প্রশ্নফাঁস মামলার চার্জশিটে ঢাবির ৮৭ শিক্ষার্থীসহ ১২৫ জন অভিযুক্ত

টাইম ডেস্ক
টাইম নিউজ বিডি,
৩০ মে, ২০১৯ ১৬:৫৮:২৫
#

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশ্নফাঁস মামলার অভিযোগপত্রে ঢাবির ৮৭ শিক্ষার্থীসহ মোট ১২৫ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। দেড় বছরের দীর্ঘ তদন্ত শেষে এই মামলার অভিযোগপত্র (চার্জশিট) প্রস্তুত করেন পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।


এর বাইরে আরও ৭৯ জনের তথ্য যাচাইয়ের কাজ চলছে। নাম-ঠিকানা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধেও সম্পূরক চার্জশিট দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সিআইডির তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।


সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মোল্যা নজরুল ইসলাম জানান, প্রশ্নফাঁস মামলার তদন্ত গুছিয়ে আনা হয়েছে। শিগগিরই আদালতে চার্জশিট জমা দেওয়া হবে। সিআইডির তদন্ত সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, আজ বৃহস্পতিবার (৩০ মে) সিআইডির প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম সংবাদ সম্মেলন করে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানাবেন।


সিআইডির তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, দেশব্যাপী আলোচিত এই ঘটনার শুরু হয় ২০১৭ সালের ১৯ অক্টোবর মধ্যরাতে। সে রাতে একজন গণমাধ্যমকর্মীর দেওয়া কিছু তথ্যের সূত্র ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি আবাসিক হলে অভিযান চালায় সিআইডি। অভিযানে মামুন ও রানা নামে দুই শিক্ষার্থীকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরদিন পরীক্ষার হল থেকে গ্রেফতার করা হয় রাফি নামে ভর্তিচ্ছু একজন শিক্ষার্থীকে। এ ঘটনায় ওই দিনই (২০ অক্টোবর, ২০১৭) শাহবাগ থানায় একটি মামলা করা হয়। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, তাদের তদন্তে উঠে আসে প্রশ্নফাঁস চক্রটি পরীক্ষা শুরুর আগেই প্রিন্টিং প্রেস থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস করতো। ২০১৫ ও ২০১৬ সালে পর দুই বছর ফাঁস করা প্রশ্ন নিয়ে সাভারের পল্লীবিদ্যুৎ এলাকার একটি বাসায় ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের পড়িয়েছিল তারা। চক্রের মাস্টারমাইন্ড ছিল নাটোর জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা রাকিবুল হাসান এছামী, প্রেস কর্মচারী খান বাহাদুর, তার আত্মীয় সাইফুল, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বনি ও মারুফসহ আরও কয়েকজন। সে সময় ধারাবাহিক অভিযানে মূলহোতাসহ মোট ৪৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের মধ্যে একজন ছাড়া বাকি সবাই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।


সিআইডি কর্মকর্তারা জানান, মূলত দুইভাবে প্রশ্নফাঁস চক্রটি কাজ করতো। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন যেই ছাপাখানা থেকে ছাপা হতো, চক্রের সদস্যরা সেই প্রেস থেকে প্রশ্নপত্র সংগ্রহ করতো। এরপর পরীক্ষার আগের রাতে সেসব প্রশ্নের সমাধান বের করে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের মুখস্থ করানো হতো। এছাড়া পরীক্ষা শুরুর কয়েক মিনিট আগে কেন্দ্র থেকে প্রশ্নপত্র নিয়ে দ্রুত তা সমাধান করে ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে পরীক্ষার্থীকে সরবরাহ করা হতো।


যাদের নামে অভিযোগপত্র


যাদের নামে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হচ্ছে তারা হলো ইব্রাহিম, অলিপ কুমার বিশ্বাস, মোস্তফা কামাল, হাফিজুর রহমান, মাসুদ রহমান তাজুল, রিমন হোসেন, মহিউদ্দিন রানা, আইয়ুব আলী বাধন, আবদুল্লাহ আল মামুন, ইশরাক হোসেন রাফি, জাহাঙ্গীর আলম, মামুন মিয়া, অসিম বিশ্বাস, অনোয়ার হোসেন, নুরুল ইসলাম, হাসমত আলী সিকদার, হোসনে আরা বেগম, গোলাম মো. বাবুল, টি এম তানভির হাসনাইন, সুজাউর রহমান সাম্য, রাফসান করিম, আখিনুর রহমান অনিক, নাজমুল হাসান নাঈম, ফারজাদ ছোবহান নাফি, আনিন চৌধুরী, রকিবুল হাসান ইসামী, বনি ইসরাইল, মারুফ হোসেন, সাইফুল ইসলাম, খান বহাদুর, কাজী মিনহাজুল ইসলাম, নাহিদ ইফতেখার, রিফাত হোসেন, বায়েজিদ, ফারদিন আহম্মেদ সাব্বির, তানভির আহম্মেদ মল্লিক, প্রসেনজিত দাস, আজিজুল হাকিম, নাভিদ আনজুম তনয়, সালমান এফ রহমান হৃদয়, সজীব আহাম্মেদ, শিহাব হোসেন খান, এনামুল হক আকাশ, মোশারফ মোসা, মোহায়মেনুল ইসলাম বাঁধন, সাইদুর রহমান, আব্দুর রহমান রমিজ, গোলাম রাব্বী খান জেনিথ, উৎপল বিশ্বাস, বেলাল হোসেন বাপ্পী, মশিউর রহমান সমীর, আবু জুনায়েদ সাকিব, মোস্তাফিজ-উর-রহমান মিজান, আবুল কালাম আজাদ, শরমিলা আক্তার আশা, মাসুদ রানা, জেরিন হোসাইন, শেখ জাহিদ বিন হোসেন ইমন, তাজুল ইসলাম সম্রাট, আবির হাসান হৃদয়, মোর্শেদা আক্তার, সালমান হাবিব আকাশ, আলামিন, শাহ মেহেদী হাসান হৃদয়, অনিকা বৃষ্টি, ফিওনা মহিউদ্দিন মৌমি, সিনথিয়া আহম্মেদ, শাবিরুল ইসলাম সনেট, লাভলুর রহমান লাভলু, ইছাহাক আলী ইছা, আব্দুল ওয়াহিদ মিশন, তানজিনা সুলতানা ইভা, ইশরাত জাহান ছন্দা, আশেক মাহমুদ জয়, নাফিসা তাসনিম বিন্তী, প্রনয় পান্ডে, নুরুল্লাহ নয়ন, জিয়াউল ইসলাম, আশরাফুল ইসলাম আরিফ, জাকিয়া সুলতানা, শাদমান শাহ, সাদিয়া সিগমা, রবিউল ইসলাম রবি, মেহেজাবীন অনন্যা, রাকিবুল হাসান, এম. ফাইজার নাঈম সাগর, সাদিয়া সুলতানা এশা, সামিয়া সুলতানা, ফাতেমা আক্তার তামান্না, নওশীন আফরিন মিথিলা, আমরিন আলম জুটি, সুবহা লিয়ানা তালুকদার, মোহাইমিনুল রায়হান ফারুক, সাফায়েতে নূর সাইয়ারা নোশিন, মাসুদ রানা, ইখতেখার আলম জিসান, রাকিব হাসান, খালিদ হাসান, আজলান শাহ ফাহাদ, সৌভিক সরকার, রিজন আহমদ পাঠান, মাহবুব আলম সিদ্দিকী সম্রাট, হাসিবুর রশিদ, আফসানা নওরিন ঋতু, মারুফ হাসান খান, তৌহিদুল হাসান আকাশ, শাহাদৎ আল ফেরদৌস ফাহিম, আয়েশা আক্তার তামান্না, ফাতেমা তুজ জোহরা মীম, শ্বাষত কুমার ঘোষ শুভ, রাসেল আলী, রাজীবুল ইসলাম রাজীব, আবু মাসুম, জান্নাত সুলতানা, জিএম রাফসান কবির, সাগর সাহা, সাদেকুল ইসলাম সুমন, আব্দুল্লাহ, খাইরুজ্জামান সরকার সুজন, শাহেদ আহমেদ, মুহাইমিনুল ইসলাম মাসুদ, আশরাফুল আলম, হাসিবুর রহমান রুবেল এবং মাকসুদুর রহমান শুভ।


আরও যাদের খুঁজছে সিআইডি


আরও ৭৯ জনের তথ্য যাচাই করছে সিআইডি। তারা হলো কানিজ ফাতেমা, মারুফ হোসাইন সুজন, মিঠুন কর্মকার, ফারজানা আক্তার কলি, মাসুদ পারভেজ, শবনম হুমায়রা স্বপ্না, নাহিদা সুলতানা দীপা, ইমরান হোসাইন রিয়েল, ইশতিয়াক আমম্মেদ ইমন, মীর রাগিব আনিস, শাহরিয়ার সিফাত, আকলিমা আকতার, তানজিল, সজীব, আবিদ, মুরাদ, মেহেদী হাসান, মাহমুদ, ওমর, অনিক, তূর্য, শাওন, সাকলাইন হৃদয়, প্রিন্স, রিদিমা, আকাশ, অর্ঘ, মাইশা, নয়ন, নাসিফ নীল, নিউটন সজিব, ঐশি, সুমাইয়া আফরিন, আজাদ মহমুদ, সুমন, সেন্টু, যুগল, নাহিদ/নয়ন, ইমতিয়াজ, রাজু রাজন, আবদুল্লাহ রয়হান, বন্যা অনন্যা, হাসান, আলতাফ, মনির, পুলক, মাহিন, রাকিবুল হাসান রাব্বী, কামাল, নাহিদ, পার্থ, ইমন, শাহীন, সেরাজুল, কবির, সেফাউল, শিউলি, পারভিন, ইসতিয়াক, ইয়াসিন, হেদায়েত, মামুন, শফিক আহমেদ, নাহিদ, আশরাফল আলম অশ্রু, নেসার উদ্দিন লিমন, আলমগীর, ফারুখ, মিঠুন, আঃ রহিম, জুলফিকার, জুয়েল, নীল মজুমদার, সোহেল, রনি, হাসান, হানিফ, লিংকন, জুলফিকার হাসান, শাকিল, মামুন, প্রিয়নাথ রায়, লিটন, সবুজ, নিউটন, নোমান সিদ্দিকী, রেজাউল, প্রনব, সোহাগ এবং মিরাজ।


জেড

Print