৫ দিনের টার্গেটে ছিল রাজধানীর অধিকাংশ বুথ

টাইম ডেস্ক
টাইম নিউজ বিডি,
০৬ জুন, ২০১৯ ২১:৩২:৩১
#

ইউক্রেন থেকে আসা আন্তর্জাতিক জালিয়াত চক্রের হাতে সময় ছিল পাঁচদিন। এই সময়ের মধ্যে ঈদ উপলক্ষে রাজধানীর বেশিরভাগ এটিএম বুথে ভরা টাকা হাতিয়ে নেওয়াই ছিল তাদের টার্গেট।


কেননা ইউক্রেনের এ প্রতারকদের বাংলাদেশি ভিসার মেয়াদ ছিল আটদিন। ডিবি ও সিআইডি তথ্য বলছে, তারা ৩০ মে আটদিনের টুরিস্ট ভিসা নিয়ে বাংলাদেশের সীমানায় প্রবেশ করেন। একদিন পরে প্রথম পরীক্ষামূলক অপারেশন চালান ১ জুন।


ডিবি পুলিশ বলছে, তাদের কাছে ৩০টি বিভিন্ন স্পেশাল ব্যাংক কার্ড ছিল। যেগুলো এমনভাবে তৈরি করা যাতে কোনো এটিএম বুথে ঢোকালেই সব টাকা বের হয়ে আসে। তাছাড়া চক্রটি এক মিনিটের মধ্যে বুথের মেশিন নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিতে পারে। এজন্য তারা রোমিং করা সিম ব্যবহার করেন। তাই ওই বুথ থেকে টাকা তোলার তথ্য কেন্দ্রীয় সিস্টেমে পৌঁছায় না। ফলে নির্দিষ্ট বুথে যত টাকা থাকবে ধাপে ধাপে সব টাকা তুলে নিতে পারে এই ডিজিটাল জালিয়াত চক্রটি।


তবে এতে কোনো গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা কমে যাবে না। ব্যাংকের মোট হিসাব থেকে টাকা উধাও হয়ে যাবে।


টাকা উত্তোলনের প্রক্রিয়া সম্পর্কে ডিবি সূত্র আরো বলছে, জালিয়াত চক্রের এ সদস্যরা প্রথমে টার্গেট করে ব্যাংকের বুথে ম্যালওয়ার ঢুকিয়ে দেন। এতে ব্যাংকের কেন্দ্রীয় সার্ভার থেকে ভেরিফিকেশন বন্ধ হয়ে যায়। এতে কোনো রেকর্ড ছাড়াই বিশেষায়িত কার্ড ব্যবহার করে টাকা তুলে নিতে সক্ষম হয় তারা। আর যে প্রক্রিয়ায় তারা এই অর্থ তোলেন, তাকে বলা হয় 'ফাস্টক্যাশ ক্যাম্পেইন’।


মামলার তদন্তকারী সংস্থা ডিবি ও সার্বিক বিষয় দেখার দায়িত্বে থাকা সিআইডি বলছে, এটিএম বুথে জালিয়াতিতে এই যে চক্রটি কাজ করছে, তাদের নেপথ্যে ছিল উত্তর কোরিয়ার একটি হ্যাকার গ্রুপ, যারা বিশ্বব্যাপী 'হিডেনকোবরা' নামে পরিচিত। চক্রটির এবারের টার্গেট ছিল দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো। বাংলাদেশে প্রতারণা শেষে তারা ভারত ও পরে শ্রীলঙ্কার ব্যাংক বুথে হানা দিতেন।


এ বিষয়ে সিআইডির উচ্চপদস্থ এক কর্মকর্তা জানান, ব্যাংকিং সেক্টর এমন একটি জালিয়াতি চক্রের শিকার হতে পারে বলে সম্প্রতি মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই বাংলাদেশকে আগাম সতর্ক করেছিল। সে বিষয়টি মাথায় রেখে চোখ কান খোলা রেখেছিল সিআইডি। বিষয়টি জানানো হয়েছিল ব্যাংক মালিক কর্মকর্তাদের। কিন্তু পূর্ণ রক্ষা সম্ভব হয়নি।


জানতে চাইলে মামলাটির তদন্ত সংস্থার প্রধান, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) আব্দুল বাতেন বলেন, চক্রটিকে প্রথমেই আমরা গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছি। গ্রেফতারের পর তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছি। গ্রেফতার করতে না পারলে তারা অনেক ক্ষতি করে পালাতো।


একই বিষয়ে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মোল্লা নজরুল ইসলাম বলেন, গোয়েন্দা সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আগে থেকেই আমরা সতর্ক ছিলাম। তবে তাদের কৌশলটি ভিন্ন ছিল। এরই মধ্যে চক্র সম্পর্কে আমরা অনেক কিছু জানতে পেরেছি। কোন হ্যাকিং গ্রুপ, তারা কি পরিকল্পনা করেছিল, দেশের কেউ জড়িত আছে কিনা- সব কিছু খতিয়ে দেখা হচ্ছে।


এর আগে ১ জুন ডাচ বাংলা ব্যাংকের অটোমেটেড টেলার মেশিনের (এটিএম) বুথ থেকে তিন লাখ টাকা চুরি করে তুলে নেওয়ার অভিযোগে ইউক্রেনের ছয় নাগরিককে গ্রেফতার করে পুলিশ।


গ্রেফতারকৃতরা হলেন- ভালেনতিন সোকোলোভস্কি (৩৭), শেভচুক আলেগ (৪৬), দেনিস ভিতোমস্কি (২০), নাজারি ভজনোক (১৯), সের্গেই উইক্রাইনেৎস (৩৩) ও ভালোদিমির ত্রিশেনস্কি (৩৭)। তবে এ চক্রের একজন এখনও পলাতক।


এসএম

Print