মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে জাতিসংঘের আহ্বান

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক
টাইম নিউজ বিডি,
১৫ মে, ২০১৯ ০২:০৩:৫৪
#

মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে অর্থনৈতিকসহ অন্যান্য সম্পর্ক ছিন্ন করার জন্য সব দেশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন।


মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গা মুসলমানদের বিরুদ্ধে গণহত্যা চালানোর কারণে জাতিসংঘ এই আহ্বান জানায়।


আজ (১৪ মে) মঙ্গলবার মিয়ানমার বিষয়ক জাতিসংঘ মিশন এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে যে, রোহিঙ্গা মুসলমানের সংকট নিরসনে কোনো অগ্রগতি নেই।


মিশনের প্রধান মারজুকি দারুসম্যান জানিয়েছেন, রোহিঙ্গা মুসলমানদের প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়া পুরোপুরি থেমে আছে। রাখাইন থেকে এখনো মানবাধিকার লঙ্ঘনের খবর পাওয়া যাচ্ছে বলেও ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন জানিয়েছে।


অস্ট্রেলিয়ার মানবাধিকার বিষয়ক আইনজীবী এবং জাতিসংঘ মিশনের সদস্য ক্রিস্টোফার সিদোতি বলেন, অতীতে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নৃশংসতা এবং এখনো তারা সেটি অব্যাহত রাখায় সেনাবাহিনীর সঙ্গে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখার বিষয়ে চিন্তা করতে তিনি সব রাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।


মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অর্থের উৎস কমানোর মাধ্যমে তাদের ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য এই আহ্বান জানানো হয়েছে বলে জানান সিদোতি।


উল্লেখ্য, সর্বশেষ ২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও উগ্র-বৌদ্ধরা রোহিঙ্গা মুসলমানদের উপর গণহত্যা-ধর্ষণ ও অগ্নিসংযোগের মত ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হয়ে ৭ লাখের বেশি রোহিঙ্গা ঘরবাড়ি ফেলে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়েছে। নতুন এবং পুরাতন মিলিয়ে ক্যাম্পে বসবাসকারী রোহিঙ্গাদের সংখ্যা এখন প্রায় ১১ লাখ।


এর আগে বিভিন্ন সময় সেনাবাহিনী ও উগ্র-বৌদ্ধদের নির্যাতনে পালিয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়ে আছে ৪ লাখের বেশি রোহিঙ্গা।


আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স এর অনুসন্ধানে গণহত্যারপ্রমানও মিলেছে। তাঁরাবলছে, বর্মী সৈন্যরা গ্রামবাসীদের সাথে নিয়ে রাখাইনের উত্তরাঞ্চলীয় ইন দিন গ্রামে গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর গণহত্যার ঘটনা ঘটেছিলো। এই গ্রামে ১০ জন রোহিঙ্গাকে হত্যার বিষয়ে তাদের দুই সাংবাদিক ওয়া লো এবং চ সো উ-কে সেখানে তথ্য প্রমাণ সংগ্রহ করে।


রয়টার্সের অনুসন্ধানে বলা হয়, ওই গ্রামে অভিযানের সময় রোহিঙ্গা পুরুষদের একটি দল নিজেদের জীবন বাঁচাতে একটি জায়গায় গিয়ে জড়ো হয়। তখন ওই গ্রামের কয়েকজন বৌদ্ধ পুরুষ একটি কবর খনন করার নির্দেশ দেন। তারপর ওই ১০ জন রোহিঙ্গা পুরুষকে হত্যা করা হয়। বৌদ্ধ গ্রামবাসীরা অন্তত দু’জনকে কুপিয়ে এবং বাকিদেরকে সেনাবাহিনী গুলি করে হত্যা করেছে।


এমবি       

Print