‘রিসাইক্লিং’ডেনিমে আগ্রহ উদ্যোক্তাদের  

স্টাফ রিপোর্টার
টাইম নিউজ বিডি,
০৩ মে, ২০১৯ ০২:১৪:৫২
#

ক্রেতাদের আগ্রহ ও পরিবেশের কথা মাথায় রেখে পরিবেশবান্ধব পোশাক তৈরির দিকে ঝুঁকছে দেশের পোশাক শিল্পের উদ্যোক্তারা। এতে একদিকে যেমন পরিবেশ দূষিত হওয়া থেকে রক্ষা পাবে অন্যদিকে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরো মজবুত হবে। যদিও এই প্রক্রিয়ায় খরচ বেশি হলেও লাভ একটু কম। কিন্তু তবুও আগ্রহের কমতি নেই ব্যবসায়িদের।  


একাধিক উদ্যোক্তার সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রতিদিন বিশ্বব্যাপি লাখ লাখ ডেনিম পোশাক ব্যবহার শেষে ফেলে দেওয়া হচ্ছে। এগুলোর সাধারণত ঠাই হয় নদী বা জলাশয়ে। দূষিত করে পরিবেশ আর কমিয়ে দেয় পানি প্রবাহ। আর এই কাপড়গুলো সংগ্রহ করেই রিসাইক্লিংয়ের মাধ্যমে তৈরি করা যায় নতুন সুতা। এতে কেমিক্যালের প্রয়োগও কম। আর মোট খরচ স্বাভাবিকের চেয়ে সামান্য বেশি। পরিবেশবান্ধব হওয়ায় বিশ্বব্যাপি এর চাহিদাও ক্রমেই বাড়ছে। এজন্য অনেক বড় আকারের বিনিয়োগে আগ্রহী হচ্ছেন তারা।


নতুন উদ্ভাবিত রিসাইক্লিং পণ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে জিরো কটন, পোস্ট কনজুম্যার ওয়েস্ট এবং টেনসেল। এর মধ্যে জিরো কটনই নতুন। পুরোনো কাপড়কে রাসায়নিক পদ্ধতিতে ব্যবহার করে নতুন কাপড় বানানো হয়। মোদ্দাকথা ফেলে দেয়া গার্মেন্টস থেকে এর প্রক্রিয়াজাত করা হয়। এটি পরিবেশবান্ধবও।


পাইওনিয়ার ডেনিমের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার হাসিবুল হুদার জানান, ক্রেতারা এখন পরিবেশবান্ধব পোশাকের দিকে জোর দিচ্ছে। পরিবেশের দিকে নজর দেওয়ার শর্তও থাকে অনেকের। সেজন্য রিসাইক্লিং ডেনিমে জোর দিচ্ছেন তারা।


তিনি আরও জানান, তাদের কোম্পানির ডেনিম পোশাকের উৎপাদন প্রতিমাসে ২৮০ মেট্রিক টন। জিরো কটন কিছুটা ব্যয়বহুল হলেও উন্নত বিশ্বে এর জনপ্রিয়তা আছে। এইচএনএম, ওয়ালমার্টের মতো কোম্পানি এখন এই পণ্যের রপ্তানি আদেশ দিচ্ছে।


স্কয়ার ডেনিমের সিনিয়র সেলস এক্সিকিউটিভ তানভির মাহমুদ মিয়া জানান, ক্রেতাদের শর্তানুযায়ী উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে ডেনিম উৎপাদন করছে স্কয়ার। তাদের উৎপাদিত রিসাইক্লিং ডেনিমগুলোর মধ্যে রয়েছে পেট-ইট,  ইজার, রাইট ব্লু ইত্যাদি। এর মধ্যে ফেলে দেয়া প্লাস্টিক বোতল থেকে রিসাইক্লিং পদ্ধতিতে উৎপাদিত ডেনিমকে বলা হচ্ছে পেট-ইট। এই ডেনিম পোশাক বাংলাদেশে পাওয়া না গেলেও ইউরোপের বাজারে এর চাহিদা বেশি।


তিনি আরও জানান, রাইট ব্লু ডেনিম তৈরী হয় মূলত এনিলিন কেমিক্যাল ব্যবহারের মাধ্যমে। যেটি ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়। তুরস্কের একটি কেমিক্যাল কোম্পানির সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে স্কয়ার ডেনিম। এছাড়া ইজার ডেনিমটি মূলত লেজার ওয়াশের মাধ্যমে বানানো। কেমিক্যালের কোনও ব্যবহার হয়না এতে। পরিবেশবান্ধব হওয়ায় ক্রেতাদের চাহিদাও বেশি। আর প্রতিমাসে ২৪ লাখ গজ ডেনিম রপ্তানি করে থাকে স্কয়ার।


বাংলাদেশ এপারেল এক্সচেঞ্জ ও বাংলাদেশ ডেনিম এক্সপোর প্রতিষ্ঠাতা এবং সিইও মোস্তাফিজ বলেন, পৃথিবীতে এখন প্রয়োজনের অতিরিক্ত পোশাক উৎপাদিত হচ্ছে। এই পোশাক পুন:ব্যবহার, পুন:উৎপাদন কিংবা আবার কাজে লাগানো সম্ভব। একমূখী মডেল পরিবর্তন করে টেকসই ভবিষ্যতের জন্য ‘সার্কুলারিটি’র প্রয়োজনীয়তার ওপর ডেনিম এক্সপোর এবারের সংস্করণের জোর দেয়া হয়েছে।


ইউরোপিয়ান কমিশনের পরিসংখ্যান বিভাগের তথ্যানুযায়ী, ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশ ২০১৮ সালে ১ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলারের ডেনিম পোশাক রপ্তানি করে। আর ২০১৭ সালে এর পরিমাণ ছিলো ১ দশমিক ৪৭ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ ইউরোপের বাজারে বছরের ব্যবধানে ডেনিম রপ্তানি বেড়েছে ১১ দশমিক ৪৬ শতাংশ। আর ইউরোপের বাজারে ২৯ দশমিক ১২ শতাংশ ডেনিম রপ্তানি করে বাংলাদেশ।


অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারের ১৪ দশমিক ৬৮ শতাংশ ডেনিম রপ্তানিকারক বাংলাদেশ। ২০১৮ সালে যার পরিমাণ ৫৬৬ দশমিক ৩৯ মিলিয়ন ডলার। ইউএস অফিস অব টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেলের (অটেক্সা) তথ্যানুযায়ী, সেখানে চীন ও মেক্সিকোর পরেই বাংলাদেশের অবস্থান।  


রাজধানীর বসুন্ধরা আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টারে এ লক্ষ্যে শুরু হয়েছে দুই দিন ব্যাপী বাংলাদেশ এপারেল এক্সচেঞ্জ। বিশ্বের ১১টি দেশ থেকে ৬৩টি কোম্পানি এবারের প্রদর্শনীতে অংশ নিয়েছে। রয়েছে দেশী-বিদেশি উদ্যোক্তা ও ক্রেতাদের ভিড়। দুইদিনব্যাপী মেলায় মোট ছয়টি সেমিনার এবং দুটি প্যানেল আলোচনাও অনুষ্ঠিত হবে।


তুহিন/এমবি  

Print