স্বৈরশাসকের বিরুদ্ধে লড়াই করে জীবন দিতে প্রস্তুত: অলি

স্টাফ রিপোর্টার
টাইম নিউজ বিডি,
১৫ মে, ২০১৯ ২১:৫৬:০৯
#
স্বৈরশাসকের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছি, বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছি। অনেক সরকারের পতন এবং উত্থান কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছে। আপনারা যদি সে অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চান ডানে বায়ে তাকানোর কোন সুযোগ নাই।

 

আপনাদের যদি রমজান মাসে অন্তরের কথা এবং মুখের কথা এক হয়ে থাকে তাহলে এগিয়ে আসেন। আমি স্বাধীনতার সময় জীবন দিতে পারি নাই, এবার স্বৈরশাসকের হাতে জীবন দিতে প্রস্তুত বলেন ড. কর্নেল অলি আহম্মেদ।

 

বুধবার(১৫মে) জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি-(এলডিপি) আয়োজিত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং মধ্যবর্তী নির্বাচন' শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

 

কর্নেল অলি বলেন, বর্তমান সরকারের উন্নয়ন আছে আমি একমত। কারন উন্নয়ন না হলে ৭৬% মেয়ে কিভাবে যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। উন্নয়ন কোন দিকে হচ্ছে সেটা দেখার বিষয়। এখন জনগণের উন্নয়ন হচ্ছে নাকি মনুষ্যত্ব হানির উন্নয়ন হচ্ছে।

 

তিনি আরও বলেন, ৩০ তারিখের নির্বাচন ২৯ তারিখে হওয়ার মাধ্যমে আমরা মনুষ্যত্ব হারিয়ে ফেলছি। যারা সরকারে আছে তাদের মধ্যে মনুষ্যত্ব নাই, দেশ প্রেম নাই, গনতন্ত্রের জন্য শ্রদ্ধা নাই। বঙ্গবন্ধু ১৬ বছর জেল খেটেছেন আইয়ুব খান ইয়াহিয়া খানের আমলে তিনি তখনো এ ধরনের গনতন্ত্রের কথা চিন্তা করেন নাই। আজ বিরোধী দল কোন জায়গায় সমাবেশ করতে পারে না। সরকার যেটা চায় সেটাই আমাদের করতে হয়। এখানে দালালের কোন অভাব নেই।

 

তিনি অভিযোগ করে বলেন, বিগত নির্বাচনে বিরোধী দলের অনেকে ২কোটি টাকা করে নিয়ে সরকারের সাথে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে বিএনপি এবং ২০দলিও ঐক্যজোটকে শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে রাখার দায়িত্ব নিয়েছিলো। তাই অনেকে বলেছে নির্বাচন অনেক ভালো হয়েছে। এই কথা না বললে সরকারের কাছ থেকে যে টাকা নিয়েছে সে টাকা হালাল হতো না। তাই তারা তাদের টাকা হালাল করার জন্য এসব কথা বলেছে। আমরা যেহেতু টাকা নেইনি তাই আমাদের সে বাধ্যবাধকতা নেই।

 

তিনি আরও বলেন, আমরা যুদ্ধ করেছি স্বাধীন হওয়ার জন্য কিন্তু আজ নিজের দেশে আমরা পরাধীন। এ পরাধীনতা থেকে দেশকে মুক্তি করার জন্য আমি প্রস্তুত।

 

অলি আহমদের বলেন, সরকার দিনের আলোকে ভয় পায় তাই রাতের অন্ধকারে স্বচ্ছন্দ বোধ করে। তারা হলো নিশাচর। তাই আমাদেরকে মশাল হাতে নিয়ে নিশাচরদের তালাস করে বের করতে হবে। আমরা হচ্ছি সংখ্যা ঘনিষ্ঠ তারা হলো সংখ্যা লঘষ্ঠ।

 

তিনি আরও বলেন, বেগম জিয়াকে মুক্তি যদি নাও করতে পারি তার পরে গনতন্ত্র মুক্তির জন্য লড়াই করতে হবে। তার জন্য প্রয়োজন ঐক্য। আমরা কোন সরকারের অমঙ্গল কামনা করি না। প্রধানমন্ত্রী বা তার দলের ক্ষতি করতে চাই না। কোন নাগরিকের ক্ষতি আমরা করতে চাই না।

 

তিনি বলেন, বাংলাদেশিদের হত্য করার জন্য মুক্তিযোদ্ধ করি নাই। পাকিস্তানিদের হত্য করে বাংলাদেশের মানুষকে নিরাপদ রাখার জন্য কাজ করেছি।

 

তিনি বিভিন্ন দেশের কথা তুলে ধরে বলেন, যে সকল দেশ এমন করেছে তাদের পরিনতি ভালো হয় নাই। সরকারের যদি হুশ না আসে তাহলে আগামী ৩-৬ মাসের মধ্যে অর্থনৈতিক  ধস নামবে।

 

কর্নেল অলি বলেন, ২০০৮ সালে যারা ছিলো তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি মামলা হয়েছে। সরকারি দলের লোকদের মামলা প্রত্যাহার হচ্ছে কিন্তু বিরোধী দলের লোকদের বিরুদ্ধে মামলা হচ্ছে। ক্ষমতার অপব্যবহার করে এ কাজ করা হচ্ছে।

 

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর মিঞা গোলাম পরোয়ার তার বক্তব্যে বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং বর্তমান এই  ফ্যাসীবাদী সরকারের বিরুদ্ধে মুক্তির আন্দোলনে বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলের সঙ্গে ছিল এবং থাকবে। 

 

জামায়াতের এই নেতা বলেন,' শেখ হাসিনার টেলিফোন আলাপ যেটা মিডিয়ায় এসেছে এটা প্রমাণ করে সাবেক প্রধান বিচারপতির বিদায় এবং বাংলাদেশের আদালত অঙ্গনে যা কিছু ঘটে যাচ্ছে এতে প্রমানিত হয়। বেগম জিয়া  আজকে আদালতের কাছে আটকে যায়নি। তিনি মূলত ফ্যাসিবাদের জিঞ্জিরায় আবদ্ধ হয়ে আছেন।

 

তিনি বলেন,'কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে মুক্তির আন্দোলন একই সংগ্রাম। বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদ বর্তমানে ভয়াবহ রূপে আবির্ভূত হয়েছে। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং মধ্যবর্তী নির্বাচন এই ইস্যুতে যে গোলটেবিল আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে আমি মনে করি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি এটা কোন আদালতের বিষয় নয় এটি একটি ধূম্রজাল সৃষ্টি করা হয়েছে।

 

গোলাম পারোয়ার বলেন,'ঐক্যফ্রন্ট বলি আর ২০ দল বলি আমাদের সবাইকেই কৌশলের বিষয়ে স্পষ্ট হতে হবে। জনগণের সাথে আমরা রাজনীতি করি তাদের সেন্টিমেন্ট যদি আমরা না বুঝি সেটাকে মানুষ কোন ভাবেই কৌশল হিসেবে নেয় না।

 

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ডা: জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীকে ১৯৭১ সালে দেশ বিরোধী ভূমিকা পালনের জন্য জনসম্মুখে ক্ষমা চাইতে হবে।

 

তিনি বলেন, ২০ দলের অন্যতম শরীক দল হচ্ছে জামায়াতে ইসলামী। তারা যদি সত্যিকার অর্থে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি চায় তাহলে তাদেরকে জনসম্মুখে ক্ষমা চাইতে হবে। আজ তাদের পিতারা যে ভুল করেছেন তার জন্য বর্তমানে যারা আছে তাদেরকে জনসম্মুখে ক্ষমা চাওয়ার যুক্তি সঙ্গত কারণ হবে। কারন তাদেরও রাজনীতি করার অধিকার রয়েছে। 

 

বেগম খালেদা জিয়াকে আটক রেখে প্রধানমন্ত্রী ভূল করছেন এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন, আপনি(প্রধানমন্ত্রী) মহাভুল করছেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় খালেদা জিয়া তিন মাস আত্মগোপনে ছিলেন। তারপর তিনি যখন গ্রেফতার হন তখন সেনানিবাসে আবদ্ধ ছিলেন। ধানমন্ডির বাড়িতে দুজনেই একসাথে ছিলেন।

 

কিন্তু আজ একজন বন্দি আর একজন বাহিরে। আপনি আত্মরক্ষা করতে চান তাহলে আর দেরি না করে খালেদা জিয়ার জামিনের ব্যবস্থা করে দিন। 

 

প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, আজ আপনি যা স্বপ্ন দেখছেন,সব স্বপ্ন বিভিন্ন ভাবে ভুল পথে নেমে যাচ্ছে। একদিন আপনি বলেছেন দেশে চিকিৎসা নিবেন, কিন্তু আপনি দেশে চিকিৎসা নিতে পারেন নি। কেন পারেন নি? আজ আপনি যেই উন্নয়নের কথা বলছেন, কিন্তু  কৃষক নিজেই ধান পুড়িয়ে ফেলছে।

 

ঐক্যফ্রন্ট সম্পর্কে তিনি বলেন, ৩০ তারিখের নির্বাচন ২৯ তারিখে হওয়াটা ঐক্যফ্রন্টর একটা ব্যর্থতা বলতে পারেন। আর কোন সুযোগ নাই তাই সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।

 

এলডিপির সভাপতি কর্নেল অলি আহমেদের সভাপতিত্বে গোলটেবিল আলোচনা সভায় জামায়াতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির মিয়া মোহাম্মাদ গোলাম পারোয়ার,কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর:(অব:) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীরপ্রতীক, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, এলডিপির মহাসচিব ড: রেদোয়ান আহমেদ,বিএনপি'র ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদ, যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল,বিশেষ সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন,সাবেক এমপি গোলাম মাওলা রনি, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মোহাম্মদ রহমতউল্লাহ, নিলুফার চৌধুরী মনি প্রমুখ বক্তব্য দেন।

 

এসএম

Print