শিবচরে আবাসিক হোটেলে স্কুলছাত্রীকে ওষুধ খাইয়ে গণধর্ষণ, পরে হত্যা

জেলা প্রতিনিধি
টাইম নিউজ বিডি,
০৭ মে, ২০১৯ ০০:৩৭:২৪
#

মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার একটি আবাসিক হোটেল থেকে ইন্নি আক্তার নামের এক স্কুলছাত্রীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ওই ছাত্রীকে গণধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।


গত রবিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে ৭১ উৎসব চাইনিজ রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড আবাসিক হোটেলের তৃতীয় তলার ৩০৫ নম্বর কক্ষ থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।


নিহত ইন্নি আক্তার শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার পশ্চিম নাওডোবা ইউনিয়নের মুন্সিকান্দি এলাকার মৃত ইলিয়াস মৃধার মেয়ে এবং শেখ ফজিলাতুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী ছিল।


তার মা শিবচর উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয়ের কর্মচারী হিসেবে কাজ করায় শিবচর পৌরসভার স্বাস্থ্য কলোনী এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় ইন্নি তার মায়ের সাথে বসবাস করতো।


স্থানীয় সূত্র জানায়, স্বামী-স্ত্রীর পরিচয়ে কক্ষ ভাড়া নেয় ইন্নি ও রুবেল। পরে ইন্নিকে যৌন উত্তেজক ওষুধ খাইয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করে রুবেল। একপর্যায়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ইন্নির মারা গেলে কৌশলে হোটেল থেকে রুবেল পালিয়ে যায়।


রাতে ওই হোটেলের এক কর্মচারী রুমের দরজা খোলা অবস্থায় ইন্নির লাশ বিছানায় পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।


পরে হোটেলের সিসিটিভির ফুটেজ দেখে রুবেল নামে ওই তরুণকে কাঠালবাড়ি ফেরিঘাট থেকে আটক করা হয়।


এই ঘটনায় মাদারীপুর পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আজ সোমবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।


সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার সুব্রত কুমার হালদার জানান, রোববার স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে ৭১ উৎসব হোটেলের কক্ষ ভাড়া নেন রুবেল খান। এ সময় স্কুলছাত্রীর সঙ্গে বিকৃত যৌনাচারে লিপ্ত হন তিনি। একপর্যায়ে রক্তাক্ত অবস্থায় স্কুলছাত্রীকে ফেলে পালিয়ে যান।


পরে পুলিশ হোটেল কক্ষ থেকে যৌন উত্তেজক ওষুধ, কনডম ও স্কুলছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করে। এ থেকে ধারণা করা হচ্ছে, যৌন উত্তেজক ওষুধ সেবন করিয়ে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ করা হয়েছে।


জিজ্ঞাসাবাদে আটক হোটেল কর্মচারী রোনাল্ড ও খাইরুল জানান, এই হোটেলে দীর্ঘ দিন থেকেই দেহ ব্যবসাসহ বিভিন্ন অনৈতিক কাজ চলতো। হোটেলের মালিক শিবচর পৌরসভার মেয়র আওলাদ হোসেন খান ও স্থানীয় আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা।


আটক রুবেল পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে জানান, কয়েক মাস আগে ইন্নির সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক হয় রুবেলের। এই সম্পর্কের ভিত্তিতে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে হোটেলের কক্ষ ভাড়া নেন তিনি। পরে ইন্নির সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করেন। এ সময় ইন্নি রক্তাক্ত হয়ে অসুস্থ হলে তাকে ফেলে পালিয়ে যান।


নিহতের স্বজনদের দাবি, এরপরে হোটেলের কর্মচারীরা ইন্নিকে একাধিকবার ধর্ষণ করে হত্যা করে।


নিহত স্কুলছাত্রীর মা ডলি বেগম বলেন, আমার মেয়েকে হোটেলে খাওয়ার কথা বলে ফুসলিয়ে নিয়ে তিনজন গণধর্ষণ শেষে হত্যা করেছে। একটি প্রভাবশালী মহল বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে। আমি এর বিচার চাই।


এএস

Print