‘ফেবারিট’ ইংলিশদের হারিয়ে দিলো পাকিস্তান

স্পোর্টস ডেস্ক
টাইম নিউজ বিডি,
০৪ জুন, ২০১৯ ১৪:৩৯:২১
#

বিশ্বকাপের মঞ্চে যে কোনও মুহূর্তে ঘুরে যেতে পারে দলগুলো তারই প্রমাণ মিলল। একেই বলা হয় ঘুরে দাঁড়ানো। নিজেদের প্রথম ম্যাচে যে দলটি টেনেটুনে ১০০ রানের গণ্ডি পার করেছিল সেই দলই দ্বিতীয় ম্যাচে চলতি আসরের এক নম্বর ফেবারিট দলের বিপক্ষে ৩৪৮ রানের সংগ্রহ করেছে।


টানা ১০ আন্তর্জাতিক ও একটি প্রস্ততি ম্যাচে হারের পর স্বস্তির জয় পাকিস্তান শিবিরে। দেশটির সাবেক ক্রিকেটারা যখন সরফরাজ আহমেদ নেতৃত্বাধীন দলটিকে নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় তুলছিল ঠিক তখনই মাঠে নেমে সেই জবাব দিল দলটি। 


সোমবার রানপ্রসবা ট্রেন্টব্রিজে দুই দুইটি সেঞ্চুরিও স্বাগতিকদের জয় এনে দিতে পারল না। 


ম্যাচের শেষ ওভারে প্রয়োজন ছিল ২৫ রান। হাতে ছিল দুটি উইকেট। কিন্তু ৫০ ওভারে ৩৪৮ রানই তুলতে সক্ষম হয় ইংল্যান্ড। শেষ পর্যন্ত ১৪ রানে ম্যাচ জিতে নিলো পাকিস্তান।


এদিন টস জিতে প্রথমে পাকিস্তানকে ব্যাট করতে পাঠিয়েছিলেন এইয়ন মরগ্যান। শুরু থেকেই ধিরে চল নীতি নিয়ে ব্যাট করতে শুরু করেছিলেন দুই ওপেনার ইমাম-উল-হক ও ফখর জামান। যথাক্রমে ৪৪ ও ৩৬ রান করে ফিরে যান। দলের ধরেন হাল ধরেন তিন ও চার নম্বরে খেলতে নামা বাবর আজম ও মোহম্মদ হাফিজ। বাবর আউট হলেন ৬৩ রানে। হাফিজের ব্যাট থেকে আসে ৬২ বলে ৮৪ রানের ইনিংস।


পাঁচ নম্বরে ব্যাট করতে নেমে অধিনায়ক সরফরাজ খেলেন ৪৪ বলে ৫৫ রানের ইনিংস।  নিচের দিকে কেউ বড় রান না পেলেও প্রায় সাড়ে ৩০০ রানের কাছাকাছি পৌঁছে যায় মিকি আর্থারের শিষ্যরা। 


৫০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে পাকিস্তান থামে ৩৪৮ রানে। ইংল্যান্ডের হয়ে তিনটি করে উইকেট নেন ক্রিস ওকস ও মঈন আলি। দুই উইকেট তুলেন মার্ক উড।


শুরুতেই ৩৪৯ রানের বিশাল রানের পাহাড়ে চাপা পড়ে ইংলিশরা।  জেসন রয় তৃতীয় ওভারেই মাত্র আট রান করে ফিরে যা‌ন। আর এক ওপেনার জনি বেয়ারস্টো ৩২ রান করে মাঠ ছাড়েন। 


পাকিস্তানের জয় যতটা সহজ হবে মনে করা হচ্ছিল সেই ধারনাটা পাল্টে দেন তিন নম্বরে নামা জো রুট। ১০৪ বলে ১০৭ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলেন মাঠ ছাড়েন এই টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান। ইনিংসে ১০টি চার ও একটি ছক্কাও হাঁকান রুট।


অধিনায়ক মরগ্যান ৯ ও বেন স্টোকস ১৩ রান করে ফিরে যান। এর পর রুটের সঙ্গে দলের হাল সামলান জস বাটলার। ৭৬ বলে ১০৩ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন এই উইকেট-রক্ষক ব্যাটসম্যান। এবারের বিশ্বকাপে প্রথম সেঞ্চুরিটির মালিকও বনে যান বাটলার। 


যদিও শেষ বেলায় ছন্দে ফিরে পাকিস্তান। তিন উইকেট তুলে নিলেন ওয়াহাব রিয়াজ।  দুটি করে উইকেট তুলে নেন শাদাব খান ও মোহাম্মদ আমিরের। একটি করে উইকেট মোহম্মদ হাফিজ ও শোয়েব মালিকের।


৮৪ রান ও দুটি উইকেট আদায় করে ম্যাচ সেরা হয়েছেন হাফিজ।


এমআর

Print