হংকংয়ে প্রত্যর্পণ বিলের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ তুঙ্গে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
টাইম নিউজ বিডি,
১২ জুন, ২০১৯ ১৫:৫৬:৩৮
#

বিতর্কিত প্রত্যর্পণ বিল নিয়ে হংকংয়ে চলমান বিক্ষোভ আরো জোরদার হয়েছে। স্বায়ত্তশাসিত এ অঞ্চলের লাখো সাধারণ নাগরিক গতকাল মঙ্গলবার সারা রাত পার্লামেন্ট ভবনের বাইরে অবস্থান নেন। আজ বুধবার পার্লামেন্টে বিলটি নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।


বিক্ষুব্ধ জনতা বিভিন্ন সরকারি ভবনের আশপাশের রাস্তায় অবস্থান নিয়ে ভবনগুলোতে প্রবেশের পথ বন্ধ করে রেখেছে।


বিতর্কিত এই প্রত্যর্পণ বিলের মাধ্যমে হংকংয়ের সন্দেহভাজন অপরাধীদের বিচারের জন্য চীনের মূল ভূখণ্ডে পাঠানোর অনুমোদন দেয়া হবে। ফলে এ নিয়ে দেশের অভ্যন্তরে উত্তেজনা বিরাজ করছে।


বুধবার সকালে মাস্ক এবং হেলমেট পরে বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন সরকারি ভবনের সামনের রাস্তা ব্লক করে বিক্ষোভ শুরু করে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আইন পরিষদে এই বিল নিয়ে বিতর্ক অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো।


সমালোচনাকারী বলছেন, বিলটি পাস হলে চীনের দীর্ঘদিনের ত্রুটিপূর্ণ বিচার ব্যবস্থা প্রকাশ পাবে। এমনকি শহরের বিচারিক স্বাধীনতাও আর থাকবে না।


কিন্তু বিলের পক্ষে যারা সমর্থন জানিয়েছেন তারা বলছেন, এই আইনটি রাজনৈতিকভাবে ব্যবহারের ক্ষেত্রে সুরক্ষা রাখা হয়েছে। চীনের মূল ভূখণ্ড থেকে ধর্মীয় বা রাজনৈতিকভাবে নিপীড়নের মুখোমুখি হওয়া যে কাউকে রক্ষার জন্য এই আইনে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।


এদিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং বিক্ষোভকারীদের ঠেকাতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে পুলিশ। যেকোন সময় সংঘর্ষ বাধতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।


তবে ব্যাপক গণআন্দোলনের মধ্যেই সোমবার অঞ্চলটির শাসক বেইজিংপন্থী হিসেবে পরিচিত ক্যারি ল্যাম সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, কোন সমালোচনার মুখে পড়ে তিনি এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসবেন না।


আগামী ২০ জুন এই বিলের ব্যাপারে চূড়ান্ত ভোট অনুষ্ঠিত হবে এবং ধারণা করা হচ্ছে সেখানেই বিলটি পাস হতে পারে।


মূলত চীন ও তাইওয়ানে অপরাধী প্রত্যর্পণ সংক্রান্ত প্রস্তাবিত একটি বিলের বিপক্ষে এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তবে বিক্ষোভকারীদের মূল ক্ষোভ চীনের সঙ্গে এ ধরনের সমঝোতা নিয়ে। বেইজিংয়ের দুর্বল আইন এবং মানবাধিকার রেকর্ডের কারণে সেখানে কাউকে ফেরত পাঠানো নিরাপদ মনে করছেন না হংকংয়ের সাধারণ মানুষ। সূত্র: রয়টার্স


এএস

Print