ইতিকাফের গুরুত্ব ও ফজিলত

টাইম ডেস্ক
টাইম নিউজ বিডি,
২৫ মে, ২০১৯ ২১:০৮:০৬
#

ফেরেশতাসুলভ গুণাবলি ও মহান রাব্বুল আলামিনের বিশেষ রহমত লাভের যোগ্যতা অর্জনের মাস রমজানুল মোবারকের আজ ১৯ তারিখ।


আর মাত্র এক দিন পর থেকে রমজানের শেষ দশক শুরু হবে। ২০ রমজানের পর থেকে এ মাসের শেষ দিন পর্যন্ত একটি বিশেষ ইবাদত রয়েছে। দিনের ২৪ ঘণ্টাই মসজিদে অবস্থান এবং ইবাদত-বন্দেগিতে কাটানোর এই ইবাদতের নাম ইতিকাফ।


মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রতি বছর রমজানের শেষ দশ দিন ইতিকাফ করতেন। তার ইন্তেকালের পরে উম্মাহাতুল মু’মিনিন এ আমল অব্যাহত রাখেন বলে তিরমিজি শরিফে হজরত আয়েশা সিদ্দিকা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করেছেন।


ইতিকাফের ফজিলত
ইতিকাফের আভিধানিক অর্থ কোনো জিনিস আঁকড়ে ধরা এবং তাতে আবদ্ধ থাকা। সে হিসেবে ইতিকাফ হলো আল্লাহর ইবাদতে মশগুল থাকার উদ্দেশ্যে মসজিদে অবস্থান করা। রমজান মাসে প্রকৃত সাফল্য অর্জনের জন্য বিশেষভাবে যেসব ইবাদতকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হয় ইতিকাফ তার মধ্যে অন্যতম।


রাসুল (সা.) প্রতিবছর রমজানের শেষ ১০ দিন মসজিদে নববিতে ইতিকাফ করেছিলেন। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) হতে বর্ণিত, রাসুল (সা.) ইতিকাফকারী সম্পর্কে বলেছেন: ‘সে গুনাহসমূহ থেকে বেঁচে থাকে এবং তার জন্য নেকিসমূহ লেখা হয় ওই ব্যক্তির ন্যায় যে (বাইরে থেকে) যাবতীয় নেক কাজ করে।’(ইবনে মাজাহ)।


ইতিকাফ মানুষকে দুনিয়ার ঝামেলা ত্যাগ করার শিক্ষা দেয় এবং অল্প সময়ের জন্য হলেও আল্লাহর সঙ্গে তার সম্পর্ক জুড়ে দেয়। এতে মানুষের পক্ষে অন্তিমকালে দুনিয়া ত্যাগ করা সহজ হয় এবং দুনিয়ার মহব্বতের স্থানে আল্লাহর মহব্বত বৃদ্ধি পায়।


ইতিকাফ তিন প্রকার। ওয়াজিব, সুন্নত ও মুস্তাহাব। ১. ইতিকাফ মানত করা হলে তা পূর্ণ করা ওয়াজিব। ২. রমজান মাসের শেষ ১০ দিন ইতিকাফ করা সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ কিফায়াহ। ৩. ওয়াজিব ও সুন্নত ইতিকাফ ছাড়া অপর ইতিকাফকে মুস্তাহাব ও নফল ইতিকাফ বলা হয়। তা স্বল্প সময়ের জন্যও হতে পারে।


ইতিকাফের মাধ্যমে আমরা আংশিকভাবে দুনিয়ার সংশ্লিষ্টতা থেকে মুক্ত হয়ে মসজিদে অবস্থান করি। ফলে আত্মিক উন্নয়ন ও আল্লাহ তাআলার জন্য নিবেদিত হওয়ার এক বিশেষ সুযোগ পাওয়া যায়। আল্লাহর প্রশংসা, ইবাদত ও দোয়া প্রার্থনায় নিজেকে মগ্ন রাখা যায়। ইতিকাফ আমাদের সবকিছু উপেক্ষা করে, অনেক কষ্ট ও ত্যাগ স্বীকার করে সবকিছুর ঊর্ধ্বে উঠে মহান মালিকের সংস্পর্শে একান্তভাবে সময় কাটানোর সুযোগ করে দেয়।


সারা বছর স্বাভাবিকতার মধ্যে মনিবের কথামতো চলার যে স্বাদ, ইতিকাফের মাধ্যমে মালিকের একান্ত সান্নিধ্যেও ভিন্ন ধরনের কিছু স্বাদ আস্বাদন করা যায়। নিরবচ্ছিন্নভাবে শেষ ১০ দিন আল্লাহর ইবাদতে মগ্ন থাকার কারণে বহু আকাঙ্ক্ষিত শবে কদর লাভের সম্ভাবনা নিশ্চিত হয়।


এএস


 

Print