তারল্য সংকটে সরকারি-বেসরকারি ব্যাংক

স্টাফ রিপোর্টার
টাইম নিউজ বিডি,
২০ মে, ২০১৯ ১৬:৪৩:০৮
#

রাষ্ট্রায়াত্ত এবং বেসরকারি খাতের কয়েকটি ব্যাংক তারল্য সংকটে থাকলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দাবি সামগ্রিক আর্থিকখাতে কোনো তারল্য সংকট নেই। ব্যাংকগুলোর নিজেদের ব্যবসায়িক কৌশলের কারণে সাময়িক তারল্য সংকট সৃষ্টি হয় বলেও মনে করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।


কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত দেশের ব্যাংকগুলোতে আমানতের পরিমাণ ১০ লাখ কোটি টাকারও বেশি। যার বিপরীতে ঋণ আছে ১১ লাখ কোটি টাকারও বেশি। ব্যাংকাররা বলছেন, ঋণের আদায় কমে যাওয়া, রপ্তানির তুলনায় আমদানি বেশি হওয়া সহ বেশ কিছু কারণে তারল্য সংকটে পড়েছে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো।


সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজি তৌহিদুল আলম জানান, ‘তারল্য সংকট বছর দেড়-এক আগে থেকেই শুরু হয়েছে এবং এটা এখনও আছে। বড় বড় আমানত সংগ্রহ করতে গিয়ে বেশির ভাগ ব্যাংক রেট নিয়ে প্রতিযোগিতায় নেমে পড়েছে।’


এমন কি দেশের সবচেয়ে বড় রাষ্ট্রায়াত্ব বাণিজ্যিক ব্যাংক সোনালীও তারল্য সংকটে আছে। বড় অঙ্ক আমানতের বিপরীতে ঋণের পরিমাণ কম হলেও কলমানি থেকে ধার করতে হচ্ছে তাদের।


সোনালী ব্যাংক লিমিটেড ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ জানান, ‘এক লক্ষ আট হাজার কোটি টাকা আছে আমাদের আমানত। আমাদের ঋণ আছে ৪৬ হাজার কোটি টাকা। তারল্য সংকটের কারণে আমরা বিভিন্ন ব্যাংকে প্রায় দশ হাজার কোটি টাকা ঋণ করে রেখেছি।’


এদিকে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র বলছেন, সামগ্রিক বিচারে দেশের ব্যাংকিংখাতে কোনো তারল্য সংকট নেই। তবে ভিন্ন মত আছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালকের।


বাংলাদেশ ব্যাংক মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম জানান, ‘ট্রেজারি বন্ড বিক্রি আছে, কল মানি আছে, ঋণের যে অবস্থা এরও তথ্য থেকে দেখা যাচ্ছে যে আমাদের খুব বেশি সংকট রয়েছে।’


বাংলাদেশ ব্যাংক পরিচালক ড. জামালউদ্দিন আহমেদ জানান, ‘তারল্য সংকট সাময়িকভাবে কিছুটা হবেই। কারণ যখন আমানত হার ৬ শতাংশ, ঋণের সুদ হার ৯ শতাংশ। রাষ্ট্রায়াত্ত ব্যাংকগুলো পালন করেছে, বেসরকারি ব্যাংকগুলো করেনি। এটা না করার কারণে এটার একটা অমিল তৈরি হয়েছে।’


ব্যাংকাররা মনে করেন, খেলাপি ঋণ আদায় বাড়ানোসহ আমানত সংগ্রহে সুদের হার নিয়ে ব্যাংকগুলো প্রতিযোগিতা বন্ধ না করা গেলে আর্থিক খাতে স্থিতিশীলতা ধরে রাখা কঠিন হবে।


এসএম

Print