ঈদযাত্রায় ফিটনেসবিহীন লঞ্চ নতুন রূপে

টাইম ডেস্ক
টাইম নিউজ বিডি,
২৩ মে, ২০১৯ ১৭:১৮:২২
#

আসছে ঈদে বেশি যাত্রী ও বাড়তি টাকা আয়ের লক্ষ্যে, চলাচলের অনুপযোগী বেশ কিছু লঞ্চে চলছে নকশা পরিবর্তনের কর্মকাণ্ড। শুধু মেরামত নয়, এসব লঞ্চে চলছে, কেবিন বাড়ানোর তোড়জোড়।


তবে মালিক ও ডকইয়ার্ডের কারিগরদের দাবি, যা কিছু পরিবর্তন তা নিয়ম মেনেই করা হচ্ছে। অবশ্য বিআইডব্লিউটিএ'র দাবি, ফিটনেসবিহীন এসব লঞ্চের রুট পারমিট আটকে দিতে কঠোর অবস্থানে তারা।


সারা বছর খেটে খুটে আর মাত্র কদিন বাদেই, ঈদ উদযাপনে নদীপথে বাড়ি ফিরবেন দক্ষিণ জনপদের প্রায় অর্ধকোটি মানুষ। আর তাই পুরনো লঞ্চগুলো নতুন করে প্রস্তুত করার তড়িঘড়ি ডকইয়ার্ড এলাকাজুড়ে।


বুড়িগঙ্গার দক্ষিণ পাড়ের ৩৩টি ছোটবড় ডকইয়ার্ডের প্রত্যেকটিতেই এখন তুমুল কর্মব্যস্ততা শ্রমিকদের। বিভিন্ন আকৃতির জরাজীর্ণ এসব লঞ্চে হালকা ও ভারী সংস্কার কাজের পাশাপাশি চলছে, কেবিন বাড়ানোর কৌশলও।


একজন লেবার বলেন, লঞ্চের সঙ্গে সঙ্গে কেবিনও বাড়াতে হয়। যাত্রীদের চাপ বেশি থাকায় কেবিনেরও সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে। যদিও ডকইয়ার্ড ও লঞ্চমালিকদের দাবি, নিয়ম মেনেই নকশা পরিবর্তন করা এসব নৌযান মোটেও ফিটনেসবিহীন নয়।


জানা যায়, বুড়িগঙ্গা নদীর দক্ষিণপ্রান্ত দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের শুভাঢ্যা ইউনিয়নের তেলঘাট থেকে মীরেরবাগ পর্যন্ত প্রায় ৩৩টি ডকইয়ার্ড রয়েছে।


বেবি সাবের ডকইয়ার্ড, রহমানের ডকইয়ার্ড, সাত্তার খান ডকইয়ার্ডসহ অধিকাংশ এলাকা ঘুরে জানা গেছে, ঈদ সামনে রেখে অনেক মালিক দুই মাস আগে লঞ্চ ডকইয়ার্ডে ওঠানোর জন্য অগ্রিম টাকা দিয়ে রেখেছেন।


প্রতিটি ডকইয়ার্ডেই বিভিন্ন নৌযান তৈরি, সংস্কার ও রঙের কাজ চলছে। এর মধ্যে ফিটনেসবিহীন ও ভাঙাচোরা লঞ্চ জাহিদ-৩, জামাল-১, রাসেল-৪, প্রিন্স অব আওলাদ, সাব্বির-২, গাজী-৪, এমভি পূবালী, মর্নিংসান-৯, রাজদূত-৭, দুলার চর-১ নামেরসহ ১০-১২টি লঞ্চ মেরামতের কাজ চলছে।


চরকালিগঞ্জ তেলঘাট সংলগ্ন ডকইয়ার্ডে আছে এমভি জাহিদ-৩ নামক লঞ্চটি। এটি ঢাকা-রাঙ্গাবালি রুটে চলাচল করে। লঞ্চটির সাথে আরো রয়েছে জামাল-১, রাসেল-৪, প্রিন্স অব আওলাদ, সাব্বির-২ নামের ৪টি লঞ্চ। সবগুলো লঞ্চই ঈদ উপলক্ষে মেরামত, রঙ করানোর জন্য ডকইয়ার্ডে আনা হয়েছে। জাহিদ-৩ নামক লঞ্চটিতে ১০-১৫ জন শ্রমিক কাজ করতে দেখা যায়।


অনেক স্থানেই ভেঙে গেছে, ঠিক না করা হলে পারমিট দেবে না তাই মেরামতের জন্য ডকইয়ার্ডে এনেছেন। লঞ্চটির ফিটনেস আছে কিনা জানতে চাইলে জাহিদ মেলকার বলেন, ফিটনেস না থাকলে পারমিশন দেয় না। আগের চেয়ে মোটা রড ও লোহা দিয়ে মেরামত করা হচ্ছে।


ঈদের সময় নির্ধারিত ধারণ ক্ষমতার চেয়ে বেশি যাত্রী তোলা হয় এবং বেশি ভাড়া নেয়া হয় কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঢাকা-রাঙ্গাবালি রুটে সরকার কর্তৃক ডেক যাত্রীদের নির্ধারিত ভাড়া চার শ’ পঁচিশ টাকা।


সাত্তার খান নামক ডকইয়ার্ডে মেরামতের জন্য দাঁড়িয়ে থাকা ঢাকা-টরকীগামী লঞ্চ রাজধানী-১, ঢাকা-হুলারহাট-ভাণ্ডারিয়াগামী লঞ্চ মর্নিংসান-৯ ও রাজদূত-৭ লঞ্চটি। মেরামত কাজে নিয়োজিত একজন শ্রমিক জানালেন মর্নিংসান-৯ লঞ্চটির সামনের ফ্যান ফেটে গেছে, রাজদূত-৭ এবং রাজধানী-১ রঙ করানোর জন্য ডকইয়ার্ডে আনা হয়েছে। লঞ্চগুলোর ফিটনেস আছে কিনা তার জানা নেই।


সংস্কারের জন্য দাঁড়িয়ে আছে গাজী-৪, এমভি পূবালী, রাজদূত-৭, দুলার চর-১ নামেরসহ ৬টি লঞ্চ মেরামতের জন্য। এগুলো ঢাকার সদরঘাট থেকে কালাইয়, টর্কি, ভাণ্ডারিয়া, হুলারহাট, বালারবাজার, শরীয়তপুর, অপদাসহ বিভিন্ন রুটে চলাচল করে। এলাকাবাসী বলছে প্রতি বছরই ঈদের আগে লঞ্চগুলো রঙ ও মেরামত করানোর জন্য ডকইয়ার্ডে আনা হয়। এগুলো ফিটনেসবিহীন লক্কড়ঝক্কড় লঞ্চ।


ফারান খান ডকইয়ার্ডে মেরামতের জন্য দাঁড়িয়ে থাকা ফারহান-৩ ঢাকা-বেতুয়া লঞ্চ-এর কেরানি রহিম মিয়া জানান, ফারহান-৩ এর তল প্লেট, ঝালাই, রঙ এবং অন্যান্য মেশিন চেক করার জন্য ডকে উঠানো হয়েছে। এ ছাড়া ঈদের আগে যাত্রীদের আকর্ষণে লঞ্চটি সংস্কার ও রঙ করা হচ্ছে।


লঞ্চমালিক একজন বলেন, যে জাহাজ অকেজো হয়ে যায় সেগুলো চলে কিভাবে? এসব বলে মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য।


৩০ মে থেকে ঈদযাত্রার জন্য ২১৫টি লঞ্চ এবার নৌপথে থাকবে বিআইডব্লিউটিএ'র হিসেবে। এরমধ্যে ডকইয়ার্ডে সংস্কারে থাকা প্রায় ৫০টি লঞ্চ যথাযথ পরীক্ষা নিরীক্ষার পরই নৌপথে নামবে বলে জানায় অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ।


বিআইডব্লিউটিএ'র যুগ্ম পরিচালক আলমগীর কবির বলেন, নৌযানের কাগজপত্র নিয়ে আমাদের ইনস্পেক্টরদের কাছে পারমিশন নিতে যাবে। ফিটনেস না থাকলে এখান পর্যন্ত আসা সম্ভবই না।


ঝড়ের মৌসুমে ঈদের কথা মাথায় রেখেই এবার ফিটনেসবিহীন নৌযান চলাচল বন্ধে বাড়তি তৎপরতার প্রস্তুতি রয়েছে কর্তৃপক্ষের।


এএস


 

Print