িতে হামলা করে ও দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র দিয়ে মাহিমাকে এলোপাতারী মারধর করে। এতে মহিমার বিভিন্ন অঙ্গে ফুলা জখম ও মাথায় প্রচন্ড আঘাত পায়। বর্তমানে মহিমা পাটগ্রাম স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধিন অবস্থায় রয়েছে।


এ বিষয়ে বাদী মাহিমা বেগম জানায়, মতিয়ার রহমান নামে এক ব্যক্তি আমার জমি জবর দখল করে। এ ঘটনায় আমি চেয়ারম্যানকে বিচার দিলে চেয়ারম্যান সুবিচার না করে উল্টো মতিয়ারের পক্ষে অবস্থান নেয়। এ কারণে চেয়ারম্যানের সাথে আমাদের বাক বিতন্ডার ঘটনা ঘটে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে চেয়ারম্যান রাতে তার লোকজন নিয়ে আমার বাড়ীতে এসে কিছু বোঝার আগে তিনি ও তার সঙ্গে থাকা লোকজন আমার বাড়ি ভাংচুর করে ও আমাকে মারধর করে।


বুড়িমারী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আবু সাঈদ নেওয়াজ নিশাদ এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জানায়, মাহিমা অনেক আগে থেকে পতিতাবৃত্তি করতো। বিভিন্ন জায়গা থেকে মেয়ে নিয়ে এসে তার বাড়িতে দেহ ব্যবসা চালাতো। এ কারনে তাকে একবার এলাকাবাসী গ্রাম ছাড়া করেছিল। সেখান থেকে অন্য গ্রামে এসে বাড়ি করে এখানেও একই কাজ চালাতো। এজন্য এলাকাবাসী ক্ষিপ্ত হয়ে গত ৩০ এপ্রিল রাতে তার বাড়িতে একটি মেয়েসহ আটক করে তার বাড়ি ভাংচুর ও তাকে মারতে থাকে। এসময় আমি আমার ইউনিয়নের কয়েকজন সদস্য ও গ্রাম পুলিশসহ তার বাড়িতে গিয়ে তাকে এলাবাসীর হাত থেকে উদ্ধার করেছি।


পাটগ্রাম থানার ওসি মনসুর আলী জানায়, এ সংক্রান্ত একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।


জেড

Print