এ কে খন্দকারের বই প্রত্যাহার করলো 'প্রথমা প্রকাশন'

টাইম ডেস্ক
টাইম নিউজ বিডি,
০৩ জুন, ২০১৯ ১৫:০৬:৪৮
#

নিজের লেখা ‘১৯৭১ : ভেতরে বাইরে’ বইতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ নিয়ে ভুল তথ্যের জন্য এ কে খন্দকার ক্ষমা চাওয়ার একদিন পর বইটি বাজার থেকে তুলে নিয়েছে প্রথমা প্রকাশন।


রোববার (২ জুন) প্রথমা প্রকাশনের ব্যবস্থাপক জাফর আহমদ রাশেদ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বইটি প্রত্যাহারের কথা জানানো হয়েছে। তবে লেখকের চাওয়া মেনে বইটি প্রত্যাহারের কথা জানালেও তার অভিযোগের বিষয়ে কিছু বলেনি প্রথমা প্রকাশন।


এ কে খন্দকারের অভিযোগ, বইটি প্রকাশের পর ভুল সংশোধনের অনুরোধ করলেও তখন সাড়া দেয়নি প্রথমা প্রকাশন।


মুক্তিবাহিনীর উপ-অধিনায়ক এ কে খন্দকার ২০১৪ সালে প্রথমা থেকে প্রকাশিত বইটিতে লিখেছিলেন, বঙ্গবন্ধু তার ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণটি শেষ করেছিলেন ‘জয় পাকিস্তান’ বলে। বইটি প্রকাশের পর সমালোচনার মুখে পড়লেও দীর্ঘদিন নীরব ছিলেন তিনি।


অবশেষে সাড়ে চার বছরের নীরবতা ভেঙে শনিবার (১ জুন) এক সংবাদ সম্মেলনে এসে নিজের লেখা বইয়ে ভুল তথ্য দেয়ার জন্য ক্ষমা চেয়ে তিনি বলেন, ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণে বঙ্গবন্ধু ‘জয় পাকিস্তান’ বলেননি।


প্রথমা প্রকাশন বইয়ের ৩২ পৃষ্ঠার বিতর্কিত অংশটুকু বাদ দিয়ে পুনঃমুদ্রণ করবে বলে আশা প্রকাশ করেন মুক্তিযুদ্ধের এই উপ-অধিনায়ক।


ওই সংবাদ সম্মেলনের কথা উল্লেখ করে প্রথমা প্রকাশনের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘সেখানে তিনি বলেছেন, এই বইয়ের একটি অনুচ্ছেদে বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ সম্পর্কে তিনি একটি ভুল তথ্য পরিবেশন করেছেন। সে ভুল তথ্যসহ পুরো অনুচ্ছেদটি তিনি বইটি থেকে প্রত্যাহার করে নিতে চান।’


‘১৯৭১ : ভেতরে বাইরে’ বইয়ের লেখক এ কে খন্দকার। তার বইয়ের যে কোনো অংশ গ্রহণ-বর্জন- পরিমার্জনের পূর্ণ অধিকার তার আছে। লেখকের ইচ্ছার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আমরা বইটি বাজার থেকে প্রত্যাহার করে নিয়েছি।’


শনিবারের সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এ কে খন্দকার বলেন, ‘আমার লেখা বই ‘১৯৭১ ভেতরে বাইরে’ ২০১৪ সালের আগস্টে ‘প্রথমা প্রকাশনী’ থেকে প্রকাশিত হয়। প্রকাশনার পর বইটির ৩২ নম্বর পৃষ্ঠায় উল্লেখিত বিশেষ অংশ ও বইয়ের আরও কিছু অংশ নিয়ে সারাদেশে প্রতিবাদ ওঠে। বইটির ৩২ নম্বর পৃষ্ঠায় উল্লেখিত বিশেষ অংশটি হলো- ‘বঙ্গবন্ধুর এই ভাষণেই যে মুক্তিযুদ্ধ আরম্ভ হয়েছিল, তা আমি মনে করি না। এই ভাষণের শেষ শব্দগুলো ছিল ‘জয় বাংলা, জয় পাকিস্তান’। তিনি যুদ্ধের ডাক দিয়ে বললেন, ‘জয় পাকিস্তান’।’


তিনি বলেন, ‘এই অংশটুকুর জন্য দেশপ্রেমিক অনেকেই কষ্ট পেয়েছেন বলে আমি বিশ্বাস করি। এই তথ্যটুকু যেভাবেই আমার বইতে আসুক না কেন, এই অসত্য তথ্যের দায়ভার আমার এবং বঙ্গবন্ধুর ৭ মাচের্র ভাষণে কখনোই ‘জয় পাকিস্তান’ শব্দ দুটি বলেননি। আমি তাই আমার বইয়ের ৩২ নম্বর পৃষ্ঠার উল্লেখিত বিশেষ অংশ সম্বলিত পুরো অনুচ্ছেদটুকু প্রত্যাহার করে নিচ্ছি এবং একই সঙ্গে আমি জাতির কাছে ও বঙ্গবন্ধুর বিদেহী আত্মার কাছে ক্ষমা চাচ্ছি।’


সংবাদ সম্মেলনে তার স্ত্রী ফরিদা খন্দকার বলেছিলেন, ‘বইটি প্রকাশের পরের দিনই ও (এ কে খন্দকার) এবং আমি সংশোধন করার কথা ভাবি। কিন্তু উনারাই আমাদের তা করতে দেয়নি। বরং তারা বলেছেন, বন্দুকের গুলি একবার ছুড়লে আর তার পিছনে ছুটে লাভ কী!’


‘এরপর প্রথমা প্রকাশনের প্রকাশক মতিউর রহমানকেও আমি ফোনে চেষ্টা করি, কিন্তু পাইনি। একবার পেয়ে বলি যে, এত বড় ভুল কীভাবে হল? তখন তিনি বললেন, ‘এটা তো আমি দেখি না। এর বানান, ব্যাকরণগত ভুল এগুলো দেখার জন্য আলাদা লোক আছে’। এরপর আর তাকে পাইনি, আর সংশোধনও করতে পারিনি।’


জেড

Print